পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন।
দলের ভেতরে চলমান সংকটের মধ্যেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে দেখা যাওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এর পরপরই তৃণমূলের একাধিক নেতা তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন।
মহুয়ার তীব্র আক্রমণ
মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাদের জানিয়েছিলেন যে তিনি পেটের সমস্যার কারণে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু পরে তাঁকে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে দেখা যায়।

এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মহুয়া কটাক্ষ করে বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মুখোশ ও পরচুলা দুটোই খুলে গেছে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে সুদীপের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখন আর কোনো বিভ্রান্তি থাকার কথা নয়।
কুণাল ঘোষেরও সমালোচনা
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন, কিন্তু তার প্রতিদান হিসেবে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কুণাল আরও বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে দল পরিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে এবং অতীতেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছিল।
বৈঠক ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তৃণমূলের একটি অংশ সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে।
দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। লোকসভায় তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদ পৃথক অবস্থান নেওয়ার পক্ষে একজোট হয়েছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন
বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্ব সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় কুণাল ঘোষকে।
এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দলের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভাঙনের জল্পনা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















