বিশ্বকাপের মঞ্চে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ সমতা এনে ইতিহাস গড়েছে কাতার। এই ড্রয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জন করেছে উপসাগরীয় দেশটি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে কাতার শিবিরে শুরু হয় উচ্ছ্বাসের উদ্যাপন।
শেষ মুহূর্তে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
ম্যাচের অধিকাংশ সময় পিছিয়ে থাকা কাতার যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সমতাসূচক গোল পায়। বাম দিক থেকে হোমাম আহমেদের ভাসানো ক্রসে অধিনায়ক বুয়ালেম খুখি হেড নেন। বলটি সুইস ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে পড়ে। তাতেই ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই গোলের আগে পুরো ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ড ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। তারা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতারই মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।

সুইস আধিপত্য, কিন্তু গোলের অভাব
ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ২৬টি শট নেয়, যেখানে কাতারের ছিল মাত্র সাতটি। প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটে রেমো ফ্রয়েলারকে ফাউল করেন কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। ভিডিও সহায়তায় সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো।
এরপরও সুইজারল্যান্ড বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি তারা।
কাতারের দৃঢ় প্রতিরোধ
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার পুরো ম্যাচে রক্ষণভাগকে শক্তভাবে সাজিয়ে খেলে। দলের অন্যতম ভরসা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় আক্রম আফিফকে সুইসরা বেশিরভাগ সময় আটকে রাখলেও তিনি কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তোলেন। দ্বিতীয়ার্ধে কাতার ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নেয়।

গ্রুপে জমে উঠেছে লড়াই
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপের চারটি দলই এখন সমান এক পয়েন্ট করে অর্জন করেছে। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠবে।
কাতার তাদের পরের ম্যাচে কানাডার মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে দুই দলের জন্যই সেই ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল কাতার
বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণে কোনো জয় বা পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিতে হয়েছিল কাতারকে। এবার প্রথম পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস লিখেছে দলটি। শেষ মুহূর্তের এই ড্র শুধু একটি পয়েন্টই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতারও প্রমাণ হিসেবে দেখছে কাতার।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















