পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বারাসাত কেন্দ্রকে ঘিরে বিতর্ক। বিদ্রোহী অবস্থানে থাকা তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতার কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বৈদ্যনাথকে নিয়ে বিভিন্ন নেতা যে মন্তব্য করেছেন তা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
টিকিট চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার
পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, তিনি কখনও বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ার জন্য দলের কাছে টিকিট চাননি। তার বক্তব্য, তাকে ঘিরে যে প্রচার চালানো হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাই বরং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বারাসাত কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। একাধিকবার তাকে এ বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভ
বিতর্কের সূত্রপাত হয় তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। বৈদ্যনাথের দাবি, তার মা কাকলি ঘোষ দস্তিদার তার জন্য বিধায়ক পদে মনোনয়ন চাইছিলেন—এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা উচিত। ব্যক্তিগত ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা অনুচিত।
নোটিশে কী বলা হয়েছে
আইনি নোটিশে বৈদ্যনাথের শিক্ষা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে যেন তিনি রাজনৈতিক মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে তার মা দলের ভেতরে বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন।
নোটিশে এসব দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
১৫ দিনের আলটিমেটাম
নোটিশে বলা হয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং প্রকাশ্যে অবস্থান পরিষ্কার না করেন, তাহলে বৈদ্যনাথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূলে চাপ বাড়ছে
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে মতবিরোধ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ঘিরে যে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ছেলের আইনি পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
তবে নোটিশ পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য কোনো তৃণমূল নেতা এখনও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাননি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















