১২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
স্ট্যাফোর্ডে উন্মোচিত অনন্য ‘মিহরাব’: ঐতিহ্য, শিল্প ও কমিউনিটির মিলনে গড়া এক স্থায়ী পরিচয় আগুনের উপর খালি পায়ে হাঁটা! মানবতার জন্য সাহসী উদ্যোগে মুগ্ধ জনতা ওল্ড বেইলিতে বিস্ফোরক মামলায় তরুণের অস্বীকার: কলেজে বোমা হামলার হুমকি ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ইরান হামলার পর বদলে গেল যুদ্ধের হিসাব: তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাতের নতুন সমীকরণ নেব্রাস্কার ভোটের ময়দানে উদীয়মান স্বাধীন নেতা: শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরের প্রতীক ড্যান ওসবর্ন ইলিনয়সের প্রগতি যোদ্ধারা: ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নতুন যুগের সূচনা ইরানে বিপ্লব থেকে বংশপরিচয়ে শাসন: মোজতবা খামেনির ক্ষমতা অর্জন কি বিপর্যয়ের সূচনা? সোনার স্বর্ণযুগ ধুঁকছে: যুদ্ধের ছায়ায় হারাচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের খ্যাতি চীনা পণ্যের কৌশলী রপ্তানি বৃদ্ধি, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহ বাড়ছে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত: চলতি মাসেই ইউএইকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে ইসলামাবাদ

ভারতের তেল শোধনাগারে মার্জিন সংকট: গালফ যুদ্ধ ও সরকারি নীতির জটিলতায় তেলের সরবরাহ বিপর্যয়ে

ভারতের তেল শিল্পের লাভের মার্জিন এখন সংকটাপন্ন অবস্থায়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ভূ‑রাজনৈতিক সুবিধা ব্যবহার করে ভারতের শোধনাগারগুলো সস্তা কাঁচা তেল সংগ্রহ করে বিপুল মুনাফা করলেও, গালফ যুদ্ধ এবং সরকারের স্থিরমূল্য নীতি সেই সুবিধাকে এখন বাধার মুখে ফেলেছে। চার বছরের মুনাফার সূত্র এখন ভারতীয় তেল শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সমুদ্রপথে সংকট: হরমুজ প্রণালী বন্ধ

পারস্য উপসাগর এবং ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর আগে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করত, যার মধ্যে ইরাক, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল প্রধান উৎস। কিন্তু এখন সেই সরবরাহের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। কেবল কিছু ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এলপি‑জি বহন করে পার হয়েছে, কিন্তু কোটি কোটি ব্যারেল কাঁচা তেল এখন উপসাগরের পাশে আটকে আছে এবং ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাতে পারছে না।

India's oil refiners are feeling the squeeze from the Gulf war

রাশিয়ার প্রতি পুনরায় নির্ভরশীলতা

ঘাটতি পূরণের জন্য ভারত আবারও রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকেছে। গত বছর আমেরিকার বাড়তি শুল্ক আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল আমদানি কমানো হয়েছিল। রাশিয়ার শেয়ার একসময় ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ফেব্রুয়ারিতে ২৫ শতাংশে নেমে গিয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত তেল কিনেছে, যা প্রণালীর ঘাটতির কিছুটা পূরণ করছে।

বিকল্প উৎস ও শোধনাগারের কৌশল

বহু শোধনাগার কম মানের, উচ্চ সালফারযুক্ত তেল প্রক্রিয়াকরণের মতো কৌশল ব্যবহার করছে। রিলায়েন্স ফার্মার ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করার জন্য আমেরিকা থেকে লাইসেন্স পেয়েছে। অন্যান্য শোধনাগারও এই পথে এগোচ্ছে। তবু মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের যোগান প্রতিস্থাপিত হয়নি, ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ঘাটতি পূরণের জন্য বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বল্প মেয়াদে তেলের অভাব কমাচ্ছে।

India's Oil Refiners Likely To Diversify Via Gulf Route - Key Details |  Republic World

লাভের মার্জিনে চাপ ও বাজারের প্রতিক্রিয়া

এই পরিস্থিতি ভারতের তেল শোধনাগারের লাভের মার্জিনে চাপ সৃষ্টি করছে। রিলায়েন্সকে বাদ দিয়ে অন্যান্য শেয়ার মূল্য নিম্নমুখী। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অস্থিতিশীলতা যত দীর্ঘ স্থায়ী হবে, শিল্পের আয় বার্ষিক ১২-১৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। রাশিয়ার তেলের জন্য ভারতকে এখন প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে, যেখানে আগে ছাড়ে তেল পাওয়া যেত। এদিকে চীন ও অন্যান্য এশীয় দেশও রাশিয়ার তেলের বাজারে প্রবেশ করছে, ফলে ভারতের প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।

সরকারি নীতি ও রপ্তানির সীমাবদ্ধতা

ভারতের সরকার ২০২২ সালে স্থানীয় জ্বালানির দাম স্থির করে রেখেছিল, যা তখন শোধনাগার ও রাষ্ট্রের জন্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন কাঁচা তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরও দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রপ্তানি ক্ষেত্রেও শোধনাগার বড় কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ সংকটে সরকার বিদেশে বিক্রি অনুমোদন দিচ্ছে না। ২৭ মার্চ সরকার ডিজেল ও জেট ফুয়েলের রপ্তানিতে অতিরিক্ত কর আরোপ করে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য কর কমিয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, ভারতের তেল শিল্প এখন হরমুজ প্রণালী ও সরকারী নীতির মাঝে সীমাবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ট্যাফোর্ডে উন্মোচিত অনন্য ‘মিহরাব’: ঐতিহ্য, শিল্প ও কমিউনিটির মিলনে গড়া এক স্থায়ী পরিচয়

ভারতের তেল শোধনাগারে মার্জিন সংকট: গালফ যুদ্ধ ও সরকারি নীতির জটিলতায় তেলের সরবরাহ বিপর্যয়ে

১০:৪৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের তেল শিল্পের লাভের মার্জিন এখন সংকটাপন্ন অবস্থায়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ভূ‑রাজনৈতিক সুবিধা ব্যবহার করে ভারতের শোধনাগারগুলো সস্তা কাঁচা তেল সংগ্রহ করে বিপুল মুনাফা করলেও, গালফ যুদ্ধ এবং সরকারের স্থিরমূল্য নীতি সেই সুবিধাকে এখন বাধার মুখে ফেলেছে। চার বছরের মুনাফার সূত্র এখন ভারতীয় তেল শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সমুদ্রপথে সংকট: হরমুজ প্রণালী বন্ধ

পারস্য উপসাগর এবং ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর আগে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করত, যার মধ্যে ইরাক, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল প্রধান উৎস। কিন্তু এখন সেই সরবরাহের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। কেবল কিছু ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এলপি‑জি বহন করে পার হয়েছে, কিন্তু কোটি কোটি ব্যারেল কাঁচা তেল এখন উপসাগরের পাশে আটকে আছে এবং ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাতে পারছে না।

India's oil refiners are feeling the squeeze from the Gulf war

রাশিয়ার প্রতি পুনরায় নির্ভরশীলতা

ঘাটতি পূরণের জন্য ভারত আবারও রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকেছে। গত বছর আমেরিকার বাড়তি শুল্ক আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল আমদানি কমানো হয়েছিল। রাশিয়ার শেয়ার একসময় ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ফেব্রুয়ারিতে ২৫ শতাংশে নেমে গিয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত তেল কিনেছে, যা প্রণালীর ঘাটতির কিছুটা পূরণ করছে।

বিকল্প উৎস ও শোধনাগারের কৌশল

বহু শোধনাগার কম মানের, উচ্চ সালফারযুক্ত তেল প্রক্রিয়াকরণের মতো কৌশল ব্যবহার করছে। রিলায়েন্স ফার্মার ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করার জন্য আমেরিকা থেকে লাইসেন্স পেয়েছে। অন্যান্য শোধনাগারও এই পথে এগোচ্ছে। তবু মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের যোগান প্রতিস্থাপিত হয়নি, ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ঘাটতি পূরণের জন্য বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বল্প মেয়াদে তেলের অভাব কমাচ্ছে।

India's Oil Refiners Likely To Diversify Via Gulf Route - Key Details |  Republic World

লাভের মার্জিনে চাপ ও বাজারের প্রতিক্রিয়া

এই পরিস্থিতি ভারতের তেল শোধনাগারের লাভের মার্জিনে চাপ সৃষ্টি করছে। রিলায়েন্সকে বাদ দিয়ে অন্যান্য শেয়ার মূল্য নিম্নমুখী। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অস্থিতিশীলতা যত দীর্ঘ স্থায়ী হবে, শিল্পের আয় বার্ষিক ১২-১৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। রাশিয়ার তেলের জন্য ভারতকে এখন প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে, যেখানে আগে ছাড়ে তেল পাওয়া যেত। এদিকে চীন ও অন্যান্য এশীয় দেশও রাশিয়ার তেলের বাজারে প্রবেশ করছে, ফলে ভারতের প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।

সরকারি নীতি ও রপ্তানির সীমাবদ্ধতা

ভারতের সরকার ২০২২ সালে স্থানীয় জ্বালানির দাম স্থির করে রেখেছিল, যা তখন শোধনাগার ও রাষ্ট্রের জন্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন কাঁচা তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরও দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রপ্তানি ক্ষেত্রেও শোধনাগার বড় কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ সংকটে সরকার বিদেশে বিক্রি অনুমোদন দিচ্ছে না। ২৭ মার্চ সরকার ডিজেল ও জেট ফুয়েলের রপ্তানিতে অতিরিক্ত কর আরোপ করে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য কর কমিয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, ভারতের তেল শিল্প এখন হরমুজ প্রণালী ও সরকারী নীতির মাঝে সীমাবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।