মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী ফিশ অ্যান্ড চিপস শিল্পের উপর বিপুল চাপ পড়েছে। স্কটল্যান্ডের পিটারহেড বন্দরের জেলে পিটার ব্রুস জানালেন, পূর্বে নর্থ সি থেকে হ্যাডক ও কোড মাছ আহরণের জন্য প্রতি যাত্রায় প্রায় ৫,০০০ পাউন্ড খরচ হতো, যা এখন বেড়ে প্রায় ১০,০০০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। জাহাজের গতিবেগ কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করার চেষ্টা করলেও বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ ১ লাখ পাউন্ডেরও বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
গ্রাহকের উপর প্রভাব
ব্রুস উল্লেখ করেন, জ্বালানি ও মাছের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে ফিশ অ্যান্ড চিপসের গ্রাহক সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। মাছের ধরন ও মূল্য ওঠানামা করলেও রেস্তোরাঁয় যাওয়া গ্রাহক সংখ্যা কমতে পারে। তার মাছের ধরন নিলামে বিক্রি হয় এবং তারপর ব্রিটেনের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশিত হয়।

ঐতিহ্য ও চ্যালেঞ্জ
ফিশ অ্যান্ড চিপসের ক্লাসিক রেসিপি ১৮৬০-এর দশকে উদ্ভাবিত। সাধারণত হোয়াইট ফিশ ব্যাটারে ভাজা হয়, সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও মশি মটরশুটি, এবং টারটার সস। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০,৫০০ ফিশ অ্যান্ড চিপস শপ ছিল, যা দশ বছর আগের সমান।
ইস্টার সময় বিশেষ করে গ্রাহকের চাপ বাড়ে, কারণ বহু ব্রিটিশ গুড ফ্রাইডে মাছ খাওয়ার প্রথা মেনে চলে। ল্যাংকশায়ারের ব্যবসায়ী অ্যান্ড্রু ক্রুক জানান, এ সময় গ্রাহকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। তবে তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চয়ই চাপের মুখোমুখি।”

জ্বালানি, তেল ও সার
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে মার্চে ব্রিটেনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে। এছাড়া মাছ সংরক্ষণের জন্য কঠোর নিয়ম এবং ইউক্রেনে সংঘাত, যা পূর্বে মাছ সরবরাহের একটি বড় উৎস ছিল, ব্যবসার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সার, তেলবীজ ও আলুর উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধিও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বে সার সরবরাহের ৩০ শতাংশের বেশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, যা প্রায় বন্ধ।
ক্রুক জানান, তাঁরা গ্রাহকদের জন্য দাম বাড়ানো এড়াতে সস্তা মাছের বিকল্প যেমন নর্থ আমেরিকার পোল্যাক বা দক্ষিণ আফ্রিকার হেক ব্যবহার করছেন এবং পরিমাণ কমাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা গ্রাহকদের ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করি এবং এখনই দাম বাড়াতে চাই না।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















