মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে তীব্র
শহর-গ্রাম বৈষম্য দেখা দিয়েছে। ডেইলি স্টারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের
শুরু থেকে সারাদেশে লোডশেডিং আবার বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের ছুটিতে
বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও এখন আবার
পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে লোডশেডিং
তুলনামূলকভাবে কম হলেও গ্রামাঞ্চলে দৈনিক তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত
বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উঠছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের
(পিজিসিবি) তথ্য মতে, সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট কিন্তু
সরবরাহ তার তুলনায় প্রায় পাঁচশো মেগাওয়াট কম।

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওনা সংকট
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর
প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনার সমস্যা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের
পরিচালকরা জানিয়েছেন, পাওনা পরিশোধ না হলে উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হবে
না। আবার গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের ছয়টি সার কারখানার মধ্যে
পাঁচটি গত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে, যা আউশ মৌসুমের সার সংকটের আশঙ্কাও তৈরি
করেছে। আবহাওয়া বিভাগ এপ্রিলে একাধিক তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে,
তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির আশঙ্কা
গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে, তখন লোডশেডিং আরও তীব্র
হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
(পিডিবি) এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক জ্বালানি শক মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ
নিচ্ছে। তেল আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা
গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে
সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















