লালমনিরহাটের ধবলগুড়ি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে মো. আলী হোসেন নামে ৪৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরে বুধবার রাতেই নিহতের মরদেহ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনা ও পতাকা বৈঠক
বুধবার ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের ৬১ বিজিবির অধীন ধবলগুড়ি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বেলা ১১টার দিকে সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন সাতগ্রাম এলাকায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬১ তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম। বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ।

বিজিবির প্রতিবাদ
পতাকা বৈঠকে বিজিবি সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু মৌখিক আপত্তিই নয়, বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রতিবাদপত্রও দেয়।
এ ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পাশাপাশি সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিএসএফের দাবি
বিএসএফ কমান্ড্যান্টের দাবি, নিহত ব্যক্তি চিহ্নিত চোরাচালানকারী ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলা হওয়ায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে এই মৃত্যুর ঘটনায় তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।
মরদেহ হস্তান্তর

আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বুধবার রাত ৯টার দিকে সীমান্ত পিলার ৮৬৮/৩ সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়। ভারতের মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশ মরদেহটি বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়। পরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে।
ঘটনার পেছনের তথ্য
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে সাত থেকে আটজন বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে সেখানে যায়। এ সময় টহলরত বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি চালায়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে কথিত চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে গুলিতে ঘটনাস্থলেই মো. আলী হোসেন নিহত হন।
আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ
তিস্তা ব্যাটালিয়নের ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















