ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে কৌশলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
মামলা ও চিকিৎসা
ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালের ছাড়পত্রে যৌন হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুজন শেখ, বয়স ৩৫। তিনি শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে।
প্রলোভনের ফাঁদ
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ১০ বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অভাবের মধ্যে দিন কাটলেও তিনি কখনও সরকারি সহায়তা পাননি। এই পরিস্থিতিতে সুজন শেখ তাঁকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

ঘটনার বর্ণনা
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ২ এপ্রিল সকালে তাঁকে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা জানায় সুজন। পরে রিকশায় করে তাঁকে শহরের গোয়ালচামটের পুরাতন বাস টার্মিনালের ভাঙা রাস্তার মোড়ে নামানো হয়। সেখান থেকে নতুন বাস টার্মিনাল সড়কের দিকে কিছু দূর হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নেওয়া হয়।
সুজন তাঁকে বলে, সেখানেই উপজেলা পরিষদের অফিস। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করলে মুখ চেপে ধরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।
অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি
ঘটনার পর ওই নারী রিকশায় করে বাড়ি ফিরে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে সব খুলে বলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ৬ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফেরেন।

ভুক্তভোগীর দাবি
ভুক্তভোগী নারী বিচার দাবি করে বলেন, তিনি কোনো অফিস চিনতেন না। সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় এবং স্বামী না থাকায় সংসারের কষ্টের কথা ভেবে বিশ্বাস করেই সুজনের সঙ্গে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁর জীবন নষ্ট করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন শেখ দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ওই নারী কার্ড করার জন্য মাঝেমধ্যে তাঁর বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিনও তিনি বাড়িতে এসেছিলেন এবং তখন উত্তেজিত হয়ে তিনি তাঁকে লাথি মেরেছিলেন। এই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের অবস্থান
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















