০১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

টেম্পের ঐতিহ্যের স্বীকৃতি: জাভার রান্নাঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে

ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার টেম্পে এখন বিশ্ব সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির দ্বারপ্রান্তে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জাভার ঘরোয়া রান্নায় ব্যবহৃত এই সয়াবিন থেকে তৈরি ফারমেন্টেড খাবারটি জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ঐতিহ্য আর স্বাদের মিলন
টেম্পে সাধারণত কলাপাতায় মোড়ানো অবস্থায় তৈরি হয় এবং এটি ইন্দোনেশিয়ার মানুষের দৈনন্দিন খাবারের অংশ। রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ—সব জায়গাতেই এর ব্যবহার দেখা যায়। ভাজা, মিষ্টি-ঝাল ভুনা কিংবা নারকেল দুধে রান্না—বিভিন্ন রূপে টেম্পে পরিবেশন করা হয়।

ইতিহাসের গভীরে টেম্পে
১৬শ শতক থেকেই টেম্পের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জাভানিজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘সেরাত চেনথিনি’-তে টেম্পে দিয়ে তৈরি নানা খাবারের উল্লেখ রয়েছে। সেই সময় এটি শুধু সাধারণ মানুষের খাবার ছিল না, বরং সম্মানিত অতিথিদেরও পরিবেশন করা হতো।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে আন্তর্জাতিক পথে
২০১৭ সালে টেম্পেকে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা শুরু হয়। ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৫ সালে একাধিকবার প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এখন এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবেচনার জন্য অগ্রসর হয়েছে।

যদি এই স্বীকৃতি মেলে, তবে টেম্পে ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য ঐতিহ্যের মতো বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হবে।

Indonesia Seeks UNESCO Recognition for Tempeh - Theindonesia.co

বিজ্ঞানের চোখে ‘সুপারফুড’
শুধু ঐতিহ্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও টেম্পে বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে রয়েছে নানা উপকারী উপাদান, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া টেম্পেতে থাকা বিশেষ উপাদান শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও সম্ভাবনা দেখিয়েছে গবেষণা।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
উচ্চ পুষ্টিমান ও প্রোটিনের কারণে নিরামিষভোজীদের মধ্যে টেম্পে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এটি জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

Tempeh or tempe is a traditional food from Indonesia made from soybeans or  other ingredients that are processed through fermentation and is already  popular in many countries. 18821178 Stock Photo at Vecteezy

এই জনপ্রিয়তা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রায় দেড় লাখের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে কাজ করছেন লাখ লাখ মানুষ।

ঐতিহ্য থেকে বিশ্ব পরিচয়ে
টেম্পে শুধু একটি খাবার নয়, এটি ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার এক অনন্য প্রতীক। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে এটি শুধু একটি খাদ্য নয়, বরং একটি জাতির পরিচয় হিসেবেও বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

টেম্পের ঐতিহ্যের স্বীকৃতি: জাভার রান্নাঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে

০৫:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার টেম্পে এখন বিশ্ব সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির দ্বারপ্রান্তে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জাভার ঘরোয়া রান্নায় ব্যবহৃত এই সয়াবিন থেকে তৈরি ফারমেন্টেড খাবারটি জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ঐতিহ্য আর স্বাদের মিলন
টেম্পে সাধারণত কলাপাতায় মোড়ানো অবস্থায় তৈরি হয় এবং এটি ইন্দোনেশিয়ার মানুষের দৈনন্দিন খাবারের অংশ। রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ—সব জায়গাতেই এর ব্যবহার দেখা যায়। ভাজা, মিষ্টি-ঝাল ভুনা কিংবা নারকেল দুধে রান্না—বিভিন্ন রূপে টেম্পে পরিবেশন করা হয়।

ইতিহাসের গভীরে টেম্পে
১৬শ শতক থেকেই টেম্পের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জাভানিজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘সেরাত চেনথিনি’-তে টেম্পে দিয়ে তৈরি নানা খাবারের উল্লেখ রয়েছে। সেই সময় এটি শুধু সাধারণ মানুষের খাবার ছিল না, বরং সম্মানিত অতিথিদেরও পরিবেশন করা হতো।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে আন্তর্জাতিক পথে
২০১৭ সালে টেম্পেকে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা শুরু হয়। ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৫ সালে একাধিকবার প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এখন এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবেচনার জন্য অগ্রসর হয়েছে।

যদি এই স্বীকৃতি মেলে, তবে টেম্পে ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য ঐতিহ্যের মতো বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হবে।

Indonesia Seeks UNESCO Recognition for Tempeh - Theindonesia.co

বিজ্ঞানের চোখে ‘সুপারফুড’
শুধু ঐতিহ্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও টেম্পে বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে রয়েছে নানা উপকারী উপাদান, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া টেম্পেতে থাকা বিশেষ উপাদান শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও সম্ভাবনা দেখিয়েছে গবেষণা।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
উচ্চ পুষ্টিমান ও প্রোটিনের কারণে নিরামিষভোজীদের মধ্যে টেম্পে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এটি জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

Tempeh or tempe is a traditional food from Indonesia made from soybeans or  other ingredients that are processed through fermentation and is already  popular in many countries. 18821178 Stock Photo at Vecteezy

এই জনপ্রিয়তা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রায় দেড় লাখের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে কাজ করছেন লাখ লাখ মানুষ।

ঐতিহ্য থেকে বিশ্ব পরিচয়ে
টেম্পে শুধু একটি খাবার নয়, এটি ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার এক অনন্য প্রতীক। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে এটি শুধু একটি খাদ্য নয়, বরং একটি জাতির পরিচয় হিসেবেও বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।