১০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি বন্দি, রয়েছে ৭৭ হাজার ৪০ জন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানালেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অধিনায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্বে হৃদয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাধারণত নতুন মডেল, চমকপ্রদ উদ্ভাবন বা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, এআই আর শুধু প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়; এটি দ্রুতই অর্থনৈতিক শক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হচ্ছে। যে দেশগুলো আগামী দশকের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চায়, তাদের জন্য প্রশ্ন এখন শুধু এআই ব্যবহার করা নয়, বরং এআই নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করা।

উন্নত প্রযুক্তির ইতিহাস বলছে, কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়ে। সেমিকন্ডাক্টর, বিরল খনিজ, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো কিংবা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা ইতোমধ্যে তা দেখেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা সামনে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক এআই ব্যবহারের সুযোগ কেবল বাজারের নিয়মে নির্ধারিত হবে না; রাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থও বড় ভূমিকা পালন করবে।

বর্তমান বৈশ্বিক এআই পরিমণ্ডলে একটি বড় বৈপরীত্য স্পষ্ট। বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত মডেল কয়েকটি মার্কিন ও চীনা প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। ব্যবসা, শিক্ষা, গবেষণা কিংবা সরকারি সেবা—সব ক্ষেত্রেই অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এসব প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই নির্ভরশীলতার মধ্যেই একটি ঝুঁকি রয়েছে। যদি কোনো কারণে প্রযুক্তি প্রবাহ সীমিত হয় বা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে অন্য দেশগুলোর ডিজিটাল অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এমন বাস্তবতায় ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সামনে স্বাভাবিকভাবেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে: গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে কি অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকা সম্ভব? বিশেষত এমন একটি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, উৎপাদনশিল্প, আর্থিক খাত এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

এই প্রশ্নের উত্তরে ভারত যে পথ বেছে নিয়েছে, তা মূলত সক্ষমতা নির্মাণের পথ। শুধু সফটওয়্যার নয়, পুরো প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ, গবেষণা অবকাঠামো এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধায় বিনিয়োগ সেই কৌশলের অংশ। কারণ শক্তিশালী এআই তৈরি করতে শুধু মেধা নয়, বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগও প্রয়োজন।

তবে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভবত নিজস্ব ভিত্তিমূলক ভাষা মডেল তৈরির ক্ষেত্রে। দীর্ঘদিন ধরে এআই ব্যবস্থাগুলোর বেশিরভাগই পশ্চিমা ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের পরবর্তী বৃহৎ ডিজিটাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী আসবে বহুভাষিক এবং উন্নয়নশীল সমাজগুলো থেকে। ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং বিপুল ডিজিটাল ব্যবহারকারী ভিত্তি এমন মডেল তৈরির সুযোগ তৈরি করছে, যা স্থানীয় বাস্তবতাকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে পারে।

এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অন্তর্ভুক্তি। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যদি কেবল কিছু প্রতিষ্ঠান বা উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার সামাজিক প্রভাব সীমিত হয়ে যায়। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো নির্মাণের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে কম খরচে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। সেই অভিজ্ঞতাকে এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আসলে এআই নিয়ে বর্তমান প্রতিযোগিতা কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রতিযোগিতা। যে দেশগুলো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে, তারা শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই পাবে না, বরং বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণেও প্রভাব বিস্তার করবে। অন্যদিকে যারা কেবল ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে, তাদের কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে।

বিশ্বের বহু মধ্যম শক্তি ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা এআইয়ের সুফল গ্রহণ করতে চায়, কিন্তু একই সঙ্গে কয়েকটি বিদেশি প্ল্যাটফর্মের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও এড়াতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রচেষ্টা শুধু একটি জাতীয় প্রকল্প নয়; এটি প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জনের একটি বৃহত্তর পরীক্ষাও।

ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বে শক্তির ভারসাম্য নির্ধারিত হবে উদ্ভাবন, অবকাঠামো এবং নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে। ভারত যদি তার বর্তমান বিনিয়োগ, গবেষণা এবং বহুভাষিক এআই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে পারে, তবে দেশটি শুধু নিজস্ব চাহিদা পূরণ করবে না; বরং এমন একটি বিকল্প মডেলও উপস্থাপন করতে পারে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হয়ে উঠবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সেটিই হতে পারে ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অর্জন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা

০৮:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাধারণত নতুন মডেল, চমকপ্রদ উদ্ভাবন বা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, এআই আর শুধু প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়; এটি দ্রুতই অর্থনৈতিক শক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হচ্ছে। যে দেশগুলো আগামী দশকের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চায়, তাদের জন্য প্রশ্ন এখন শুধু এআই ব্যবহার করা নয়, বরং এআই নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করা।

উন্নত প্রযুক্তির ইতিহাস বলছে, কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়ে। সেমিকন্ডাক্টর, বিরল খনিজ, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো কিংবা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা ইতোমধ্যে তা দেখেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা সামনে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক এআই ব্যবহারের সুযোগ কেবল বাজারের নিয়মে নির্ধারিত হবে না; রাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থও বড় ভূমিকা পালন করবে।

বর্তমান বৈশ্বিক এআই পরিমণ্ডলে একটি বড় বৈপরীত্য স্পষ্ট। বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত মডেল কয়েকটি মার্কিন ও চীনা প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। ব্যবসা, শিক্ষা, গবেষণা কিংবা সরকারি সেবা—সব ক্ষেত্রেই অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এসব প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই নির্ভরশীলতার মধ্যেই একটি ঝুঁকি রয়েছে। যদি কোনো কারণে প্রযুক্তি প্রবাহ সীমিত হয় বা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে অন্য দেশগুলোর ডিজিটাল অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এমন বাস্তবতায় ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সামনে স্বাভাবিকভাবেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে: গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে কি অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকা সম্ভব? বিশেষত এমন একটি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, উৎপাদনশিল্প, আর্থিক খাত এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

এই প্রশ্নের উত্তরে ভারত যে পথ বেছে নিয়েছে, তা মূলত সক্ষমতা নির্মাণের পথ। শুধু সফটওয়্যার নয়, পুরো প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ, গবেষণা অবকাঠামো এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধায় বিনিয়োগ সেই কৌশলের অংশ। কারণ শক্তিশালী এআই তৈরি করতে শুধু মেধা নয়, বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগও প্রয়োজন।

তবে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভবত নিজস্ব ভিত্তিমূলক ভাষা মডেল তৈরির ক্ষেত্রে। দীর্ঘদিন ধরে এআই ব্যবস্থাগুলোর বেশিরভাগই পশ্চিমা ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের পরবর্তী বৃহৎ ডিজিটাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী আসবে বহুভাষিক এবং উন্নয়নশীল সমাজগুলো থেকে। ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং বিপুল ডিজিটাল ব্যবহারকারী ভিত্তি এমন মডেল তৈরির সুযোগ তৈরি করছে, যা স্থানীয় বাস্তবতাকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে পারে।

এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অন্তর্ভুক্তি। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যদি কেবল কিছু প্রতিষ্ঠান বা উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার সামাজিক প্রভাব সীমিত হয়ে যায়। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো নির্মাণের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে কম খরচে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। সেই অভিজ্ঞতাকে এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আসলে এআই নিয়ে বর্তমান প্রতিযোগিতা কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রতিযোগিতা। যে দেশগুলো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে, তারা শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই পাবে না, বরং বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণেও প্রভাব বিস্তার করবে। অন্যদিকে যারা কেবল ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে, তাদের কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে।

বিশ্বের বহু মধ্যম শক্তি ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা এআইয়ের সুফল গ্রহণ করতে চায়, কিন্তু একই সঙ্গে কয়েকটি বিদেশি প্ল্যাটফর্মের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও এড়াতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রচেষ্টা শুধু একটি জাতীয় প্রকল্প নয়; এটি প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জনের একটি বৃহত্তর পরীক্ষাও।

ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বে শক্তির ভারসাম্য নির্ধারিত হবে উদ্ভাবন, অবকাঠামো এবং নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে। ভারত যদি তার বর্তমান বিনিয়োগ, গবেষণা এবং বহুভাষিক এআই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে পারে, তবে দেশটি শুধু নিজস্ব চাহিদা পূরণ করবে না; বরং এমন একটি বিকল্প মডেলও উপস্থাপন করতে পারে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হয়ে উঠবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সেটিই হতে পারে ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অর্জন।