দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে অনুমোদিত আসনের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি অবস্থান করছেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারের মোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন। তবে বর্তমানে এসব কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৭৭ হাজার ৪০ জন।
ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দি
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কারাগারগুলোতে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা অনুমোদিত ধারণক্ষমতার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে কারাগার ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, বিদ্যমান অবকাঠামোর তুলনায় বন্দির সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ।
বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত বন্দির চাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। সংসদে উপস্থাপিত সর্বশেষ তথ্যেও সেই চিত্রই উঠে এসেছে।
বন্দিদের জন্য মুনাফার অংশ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, কারাগারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির মুনাফার ৫০ শতাংশ বন্দিদের দেওয়া হয়।
কারাগারে বন্দিদের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরির উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রির আয় থেকে বন্দিরা সরাসরি আর্থিকভাবে উপকৃত হওয়ার সুযোগ পান।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা এখনও ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি থাকলেও বন্দিদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড এবং সেখান থেকে অর্জিত মুনাফার অংশ বন্দিদের মধ্যে বণ্টনের বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য।
কারাগারে বন্দি সংখ্যা ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যা দেশের কারা ব্যবস্থাপনার ওপর বিদ্যমান চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















