০২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত

বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত নিয়ে সংসদে তুমুল প্রশ্ন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের অবস্থান ঘিরে বিতর্ক

সংসদে হঠাৎ করেই বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট আছে কি নেই—সরকারের অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন একজন সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আগামী ১৯ মে নির্ধারিত নির্বাচন হঠাৎ মধ্যরাতে স্থগিত করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয় এবং এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে দ্বৈত অবস্থান
আখতার হোসেনের প্রশ্ন, সংসদে সরকার বারবার বলছে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু একই সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করার কারণ হিসেবে জ্বালানি সংকটের কথা বলছে। তাহলে প্রকৃত পরিস্থিতি কী?

তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই সংকট না থাকে, তাহলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়। আর যদি সংকট থাকে, তাহলে সরকার তা স্বীকার করছে না কেন—এই দ্বৈত অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

MP Akhter slates Bar Council poll delay

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ
সংসদ সদস্য জানান, বর্তমানে বার কাউন্সিল একটি অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতিতে করা হয়। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ তা স্থগিত হওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।

সরকারের জবাব
এ বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বার কাউন্সিল একটি স্বশাসিত সংস্থা এবং তারা নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন স্থগিতের পেছনে শুধু জ্বালানি সংকট নয়, আরও কিছু আইনগত কারণ রয়েছে, যা সংসদ সদস্য উল্লেখ করেননি। বিভিন্ন বার সমিতি, বিশেষ করে ঢাকা বার, তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সময় চেয়েছিল।

আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিল তাদের পেশাগত বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যেই হয়েছে।

পুরো জুলাই সনদ আমরা বাস্তবায়ন করবো, এটি নিয়ে রাজনীতির দরকার নেই:  আইনমন্ত্রী

স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস
শেষে তিনি বলেন, সরকার বার কাউন্সিলের একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত নিয়ে সংসদে তুমুল প্রশ্ন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের অবস্থান ঘিরে বিতর্ক

০৫:৩০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে হঠাৎ করেই বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট আছে কি নেই—সরকারের অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন একজন সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আগামী ১৯ মে নির্ধারিত নির্বাচন হঠাৎ মধ্যরাতে স্থগিত করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয় এবং এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে দ্বৈত অবস্থান
আখতার হোসেনের প্রশ্ন, সংসদে সরকার বারবার বলছে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু একই সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করার কারণ হিসেবে জ্বালানি সংকটের কথা বলছে। তাহলে প্রকৃত পরিস্থিতি কী?

তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই সংকট না থাকে, তাহলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়। আর যদি সংকট থাকে, তাহলে সরকার তা স্বীকার করছে না কেন—এই দ্বৈত অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

MP Akhter slates Bar Council poll delay

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ
সংসদ সদস্য জানান, বর্তমানে বার কাউন্সিল একটি অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতিতে করা হয়। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ তা স্থগিত হওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।

সরকারের জবাব
এ বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বার কাউন্সিল একটি স্বশাসিত সংস্থা এবং তারা নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন স্থগিতের পেছনে শুধু জ্বালানি সংকট নয়, আরও কিছু আইনগত কারণ রয়েছে, যা সংসদ সদস্য উল্লেখ করেননি। বিভিন্ন বার সমিতি, বিশেষ করে ঢাকা বার, তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সময় চেয়েছিল।

আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিল তাদের পেশাগত বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যেই হয়েছে।

পুরো জুলাই সনদ আমরা বাস্তবায়ন করবো, এটি নিয়ে রাজনীতির দরকার নেই:  আইনমন্ত্রী

স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস
শেষে তিনি বলেন, সরকার বার কাউন্সিলের একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।