১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ আরও বড় হচ্ছে! ২০৩০ সালে ৬৪ দলের পরিকল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক লিভারপুলের নজিরবিহীন খরা, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলে নেই একজনও নির্বাচনে জনরোষের ঝড়, গণতন্ত্র কি এখন হতাশার চক্রে বন্দি? জিল বাইডেনের স্মৃতিচারণে উঠে এলো মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে অস্বস্তিকর যাত্রার গল্প নতুন খনিজ সম্পদে ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় বতসোয়ানা, লক্ষ্য শূন্য শুল্ক কেন্টাকিতে চমক দেখাতে পারবেন বুকার? ট্রাম্প-ঘাঁটিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের স্বপ্ন এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ঝুঁকি, সতর্ক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এভাবেই বদলাচ্ছে অভিবাসন বিতর্কের ভাষা, আলোচনায় নতুন শব্দ ‘রিমাইগ্রেশন’ নতুন বিশ্বকাপ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম ও বাণিজ্যিকীকরণে ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা নিত্যপণ্যের চাপে নতুন ধাক্কা, এক বছরে টমেটোর দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি

টিএমসি ছেড়ে নতুন দলে বিদ্রোহীরা, আগের সাংগঠনিক কাঠামোই বজায় রাখছেন ২০ সাংসদ

তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ছেড়ে সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এ যোগ দেওয়া ২০ সাংসদ নতুন দলে নিজেদের আগের সাংগঠনিক অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দলের ভেতরে আগের অবস্থানই বহাল

বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, নতুন দলে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও আগের ব্যবস্থায় আপাতত কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, তিনি এনসিপিআইয়ের প্রধান হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। টিএমসিতেও তিনি একসময় একই পদে ছিলেন।

অন্যদিকে, লোকসভায় টিএমসির সাবেক ফ্লোর লিডার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিপিআইয়ের ফ্লোর লিডার হতে চলেছেন। একই সঙ্গে শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে মনোনয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

With TMC rebels reshaping numbers, NDA nears two-thirds mark in Rajya Sabha  but remains short in Lok Sabha

এনডিএর শক্তি বৃদ্ধি

টিএমসি থেকে বেরিয়ে আসা সাংসদদের এনসিপিআইয়ে যোগদান এবং এনডিএকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় শাসক জোটের সংখ্যাগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে লোকসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ২৯৪ থেকে বেড়ে ৩১৪-তে পৌঁছেছে। যদিও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের এখনও ৪৬টি আসনের ঘাটতি রয়েছে।

রাজ্যসভাতেও আগামী দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ও উপনির্বাচনের পর শাসক জোটের আসন সংখ্যা ১৫৫-এ পৌঁছাতে পারে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাত্র ৮ আসন কম।

বিরোধীদের সমালোচনা

এই দলবদল নিয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর নেতা মনোজ কুমার ঝা প্রশ্ন তুলেছেন, যে দলটির নাম দেশের অধিকাংশ মানুষ আগে শোনেনি, সেই দল রাতারাতি ২০ জন সাংসদ পেয়ে গেল কীভাবে। তার মতে, এই ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতির প্রতিফলন।

স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আইনি বিতর্ক

Rebel TMC MPs Arrive At LS Speaker Om Birla's Residence To Demand 'Separate  Sitting Arrangement' In Parliament

রোববার বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংসদে আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানান। এর কিছুক্ষণ আগেই টিএমসি-অনুগত সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের কাছে দলের পক্ষ থেকে একটি চিঠি জমা দেন।

লোকসভায় টিএমসির ফ্লোর লিডার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ‘স্প্লিট’ বা দলভাঙনের বিধান আর কার্যকর নয় এবং টিএমসি একটি অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআইয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

TMC Inner Conflict | Complaint rises after a TMC leader was beaten in New  Town - Anandabazar

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

এই ঘটনার প্রভাব শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও টিএমসির অন্তত ৫৯ জন বিধায়ক নিজেদের বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করেছেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের বিপরীত অবস্থান। তারা ভবিষ্যতে দল ছাড়বেন নাকি নিজেদেরকেই প্রকৃত টিএমসি হিসেবে দাবি করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

টিএমসির এই অভ্যন্তরীণ সংকট এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নতুন রাজনৈতিক অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ আরও বড় হচ্ছে! ২০৩০ সালে ৬৪ দলের পরিকল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক

টিএমসি ছেড়ে নতুন দলে বিদ্রোহীরা, আগের সাংগঠনিক কাঠামোই বজায় রাখছেন ২০ সাংসদ

১০:৫৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ছেড়ে সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এ যোগ দেওয়া ২০ সাংসদ নতুন দলে নিজেদের আগের সাংগঠনিক অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দলের ভেতরে আগের অবস্থানই বহাল

বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, নতুন দলে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও আগের ব্যবস্থায় আপাতত কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, তিনি এনসিপিআইয়ের প্রধান হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। টিএমসিতেও তিনি একসময় একই পদে ছিলেন।

অন্যদিকে, লোকসভায় টিএমসির সাবেক ফ্লোর লিডার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিপিআইয়ের ফ্লোর লিডার হতে চলেছেন। একই সঙ্গে শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে মনোনয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

With TMC rebels reshaping numbers, NDA nears two-thirds mark in Rajya Sabha  but remains short in Lok Sabha

এনডিএর শক্তি বৃদ্ধি

টিএমসি থেকে বেরিয়ে আসা সাংসদদের এনসিপিআইয়ে যোগদান এবং এনডিএকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় শাসক জোটের সংখ্যাগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে লোকসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ২৯৪ থেকে বেড়ে ৩১৪-তে পৌঁছেছে। যদিও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের এখনও ৪৬টি আসনের ঘাটতি রয়েছে।

রাজ্যসভাতেও আগামী দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ও উপনির্বাচনের পর শাসক জোটের আসন সংখ্যা ১৫৫-এ পৌঁছাতে পারে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাত্র ৮ আসন কম।

বিরোধীদের সমালোচনা

এই দলবদল নিয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর নেতা মনোজ কুমার ঝা প্রশ্ন তুলেছেন, যে দলটির নাম দেশের অধিকাংশ মানুষ আগে শোনেনি, সেই দল রাতারাতি ২০ জন সাংসদ পেয়ে গেল কীভাবে। তার মতে, এই ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতির প্রতিফলন।

স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আইনি বিতর্ক

Rebel TMC MPs Arrive At LS Speaker Om Birla's Residence To Demand 'Separate  Sitting Arrangement' In Parliament

রোববার বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংসদে আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানান। এর কিছুক্ষণ আগেই টিএমসি-অনুগত সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের কাছে দলের পক্ষ থেকে একটি চিঠি জমা দেন।

লোকসভায় টিএমসির ফ্লোর লিডার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ‘স্প্লিট’ বা দলভাঙনের বিধান আর কার্যকর নয় এবং টিএমসি একটি অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআইয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

TMC Inner Conflict | Complaint rises after a TMC leader was beaten in New  Town - Anandabazar

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

এই ঘটনার প্রভাব শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও টিএমসির অন্তত ৫৯ জন বিধায়ক নিজেদের বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করেছেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের বিপরীত অবস্থান। তারা ভবিষ্যতে দল ছাড়বেন নাকি নিজেদেরকেই প্রকৃত টিএমসি হিসেবে দাবি করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

টিএমসির এই অভ্যন্তরীণ সংকট এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নতুন রাজনৈতিক অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।