সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগে বর্তমানে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হচ্ছে বলে সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে এই কোটা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তা কার্যকর রয়েছে।
কোটা বণ্টনের চিত্র
প্রতিমন্ত্রী জানান, মোট নিয়োগের মধ্যে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হচ্ছে। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্য আরও ১ শতাংশ কোটা নির্ধারিত আছে।
নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, ৩৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ৫৬৪ জনকে বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত করছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শূন্য পদ প্রায় পাঁচ লাখ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে মোট শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, ১০ম থেকে ১২শ গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক ও নির্দিষ্ট বেতনভিত্তিক আরও ৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে।
দ্রুত নিয়োগে পরিকল্পনা
তিনি জানান, শূন্য পদ পূরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২ হাজার ৮৭৯টি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ৪৫৯টি পদ পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ নিশ্চিত করতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















