ভারতে নারী সংরক্ষণ আইন সংশোধন ও ডিলিমিটেশান প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সরকারের এই উদ্যোগ আসলে গণতন্ত্রের ওপর ‘খোলা আঘাত’।
গণতন্ত্র ধ্বংসের আশঙ্কা
লোকসভায় বিতর্কে অংশ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস হলে দেশের গণতন্ত্র কার্যত শেষ হয়ে যাবে। তাঁর অভিযোগ, নারী সংরক্ষণের আড়ালে সরকার নির্বাচনী সুবিধা নিতে আসনগুলিকে ইচ্ছেমতো পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গণতন্ত্র দুর্বল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তখনই, যখন সরকার সংবাদমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন ডিলিমিটেশানের মাধ্যমে সেই আঘাত আরও গভীর করা হচ্ছে।

সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন
সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি জানতে চান, বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যেই কেন ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে কেন আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রিয়াঙ্কার মতে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশান করার প্রস্তাবও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ২০২৭ সালের জনগণনার জন্য অপেক্ষা করতে চাইছে না, কারণ সেখানে প্রথমবারের মতো জাতভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য উঠে আসতে পারে।
![]()
ওবিসি অধিকার নিয়ে উদ্বেগ
এই বিলের ফলে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশান কমিশনের মাত্র তিন সদস্যের হাতে রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য বিপজ্জনক।
নারী সংরক্ষণ বনাম ডিলিমিটেশান বিতর্ক
প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট করেছেন, কংগ্রেস নারী সংরক্ষণ আইনের পক্ষে। তবে তাঁর মতে, বর্তমান বিলের মাধ্যমে মূল আলোচনাকে নারী ক্ষমতায়ন থেকে সরিয়ে ডিলিমিটেশানের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, নারীরা সহজেই বুঝতে পারেন, কে তাদের বারবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, ডিলিমিটেশান ও নারী সংরক্ষণ আইন ঘিরে এই বিতর্কে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিযোগে স্পষ্ট, বিরোধী শিবির এই বিলকে শুধু আইনগত পরিবর্তন নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব হিসেবে দেখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















