০১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন মণিপুর মহাসড়কে অতর্কিত হামলা: দুই নিহত, উত্তেজনা নতুন করে তীব্র ডিএমকে-কংগ্রেসের বাধায় থমকে নারী সংরক্ষণ উদ্যোগ, তবু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা মোদির পশ্চিমবঙ্গে একা লড়াইয়ে কংগ্রেস, তৃণমূলের সঙ্গে ভোট-পরবর্তী জোটের জল্পনা নাকচ দার্জিলিং পাহাড়ে বহু-পক্ষের লড়াই, বদলে যাচ্ছে রাজনীতির চরিত্র বিজেপির অভিযোগ: নারী কোটা বিল ব্যর্থতায় কংগ্রেস ‘উল্লাস করেছে’ কেন্দ্রের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার ‘চক্রান্ত’ ভেস্তে দিল বিরোধীরা: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নারী সংরক্ষণ আইন ঘিরে ঘুরপাক: ‘ইউটার্ন’ ব্যর্থ, আবার পুরনো পথে সরকার নারী সংরক্ষণে বাধা দূর করবে এনডিএ, বিরোধীদের তীব্র সমালোচনায় মোদী মোদির ভাষণের পর প্রশ্নে বিরোধীরা: কেন এতদিন হিমঘরে ছিল নারী সংরক্ষণ আইন

রেকর্ড মৃত্যু, সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা: ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ জন প্রাণহানি

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের যাত্রা ২০২৫ সালে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ও মৃত্যুর হার

সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক এই সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় প্রতি সাতজনের একজনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যবহৃত প্রধান সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের রেকর্ড।

নারী ও শিশুর সংখ্যা বাড়ছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। ২০২৬ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইতোমধ্যে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা এই পথ ধরেছেন।

সমুদ্রপথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, গত বছর ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি

নৌকাডুবি ও সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডি

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে নয়জন জীবিত উদ্ধার করা হয়। জীবিতদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং সেবা দিচ্ছে সংস্থাটি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা, কিন্তু বাধা অব্যাহত

অনেক রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরতে চান। তবে চলমান সংঘাত, নির্যাতন এবং নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা তাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকেই সমুদ্রপথে পাড়ি দিচ্ছেন। সাধারণত কক্সবাজার বা রাখাইন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত ভিড় ও অনিরাপদ নৌকায় তারা ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

শিবিরের সংকট ও অর্থায়নের ঘাটতি

বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার তীব্র অর্থসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শরণার্থী শিবিরে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। ২০২৫ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির দিকটি স্পষ্ট করে।

২০২৫ সালে সমুদ্রপথে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু: ইউএনএইচসিআর

আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান

সংস্থাটি আঞ্চলিক দেশগুলোকে মানবপাচার রোধ, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ সমাধান, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমানে পুরো অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখই বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন

রেকর্ড মৃত্যু, সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা: ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ জন প্রাণহানি

১১:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের যাত্রা ২০২৫ সালে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ও মৃত্যুর হার

সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক এই সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় প্রতি সাতজনের একজনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যবহৃত প্রধান সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের রেকর্ড।

নারী ও শিশুর সংখ্যা বাড়ছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। ২০২৬ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইতোমধ্যে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা এই পথ ধরেছেন।

সমুদ্রপথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, গত বছর ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি

নৌকাডুবি ও সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডি

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে নয়জন জীবিত উদ্ধার করা হয়। জীবিতদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং সেবা দিচ্ছে সংস্থাটি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা, কিন্তু বাধা অব্যাহত

অনেক রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরতে চান। তবে চলমান সংঘাত, নির্যাতন এবং নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা তাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকেই সমুদ্রপথে পাড়ি দিচ্ছেন। সাধারণত কক্সবাজার বা রাখাইন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত ভিড় ও অনিরাপদ নৌকায় তারা ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

শিবিরের সংকট ও অর্থায়নের ঘাটতি

বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার তীব্র অর্থসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শরণার্থী শিবিরে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। ২০২৫ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির দিকটি স্পষ্ট করে।

২০২৫ সালে সমুদ্রপথে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু: ইউএনএইচসিআর

আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান

সংস্থাটি আঞ্চলিক দেশগুলোকে মানবপাচার রোধ, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ সমাধান, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমানে পুরো অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখই বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।