০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
নারীদের নগদ প্রণোদনায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ ভোট: লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম মাতৃশক্তি প্রতিশ্রুতির লড়াই বুলিং সংকট: সমাজের জন্য এক জাগরণবার্তা বলিভিয়ায় প্রথমবারের মতো বনে ফেরানো হচ্ছে জাগুয়ার: সংরক্ষণে নতুন যুগের সূচনা? আদালত থেকে সমাজে: ইসলামের বৈশ্বিক পুনরুত্থান পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন মণিপুর মহাসড়কে অতর্কিত হামলা: দুই নিহত, উত্তেজনা নতুন করে তীব্র ডিএমকে-কংগ্রেসের বাধায় থমকে নারী সংরক্ষণ উদ্যোগ, তবু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা মোদির পশ্চিমবঙ্গে একা লড়াইয়ে কংগ্রেস, তৃণমূলের সঙ্গে ভোট-পরবর্তী জোটের জল্পনা নাকচ দার্জিলিং পাহাড়ে বহু-পক্ষের লড়াই, বদলে যাচ্ছে রাজনীতির চরিত্র বিজেপির অভিযোগ: নারী কোটা বিল ব্যর্থতায় কংগ্রেস ‘উল্লাস করেছে’

ভারতে নারী কোটা আইন নিয়ে বিরোধীদের চাপ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে আলাদা করার দাবি জোরালো

ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক নারী সংরক্ষণ আইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন করে চাপ তৈরি করছে। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে ২০২৩ সালের নারী কোটা আইনটি সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করে অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানাতে পারে।

রাজনৈতিক কৌশল ও বৈঠক

শনিবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাপতিত্বে ইন্ডিয়া ব্লকের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধীদের ‘নারীবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচারণার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়েও কৌশল নির্ধারণ করা হয়। দেশজুড়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে নারী সংরক্ষণে নিজেদের সমর্থনের বার্তা তুলে ধরার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

Revanth Reddy: From farmer's son to Telangana CM

বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

একই দিনে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেবন্ত রেড্ডি অভিযোগ করেন, বিজেপি নারী কোটা আইনের আড়ালে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪০০টির বেশি আসন না পাওয়ার পর বিজেপি সংবিধান পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

রেড্ডি আরও বলেন, নারী সংরক্ষণ আইনকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও আসন বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃত উদ্দেশ্যকে আড়াল করছে। তাঁর মতে, সত্যিই যদি নারীদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হয়, তাহলে একটি সরল সংশোধনীর মাধ্যমেই তা করা সম্ভব ছিল।

‘পরিষ্কার’ আইন আনার দাবি

বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাবে রেড্ডি বলেন, সরকার যেন কোনো শর্ত ছাড়াই একটি ‘পরিষ্কার’ নারী সংরক্ষণ বিল সংসদে আনে। তিনি জানান, সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা আসন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কহীন এমন বিল আনা হলে বিরোধী জোট সেটি সমর্থন করবে।

এছাড়া তিনি স্পষ্ট করে দেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো রাজি হবে না।

Congress appoints Jairam Ramesh as head of its communication, publicity and  media wing | India News - The Indian Express

কংগ্রেসের অবস্থান

কংগ্রেসের যোগাযোগ প্রধান জয়ারাম রমেশ সামাজিক মাধ্যমে দলের ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংক্ষেপে পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে, নারী সংরক্ষণ আইনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আইনটিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে আলাদা করার দাবি তুলছে, আর সরকারকে ঘিরে সংবিধান পরিবর্তনের আশঙ্কাও তুলে ধরছে তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের নগদ প্রণোদনায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ ভোট: লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম মাতৃশক্তি প্রতিশ্রুতির লড়াই

ভারতে নারী কোটা আইন নিয়ে বিরোধীদের চাপ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে আলাদা করার দাবি জোরালো

১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক নারী সংরক্ষণ আইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন করে চাপ তৈরি করছে। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে ২০২৩ সালের নারী কোটা আইনটি সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করে অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানাতে পারে।

রাজনৈতিক কৌশল ও বৈঠক

শনিবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাপতিত্বে ইন্ডিয়া ব্লকের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধীদের ‘নারীবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচারণার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়েও কৌশল নির্ধারণ করা হয়। দেশজুড়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে নারী সংরক্ষণে নিজেদের সমর্থনের বার্তা তুলে ধরার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

Revanth Reddy: From farmer's son to Telangana CM

বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

একই দিনে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেবন্ত রেড্ডি অভিযোগ করেন, বিজেপি নারী কোটা আইনের আড়ালে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪০০টির বেশি আসন না পাওয়ার পর বিজেপি সংবিধান পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

রেড্ডি আরও বলেন, নারী সংরক্ষণ আইনকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও আসন বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃত উদ্দেশ্যকে আড়াল করছে। তাঁর মতে, সত্যিই যদি নারীদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হয়, তাহলে একটি সরল সংশোধনীর মাধ্যমেই তা করা সম্ভব ছিল।

‘পরিষ্কার’ আইন আনার দাবি

বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাবে রেড্ডি বলেন, সরকার যেন কোনো শর্ত ছাড়াই একটি ‘পরিষ্কার’ নারী সংরক্ষণ বিল সংসদে আনে। তিনি জানান, সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা আসন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কহীন এমন বিল আনা হলে বিরোধী জোট সেটি সমর্থন করবে।

এছাড়া তিনি স্পষ্ট করে দেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো রাজি হবে না।

Congress appoints Jairam Ramesh as head of its communication, publicity and  media wing | India News - The Indian Express

কংগ্রেসের অবস্থান

কংগ্রেসের যোগাযোগ প্রধান জয়ারাম রমেশ সামাজিক মাধ্যমে দলের ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংক্ষেপে পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে, নারী সংরক্ষণ আইনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আইনটিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে আলাদা করার দাবি তুলছে, আর সরকারকে ঘিরে সংবিধান পরিবর্তনের আশঙ্কাও তুলে ধরছে তারা।