ভারতে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন, এই বিলকে ঘিরে মোদি সরকার “প্রতারণামূলক রাজনৈতিক খেলা” খেলেছে এবং দেশের নারীদের সঙ্গে “অপমান ও বিশ্বাসঘাতকতা” করেছে।
কেন্দ্রের তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার হঠাৎ করে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিল উপস্থাপন করে। তাঁর দাবি, আলোচনা ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিক, যাতে বিলটি কার্যত ব্যর্থ হয়।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী—তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। বিরোধী দল ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ নারী নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিল আনা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অসম্মান

সিদ্ধারামাইয়ার মতে, বিরোধীদের সঙ্গে পূর্ব আলোচনা ছাড়া হঠাৎ বিল পেশ করে তাদের নিঃশর্ত সমর্থন আশা করা শুধু নারীদের নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও অসম্মান করার শামিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সর্বদলীয় ঐকমত্য ও পরামর্শ অপরিহার্য।
কংগ্রেসের পুরনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের রাজনৈতিক সংরক্ষণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক।
তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী-এর আমলে প্রবর্তিত ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছিল।
বাস্তবায়নে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন
২০২৩ সালে সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন—এ প্রশ্ন তোলেন সিদ্ধারামাইয়া।
তিনি বলেন, “যদি উদ্দেশ্য সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে তিন বছর ধরে বাস্তবায়ন বিলম্বিত কেন?”
নির্বাচনী রাজনীতির অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই বিল বাস্তবায়নে বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোর নির্বাচনী হিসাব মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















