০১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সিজিমালি পাহাড়ে বক্সাইট খনন ঘিরে উত্তেজনা, আদিবাসীদের প্রতিবাদে মুখোমুখি প্রশাসন নারীদের নগদ প্রণোদনায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ ভোট: লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম মাতৃশক্তি প্রতিশ্রুতির লড়াই বুলিং সংকট: সমাজের জন্য এক জাগরণবার্তা বলিভিয়ায় প্রথমবারের মতো বনে ফেরানো হচ্ছে জাগুয়ার: সংরক্ষণে নতুন যুগের সূচনা? আদালত থেকে সমাজে: ইসলামের বৈশ্বিক পুনরুত্থান পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন মণিপুর মহাসড়কে অতর্কিত হামলা: দুই নিহত, উত্তেজনা নতুন করে তীব্র ডিএমকে-কংগ্রেসের বাধায় থমকে নারী সংরক্ষণ উদ্যোগ, তবু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা মোদির পশ্চিমবঙ্গে একা লড়াইয়ে কংগ্রেস, তৃণমূলের সঙ্গে ভোট-পরবর্তী জোটের জল্পনা নাকচ দার্জিলিং পাহাড়ে বহু-পক্ষের লড়াই, বদলে যাচ্ছে রাজনীতির চরিত্র

মোদির ভাষণের পর প্রশ্নে বিরোধীরা: কেন এতদিন হিমঘরে ছিল নারী সংরক্ষণ আইন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর নারী সংরক্ষণ আইন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন কেন এই গুরুত্বপূর্ণ আইন কার্যকর করা হয়নি এবং এখন কেন তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিরোধীদের অভিযোগ: নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আক্রমণ

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাঁর দাবি, একটি রাষ্ট্রীয় ভাষণকে দলীয় প্রচারে পরিণত করা হয়েছে।

খাড়গে আরও বলেন, গত ১২ বছরে উল্লেখযোগ্য কিছু দেখাতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে নেমেছেন। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্রের জন্য অপমানজনক এবং সরকারি যন্ত্রের অপব্যবহার।

Know about the New Congress President

নারী সংরক্ষণে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন

খাড়গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে কংগ্রেসের নাম বহুবার উল্লেখ করা হলেও নারীদের প্রসঙ্গ খুব কম এসেছে, যা সরকারের অগ্রাধিকারকে স্পষ্ট করে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস বরাবরই নারী সংরক্ষণের পক্ষে ছিল—২০১০ সালে রাজ্যসভায় বিল পাস এবং ২০২৩ সালের আইনেও তাদের সমর্থন ছিল।

তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান, জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে এই আইনকে না জড়িয়ে বর্তমান লোকসভা কাঠামোর মধ্যেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করতে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে সন্দেহ

বিরোধীদের অভিযোগ, নারী সংরক্ষণ আইনকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করে সরকার রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এতে নির্বাচনী মানচিত্র এমনভাবে পরিবর্তন করা হতে পারে, যা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে যাবে।

নতুন নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ

Ashok Gehlot Explains Why He Was Chosen Rajasthan Chief Minister

রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, যদি তিনি এতটাই আত্মবিশ্বাসী হন, তবে লোকসভা ভেঙে দিয়ে এই ইস্যুতেই নতুন নির্বাচনের ঘোষণা করা উচিত। এতে জনগণের প্রকৃত মতামত জানা যাবে।

ক্ষমা চাওয়ার দাবি ও ‘হিমঘর’ অভিযোগ

সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, নারী সংরক্ষণ আইন এতদিন ‘হিমঘরে’ ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে কড়া সমালোচনা

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ হওয়া উচিত নিরপেক্ষ এবং আস্থা তৈরির উদ্দেশ্যে। কিন্তু মোদির বক্তব্য ছিল পক্ষপাতদুষ্ট ও আক্রমণাত্মক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নারীদের নাম ব্যবহার করে একটি জটিল সীমানা পুনর্নির্ধারণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই পরিস্থিতিতে নারী সংরক্ষণ আইন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Statement issued By Shri Jairam Ramesh, MP, General Secretary  (Communications), AICC

জনপ্রিয় সংবাদ

সিজিমালি পাহাড়ে বক্সাইট খনন ঘিরে উত্তেজনা, আদিবাসীদের প্রতিবাদে মুখোমুখি প্রশাসন

মোদির ভাষণের পর প্রশ্নে বিরোধীরা: কেন এতদিন হিমঘরে ছিল নারী সংরক্ষণ আইন

১২:১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর নারী সংরক্ষণ আইন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন কেন এই গুরুত্বপূর্ণ আইন কার্যকর করা হয়নি এবং এখন কেন তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিরোধীদের অভিযোগ: নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আক্রমণ

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাঁর দাবি, একটি রাষ্ট্রীয় ভাষণকে দলীয় প্রচারে পরিণত করা হয়েছে।

খাড়গে আরও বলেন, গত ১২ বছরে উল্লেখযোগ্য কিছু দেখাতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে নেমেছেন। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্রের জন্য অপমানজনক এবং সরকারি যন্ত্রের অপব্যবহার।

Know about the New Congress President

নারী সংরক্ষণে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন

খাড়গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে কংগ্রেসের নাম বহুবার উল্লেখ করা হলেও নারীদের প্রসঙ্গ খুব কম এসেছে, যা সরকারের অগ্রাধিকারকে স্পষ্ট করে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস বরাবরই নারী সংরক্ষণের পক্ষে ছিল—২০১০ সালে রাজ্যসভায় বিল পাস এবং ২০২৩ সালের আইনেও তাদের সমর্থন ছিল।

তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান, জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে এই আইনকে না জড়িয়ে বর্তমান লোকসভা কাঠামোর মধ্যেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করতে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে সন্দেহ

বিরোধীদের অভিযোগ, নারী সংরক্ষণ আইনকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করে সরকার রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এতে নির্বাচনী মানচিত্র এমনভাবে পরিবর্তন করা হতে পারে, যা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে যাবে।

নতুন নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ

Ashok Gehlot Explains Why He Was Chosen Rajasthan Chief Minister

রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, যদি তিনি এতটাই আত্মবিশ্বাসী হন, তবে লোকসভা ভেঙে দিয়ে এই ইস্যুতেই নতুন নির্বাচনের ঘোষণা করা উচিত। এতে জনগণের প্রকৃত মতামত জানা যাবে।

ক্ষমা চাওয়ার দাবি ও ‘হিমঘর’ অভিযোগ

সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, নারী সংরক্ষণ আইন এতদিন ‘হিমঘরে’ ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে কড়া সমালোচনা

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ হওয়া উচিত নিরপেক্ষ এবং আস্থা তৈরির উদ্দেশ্যে। কিন্তু মোদির বক্তব্য ছিল পক্ষপাতদুষ্ট ও আক্রমণাত্মক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নারীদের নাম ব্যবহার করে একটি জটিল সীমানা পুনর্নির্ধারণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই পরিস্থিতিতে নারী সংরক্ষণ আইন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Statement issued By Shri Jairam Ramesh, MP, General Secretary  (Communications), AICC