ভারতে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের উদ্যোগে আইন পাস না হওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এনডিএ সরকার এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে সব ধরনের বাধা দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল সংসদে পাস না হওয়ার একদিন পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন।
নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে বিরোধীদের সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক পরিসরে নারীর প্রতিনিধিত্বের ধারণাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন (৬৬ শতাংশ) না পাওয়ায় বিলটি পাস করা সম্ভব হয়নি, তবে দেশের নারীদের পূর্ণ সমর্থন এই উদ্যোগের পক্ষে রয়েছে।

নারীদের কাছে ক্ষমা ও প্রতিশ্রুতি
মোদী বলেন, “আমি জানি দেশের শতভাগ নারী এই পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন। আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি এবং আশ্বস্ত করছি—এই পথে যত বাধা আছে, আমরা সব দূর করব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এই বিষয়ে অটল অবস্থানে রয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন
কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী দলগুলোর আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিলটি লোকসভায় ব্যর্থ হওয়ার সময় তারা যে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছে, তা আসলে দেশের নারীদের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের ওপর আঘাত।
নারী শক্তির প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মা-বোনেরা এই আচরণ দেখেছেন এবং অধিকার বঞ্চনার জবাব তারা যথাসময়ে দেবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নারীরা অনেক কিছু ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু মর্যাদা ও সম্মানের ওপর আঘাত কখনোই নয়।

দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আশঙ্কা
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত ৮৫০ আসনের লোকসভায় সব রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব আনুপাতিকভাবে বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আগেই আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও দক্ষিণের কয়েকটি রাজ্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।
কংগ্রেসকে ‘সংস্কারবিরোধী’ আখ্যা
মোদী কংগ্রেসকে ‘সংস্কারবিরোধী’ দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোতে বিলম্ব করে আসছে। পানি চুক্তি থেকে শুরু করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়েও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, পণ্য ও সেবা কর সংস্কার, সাধারণ শ্রেণির দরিদ্রদের জন্য সংরক্ষণ, তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ওয়াকফ বোর্ড সংস্কার এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মতো বিভিন্ন উদ্যোগেও কংগ্রেস বাধা দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















