০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে? তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠি: কিছু কথা রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান বইয়ের পাতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্বের ৭ অপূর্ব গ্রন্থাগার লুলুলেমন আনল ‘বিগ-অ্যাস ব্যাগ’, ৮০ লিটারের বিশাল টোট ব্যাগে ঢুকবে যেন পুরো সংসার শিশুদের মুখে নতুন হাসি, মিশিগানে ম্যাগির উইগস ৪ কিডস-এর ২৩তম বার্ষিক গালা নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ‘কিউটি পাই’ গোলাপ, ছোট বাগান সাজাতে দারুণ প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি বাড়িতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়

নারী সংরক্ষণ আইন ঘিরে ঘুরপাক: ‘ইউটার্ন’ ব্যর্থ, আবার পুরনো পথে সরকার

দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তার পর নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হলেও, এর বাস্তবায়ন ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পাস হওয়া আইনটি প্রায় তিন বছরের মধ্যে আবার একই জায়গায় ফিরে এসেছে।

আইন পাস থেকে বাস্তবায়ন: তিন ধাপের জটিলতা

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পথ তৈরি হয়। তবে এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে সংবিধানের সংশোধনীতে তিনটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছিল—প্রথমত আইন কার্যকর করা, দ্বিতীয়ত নতুন জনগণনা এবং তৃতীয়ত সীমানা পুনর্নির্ধারণ।

বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই দাবি করেছিল, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই আইনটি দ্রুত কার্যকর করা হোক। কিন্তু সে সময় সরকার সেই দাবি মানেনি।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামীকাল শেষ হচ্ছে। | ডিডি নিউজ অন এয়ার

নির্বাচনের আগে ‘ইউটার্ন’ ও ব্যর্থতা

২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকার হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করে। নতুন একটি সংশোধনী বিল আনা হয়, যেখানে বলা হয়—নতুন জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণে দীর্ঘ সময় লাগবে, তাই সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা উচিত।

এই প্রস্তাব কার্যত বিরোধীদের পুরনো দাবির সঙ্গে মিল ছিল। কিন্তু ১৭ এপ্রিল সংসদে বিলটি প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, ফলে তা পাস হয়নি।

হঠাৎ আইন কার্যকর: প্রশ্নের মুখে সরকার

এর মধ্যেই ১৬ এপ্রিল সরকার ২০২৩ সালের সংশোধনী আইনটি কার্যকর করে। অথচ দীর্ঘদিন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পর হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল যে নতুন সংশোধনী পাস নাও হতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে পুরনো আইন কার্যকর করার পথে হাঁটে।

বিরোধীদের নতুন দাবি

চালু হলো 'আমার আদালত'

এদিকে বিরোধীরা আবারও দাবি তুলেছে, সংবিধানের সেই অংশটি বাতিল করতে হবে, যেখানে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার আগে নতুন জনগণনা ও সীমানা নির্ধারণের শর্ত রাখা হয়েছে।

আদালতে আগের লড়াই ও বর্তমান বাস্তবতা

এই বিষয়টি নিয়ে ২০২৩ সালেই আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়—এই শর্ত সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

পরে ২০২৫ সালে একই বিষয় নিয়ে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়, যেখানে মূল প্রশ্ন ছিল—নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে এত বিলম্ব কেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আইনি জটিলতা এবং নির্বাচনী কৌশলের মধ্যে নারী সংরক্ষণ ইস্যুটি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে?

নারী সংরক্ষণ আইন ঘিরে ঘুরপাক: ‘ইউটার্ন’ ব্যর্থ, আবার পুরনো পথে সরকার

১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তার পর নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হলেও, এর বাস্তবায়ন ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পাস হওয়া আইনটি প্রায় তিন বছরের মধ্যে আবার একই জায়গায় ফিরে এসেছে।

আইন পাস থেকে বাস্তবায়ন: তিন ধাপের জটিলতা

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পথ তৈরি হয়। তবে এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে সংবিধানের সংশোধনীতে তিনটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছিল—প্রথমত আইন কার্যকর করা, দ্বিতীয়ত নতুন জনগণনা এবং তৃতীয়ত সীমানা পুনর্নির্ধারণ।

বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই দাবি করেছিল, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই আইনটি দ্রুত কার্যকর করা হোক। কিন্তু সে সময় সরকার সেই দাবি মানেনি।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামীকাল শেষ হচ্ছে। | ডিডি নিউজ অন এয়ার

নির্বাচনের আগে ‘ইউটার্ন’ ও ব্যর্থতা

২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকার হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করে। নতুন একটি সংশোধনী বিল আনা হয়, যেখানে বলা হয়—নতুন জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণে দীর্ঘ সময় লাগবে, তাই সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা উচিত।

এই প্রস্তাব কার্যত বিরোধীদের পুরনো দাবির সঙ্গে মিল ছিল। কিন্তু ১৭ এপ্রিল সংসদে বিলটি প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, ফলে তা পাস হয়নি।

হঠাৎ আইন কার্যকর: প্রশ্নের মুখে সরকার

এর মধ্যেই ১৬ এপ্রিল সরকার ২০২৩ সালের সংশোধনী আইনটি কার্যকর করে। অথচ দীর্ঘদিন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পর হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল যে নতুন সংশোধনী পাস নাও হতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে পুরনো আইন কার্যকর করার পথে হাঁটে।

বিরোধীদের নতুন দাবি

চালু হলো 'আমার আদালত'

এদিকে বিরোধীরা আবারও দাবি তুলেছে, সংবিধানের সেই অংশটি বাতিল করতে হবে, যেখানে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার আগে নতুন জনগণনা ও সীমানা নির্ধারণের শর্ত রাখা হয়েছে।

আদালতে আগের লড়াই ও বর্তমান বাস্তবতা

এই বিষয়টি নিয়ে ২০২৩ সালেই আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়—এই শর্ত সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

পরে ২০২৫ সালে একই বিষয় নিয়ে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়, যেখানে মূল প্রশ্ন ছিল—নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে এত বিলম্ব কেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আইনি জটিলতা এবং নির্বাচনী কৌশলের মধ্যে নারী সংরক্ষণ ইস্যুটি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।