লন্ডনের উত্তরাঞ্চলে একটি ইহুদি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র এক মাসের মধ্যে এটি পঞ্চম ঘটনা, যার দায় স্বীকার করেছে একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী—যাদের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগাযোগ থাকার সন্দেহ করছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে হেনডন এলাকায় অবস্থিত ‘জিউইশ ফিউচার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কার্যালয়ের সামনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বোতলভর্তি একটি ব্যাগে আগুন ধরিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। তবে আগুন পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি।
এই ভবনের নিচতলায় অফিস থাকলেও উপরের তলাগুলোতে মানুষ বসবাস করে। সৌভাগ্যবশত, এতে কেউ আহত হয়নি, শুধু সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দায় স্বীকার ও সন্দেহজনক যোগসূত্র

‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ (এইচএওয়াইআই) নামের একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করে। পুলিশের ধারণা, এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ থাকতে পারে।
একই গোষ্ঠী গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি ঘটনার দাবি করেছে—যার মধ্যে রয়েছে একটি সিনাগগে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, একটি টেলিভিশন স্টুডিওতে হামলার চেষ্টা এবং ইসরায়েলি দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি।
এর আগেও তারা একটি ইহুদি দাতব্য সংস্থার চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের দায় স্বীকার করেছিল।
পুলিশি তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনার পরপরই মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ এই ঘটনাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

ঘটনাস্থলে পাওয়া প্রমাণ
শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে পোড়া দাগ এবং সন্দেহজনক কিছু উপকরণ পাওয়া যায়। একটি ফাঁকা বোতল ও তেলের গন্ধযুক্ত কাপড় উদ্ধার করা হয়, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সেখানে পুলিশি ঘেরাও না থাকলেও পরে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়ে দ্রুত তদন্ত জোরদার করা হয়।
বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রথমে তিনি ঘটনাটিকে সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা মনে করেছিলেন। তবে পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি জানান।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যদিও এখনো সব ঘটনাকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়নি, তবে মিল থাকায় গভীরভাবে তদন্ত চলছে।
পুলিশ ধারণা করছে, এই গোষ্ঠী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনলাইন মাধ্যমে সাধারণ অপরাধীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এ ধরনের হামলায় যুক্ত করছে।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, এই ধারাবাহিক হামলা মূলত ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘মানসিক যুদ্ধ’ চালানোর একটি কৌশল।
পুলিশ সতর্ক করেছে, অর্থের লোভে এ ধরনের অপরাধে জড়ালে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং কেউ রেহাই পাবে না।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















