ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে আবারও পুরনো কৌশলে ফিরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট এবং অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার চেষ্টা করছেন।
গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানকে অপসারণের হুমকি দিয়েছেন এবং নিজের প্রশংসাসূচক ছবি প্রকাশ করেছেন। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপকে অনেকেই দেখছেন ইচ্ছাকৃতভাবে জনমতের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে।
চাপের মুখে পুরনো কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এমন কৌশল ব্যবহার করে আসছেন। কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে তিনি হঠাৎ করেই বিতর্ক তৈরি করেন, যাতে মূল ইস্যু থেকে জনমত সরে যায়। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
যুদ্ধের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট অবরোধ করতে হয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব
এই পরিস্থিতিতে তার আচরণে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক ইস্যুতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অর্থনীতি বনাম যুদ্ধ
অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরা যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা করছেন। বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সামরিক পদক্ষেপ আলোচনায় প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যৎ সমাধানের পথ তৈরি করছে।
জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক হিসাব
বর্তমানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের আচরণ তার জনপ্রিয়তায় নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ভোটারদের মনোভাব বদলাতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে কেউ কেউ তাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে বিরোধিতা শুরু করেছেন। ফলে তার নিজের দলেও ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক সহযোগীরা বলছেন, ট্রাম্পের আচরণ আগের তুলনায় আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। সমালোচনার মুখে তিনি পিছু না হটে বরং আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের চাপের মধ্যে ট্রাম্পের এই ‘মনোযোগ ঘোরানো’ কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















