সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক মাসের বেশি সময় অনলাইন ক্লাসের পর আবার সরাসরি শিক্ষায় ফেরার প্রস্তুতি চলছে। তবে স্কুল বাস পরিষেবা স্থগিত থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ আপাতত সন্তানদের অনলাইনেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাস পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত প্রতি সপ্তাহে পর্যালোচনা করা হবে। এর ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতেও পারে, তবে আপাতত অভিভাবকদের নিজস্ব ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
পরিবহনের অভাবে অনলাইনেই ঝুঁকছে পরিবার
দুবাইয়ের এক অভিভাবক জানান, স্কুল বাসের অনিশ্চয়তার কারণে তিনি শেষ মুহূর্তে ছেলেকে অনলাইন শিক্ষায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুল বাছাইয়ের সময় যেটি ছিল প্রধান বিবেচনা, সেই পরিবহন সুবিধাই এখন বড় বাধা হয়ে উঠেছে।

স্কুলগুলো পরিস্থিতি অনুযায়ী নমনীয়তা দেখাচ্ছে
শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, প্রতিটি স্কুল নিজস্বভাবে নমনীয়তা দেবে যাতে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা কম হয়। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে স্কুল, নার্সারি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরাসরি ক্লাস শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাস পরিষেবা না থাকায় এই রূপান্তর পুরোপুরি সহজ হচ্ছে না।
ছোটদের জন্য বাড়ছে সমস্যা
শারজাহর এক অভিভাবক জানিয়েছেন, বড় সন্তানরা গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারলেও ছোট সন্তানদের ক্ষেত্রে সেটি সম্ভব নয়। পাঁচ বছরের শিশুকে একা পাঠানো নিরাপদ নয় বলে তিনি মনে করেন। তাই ছোট সন্তান আপাতত অনলাইনেই ক্লাস চালিয়ে যাবে।
ট্যাক্সিই এখন ভরসা
আবুধাবির এক কর্মজীবী মা জানিয়েছেন, তিনি মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ট্যাক্সির কথা ভাবছেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০ দিরহাম খরচ হলেও, অফিসের মাঝখানে বের হওয়া বা নিজে গাড়ি চালিয়ে আনা-নেওয়ার তুলনায় এটি তার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। জ্বালানির দাম ও পার্কিং খরচ বাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারও এখন অনেকের কাছে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি বদলাবে কি দ্রুত
অভিভাবকদের আশা, দ্রুতই বাস পরিষেবা চালু হবে এবং স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে শিক্ষা ব্যবস্থা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারকেই সাময়িকভাবে অনলাইন শিক্ষা বা বিকল্প পরিবহনের পথ বেছে নিতে হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















