ভারতের মণিপুরে আবারও সহিংসতার আগুন জ্বলছে। গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। তবে এতগুলো প্রাণহানির পরও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
তদন্তে বড় বাধা সড়ক অবরোধ
বিষ্ণুপুর-চুরাচাঁদপুর সড়ক টানা ১২ দিন ধরে অবরুদ্ধ থাকায় তদন্ত কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সড়ক বন্ধ থাকায় জাতীয় তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে ৭ এপ্রিল শিশু হত্যার ঘটনায় অগ্রগতি থমকে আছে।
সরকারি সূত্র বলছে, সড়ক বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। ইম্ফল দিক থেকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চুরাচাঁদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে আসাম ও মিজোরাম থেকে সরবরাহ আনা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শিশু হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য
ঘটনার দিন দুই শিশু নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দূর থেকে ছোঁড়া বিস্ফোরক তাদের বাড়িতে আঘাত করে এবং এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি অবিস্ফোরিত যন্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে, যা একটি পাইপের মতো এবং এতে রকেটের অংশ ও তার সংযুক্ত ছিল।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি, যা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে তদন্তে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও সংঘর্ষ
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার রাস্তায় নেমে আসছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে, এতে অনেকেই আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে কিছু সামাজিক সংগঠন এই হামলার জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে, যদিও সরকারিভাবে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক
১০ এপ্রিল উখরুল জেলার লিটান এলাকায় এক সীমান্তরক্ষী সদস্য সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনা প্রমাণ করছে, পুরো রাজ্যজুড়েই নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
ক্রমাগত সহিংসতা, তদন্তে স্থবিরতা এবং জনরোষ—সব মিলিয়ে মণিপুরে অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















