১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক ঢাল: গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তিরও থাকতে হবে জবাবদিহি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন দাবার ছক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায়, অর্জনের ভিত্তিতে এগোবে নতুন সহযোগিতা কুমিল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬৭ মেরি গ্রের লড়াই: পরিসংখ্যান ও আইনের সমন্বয়ে কীভাবে বদলানো যায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াই সৃজনশীলতার সংকটে শিক্ষা: ভবিষ্যতের জন্য কি এখনও উপযোগী আমাদের স্কুল? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি: ‘বিনামূল্যের’ প্রযুক্তির আড়ালে কী লুকিয়ে আছে? মোদির পদত্যাগের ভাইরাল চিঠি সঠিক নয়, স্পষ্ট করল ভারতের সরকার

গভীর পাহাড়ের নিচে ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি, যুক্তরাষ্ট্রের বোমাও অকার্যকর হতে পারে

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দুর্বল করতে ধারাবাহিক হামলার পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন স্থাপনা এখনো অক্ষত রয়েছে—যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এই স্থাপনাটি এতটাই সুরক্ষিত যে, শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমাও হয়তো সেখানে পৌঁছাতে পারবে না।

গোপন স্থাপনার অবস্থান ও গভীরতা
ইরানের এই স্থাপনাটি ‘পিকএক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত, যা দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পাহাড়ের প্রায় ৬১০ মিটার গভীরে নির্মিত—যা আগের লক্ষ্যবস্তু ফোর্ডো স্থাপনার চেয়েও অনেক বেশি গভীরে। ফলে আকাশপথে হামলা চালিয়ে এই স্থাপনাকে ধ্বংস করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

India begins building its own 'bunker buster bomb' with huge warhead -  World News - News - Daily Express US

নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচির শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই স্থাপনাটি ভবিষ্যতে অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান হয়তো তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ এখানে গোপনে সংরক্ষণ করেছে। এই উপাদান খুব অল্প সময়ের প্রক্রিয়াতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক নজরদারির বাইরে
এই স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে এখনো প্রবেশাধিকার দেয়নি ইরান। ফলে প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। শুরুতে এটি সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কারখানা হিসেবে দাবি করা হলেও, বাস্তবে এর ব্যবহার নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সামরিক সমাধান নিয়ে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিনির্ধারক এই স্থাপনাটি ধ্বংসে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিলেও অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান চালাতে গেলে মার্কিন বাহিনীকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।

Iran's mysterious Pickaxe Mountain a 'candidate' for new nuclear activities  - ABC News

কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে। সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে এই গোপন স্থাপনাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।

অতীত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
ইতিপূর্বে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ইরান তাদের একটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টরের কার্যক্রম বন্ধ করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন এই স্থাপনাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্থাপনাটি যতদিন অক্ষত থাকবে, ততদিন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ

গভীর পাহাড়ের নিচে ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি, যুক্তরাষ্ট্রের বোমাও অকার্যকর হতে পারে

০৯:২৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দুর্বল করতে ধারাবাহিক হামলার পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন স্থাপনা এখনো অক্ষত রয়েছে—যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এই স্থাপনাটি এতটাই সুরক্ষিত যে, শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমাও হয়তো সেখানে পৌঁছাতে পারবে না।

গোপন স্থাপনার অবস্থান ও গভীরতা
ইরানের এই স্থাপনাটি ‘পিকএক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত, যা দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পাহাড়ের প্রায় ৬১০ মিটার গভীরে নির্মিত—যা আগের লক্ষ্যবস্তু ফোর্ডো স্থাপনার চেয়েও অনেক বেশি গভীরে। ফলে আকাশপথে হামলা চালিয়ে এই স্থাপনাকে ধ্বংস করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

India begins building its own 'bunker buster bomb' with huge warhead -  World News - News - Daily Express US

নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচির শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই স্থাপনাটি ভবিষ্যতে অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান হয়তো তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ এখানে গোপনে সংরক্ষণ করেছে। এই উপাদান খুব অল্প সময়ের প্রক্রিয়াতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক নজরদারির বাইরে
এই স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে এখনো প্রবেশাধিকার দেয়নি ইরান। ফলে প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। শুরুতে এটি সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কারখানা হিসেবে দাবি করা হলেও, বাস্তবে এর ব্যবহার নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সামরিক সমাধান নিয়ে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিনির্ধারক এই স্থাপনাটি ধ্বংসে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিলেও অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান চালাতে গেলে মার্কিন বাহিনীকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।

Iran's mysterious Pickaxe Mountain a 'candidate' for new nuclear activities  - ABC News

কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে। সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে এই গোপন স্থাপনাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।

অতীত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
ইতিপূর্বে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ইরান তাদের একটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টরের কার্যক্রম বন্ধ করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন এই স্থাপনাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্থাপনাটি যতদিন অক্ষত থাকবে, ততদিন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে।