০৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত জাপানের বইপাড়ায় পর্যটনের ঢল: ভাষার বাধা, বদলাবে কি ঐতিহ্য? দক্ষিণ লেবাননে ‘বাফার জোন’ ধারণা ভ্রান্ত, শান্তির পথ নয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গ ভোট ২০২৬: প্রথম দফায় দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৬২.১৮%, সহিংসতা ও ইভিএম সমস্যায় উত্তেজনা ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে ট্রাক ভাড়া ৫ হাজার টাকা বেড়েছে, যাত্রাপিছু খরচ এখন ২২ হাজারের কাছাকাছি সিলেট-শেরপুর রুটে ট্রাক ভাড়া ৫ হাজার থেকে বেড়ে ৭ হাজার টাকা নিক্কি ২২৫ সূচক ইতিহাসে প্রথমবার ৬০ হাজার ছাড়াল রাজশাহীতে ট্রাক ভাড়া ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে, কৃষক-ব্যবসায়ীরা চাপে চট্টগ্রামে ট্রাক ভাড়া প্রতি ট্রিপে ভাড়া বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা

হরমুজ খুললেও জ্বালানি সংকট কাটবে না—মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে গেলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটবে না—এমনই আশঙ্কা বাড়ছে। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধাক্কা এতটাই গভীর যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে সপ্তাহ নয়, বরং মাস কিংবা আরও বেশি।

সংকটের মূল কারণ কী
হরমুজ প্রণালীকে অনেকেই জ্বালানি প্রবাহের “নিয়ন্ত্রণ ভালভ” হিসেবে দেখেন। এটি পুরোপুরি খোলা থাকলেও তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে হলে প্রয়োজন আস্থা। কিন্তু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ফলে জাহাজ কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে।

এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেক তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের বন্ধ থাকা কূপ চালু করতে আগ্রহী নয়। তারা অপেক্ষা করছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তার জন্য।

Reopening the Strait of Hormuz is easier said than done. Here's why | CBC

দাম কমার আশা কম
যুদ্ধের আগে যে দামে জ্বালানি পাওয়া যেত, সেই স্তরে দাম দ্রুত ফিরে আসবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহকৃত তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকছে। এর ফলে জ্বালানির খরচও কমছে না।

বিশেষ করে বিমান জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো কিছু পণ্যের সংকট কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।

সরবরাহে বড় ধাক্কা
যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ৮০টির বেশি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অনেকগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

এই ক্ষতি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব নয়। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

জাহাজ চলাচল ও বাস্তবতা
যদি হরমুজ দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়, তাহলে প্রথমে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এশিয়া ও ইউরোপের দিকে রওনা দেবে। একই সঙ্গে খালি জাহাজগুলো নতুন করে জ্বালানি তুলতে পারবে।

এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে, কারণ সরবরাহ শৃঙ্খল ইতিমধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল শুরু

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কেমন হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট এখন আর শুধু প্রণালী খোলা বা বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে। যতদিন পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি বা সমঝোতা না হয়, ততদিন জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকবেই।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত

হরমুজ খুললেও জ্বালানি সংকট কাটবে না—মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা

০৯:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে গেলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটবে না—এমনই আশঙ্কা বাড়ছে। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধাক্কা এতটাই গভীর যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে সপ্তাহ নয়, বরং মাস কিংবা আরও বেশি।

সংকটের মূল কারণ কী
হরমুজ প্রণালীকে অনেকেই জ্বালানি প্রবাহের “নিয়ন্ত্রণ ভালভ” হিসেবে দেখেন। এটি পুরোপুরি খোলা থাকলেও তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে হলে প্রয়োজন আস্থা। কিন্তু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ফলে জাহাজ কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে।

এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেক তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের বন্ধ থাকা কূপ চালু করতে আগ্রহী নয়। তারা অপেক্ষা করছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তার জন্য।

Reopening the Strait of Hormuz is easier said than done. Here's why | CBC

দাম কমার আশা কম
যুদ্ধের আগে যে দামে জ্বালানি পাওয়া যেত, সেই স্তরে দাম দ্রুত ফিরে আসবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহকৃত তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকছে। এর ফলে জ্বালানির খরচও কমছে না।

বিশেষ করে বিমান জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো কিছু পণ্যের সংকট কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।

সরবরাহে বড় ধাক্কা
যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ৮০টির বেশি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অনেকগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

এই ক্ষতি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব নয়। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

জাহাজ চলাচল ও বাস্তবতা
যদি হরমুজ দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়, তাহলে প্রথমে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এশিয়া ও ইউরোপের দিকে রওনা দেবে। একই সঙ্গে খালি জাহাজগুলো নতুন করে জ্বালানি তুলতে পারবে।

এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে, কারণ সরবরাহ শৃঙ্খল ইতিমধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল শুরু

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কেমন হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট এখন আর শুধু প্রণালী খোলা বা বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে। যতদিন পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি বা সমঝোতা না হয়, ততদিন জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকবেই।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।