০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত জাপানের বইপাড়ায় পর্যটনের ঢল: ভাষার বাধা, বদলাবে কি ঐতিহ্য? দক্ষিণ লেবাননে ‘বাফার জোন’ ধারণা ভ্রান্ত, শান্তির পথ নয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গ ভোট ২০২৬: প্রথম দফায় দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৬২.১৮%, সহিংসতা ও ইভিএম সমস্যায় উত্তেজনা ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে ট্রাক ভাড়া ৫ হাজার টাকা বেড়েছে, যাত্রাপিছু খরচ এখন ২২ হাজারের কাছাকাছি সিলেট-শেরপুর রুটে ট্রাক ভাড়া ৫ হাজার থেকে বেড়ে ৭ হাজার টাকা নিক্কি ২২৫ সূচক ইতিহাসে প্রথমবার ৬০ হাজার ছাড়াল রাজশাহীতে ট্রাক ভাড়া ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে, কৃষক-ব্যবসায়ীরা চাপে চট্টগ্রামে ট্রাক ভাড়া প্রতি ট্রিপে ভাড়া বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা

যুদ্ধের মাঝেই বিক্রির চেষ্টা: ইউক্রেনের শিল্প বাঁচাতে বেসরকারিকরণে বড় বাধা

যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বোঝা কমাতে ইউক্রেন এখন জোর দিচ্ছে বেসরকারিকরণে। কিন্তু বাস্তবে এই উদ্যোগের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধের ঝুঁকি ও দুর্নীতির ইতিহাস।

ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ওডেসা পোর্টসাইড প্ল্যান্ট—যা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী কারখানা—এই সংকটের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। সরকার এটি বিক্রির জন্য তুললেও শেষ পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখায়নি।

যুদ্ধের ক্ষতি ও বিনিয়োগকারীদের ভয়
কারখানাটির বিশাল অবকাঠামো, বন্দরের সুবিধা এবং উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রুশ হামলায় কারখানার বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে, ছাদে গর্ত দেখা গেছে, এমনকি নিয়মিত বিমান হামলার সতর্কতাও জারি হয়। এই অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের দ্বিধায় ফেলছে।

যুদ্ধের শুরুতে রাসায়নিক বিস্ফোরণের আশঙ্কায় সার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি মূলত শস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে, যা এর মূল শিল্প সম্ভাবনাকে আড়াল করে দিয়েছে।

Got $100 Million? Ukraine Has Just the Fertilizer Plant for You. - The New  York Times

দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা
কারখানাটি শুধু যুদ্ধের ঝুঁকিতেই নয়, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও আর্থিক জটিলতার সঙ্গেও জড়িয়ে। অতীতে একাধিকবার বিক্রির চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বড় অঙ্কের ঋণ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

২০০৯ সালে এক উচ্চমূল্যের নিলাম জিতেও শেষ পর্যন্ত বিক্রি বাতিল হয়েছিল, যা এই প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতার গভীরতা প্রকাশ করে।

বেসরকারিকরণই কি সমাধান?
সরকার মনে করছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করতে বেসরকারিকরণই সবচেয়ে কার্যকর পথ। এতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা আসবে এবং অর্থনীতিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

ইউক্রেনের নীতিনির্ধারকদের মতে, দ্রুত বেসরকারিকরণ হলে বাজেট ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতির আধুনিকায়ন সম্ভব হবে।

Got $100 Million? Ukraine Has Just the Fertilizer Plant for You. - The New  York Times

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা
সরকার আবারও গ্রীষ্মের দিকে নতুন করে নিলাম আহ্বানের পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন বিদেশি বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখালেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো শক্তিশালী দেশের বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসে, তাহলে তা রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ চলাকালীন বড় বিনিয়োগ আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

এই কারখানার ভবিষ্যৎ বিক্রি শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং যুদ্ধকালীন ইউক্রেনের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনারও একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত

যুদ্ধের মাঝেই বিক্রির চেষ্টা: ইউক্রেনের শিল্প বাঁচাতে বেসরকারিকরণে বড় বাধা

০৯:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বোঝা কমাতে ইউক্রেন এখন জোর দিচ্ছে বেসরকারিকরণে। কিন্তু বাস্তবে এই উদ্যোগের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধের ঝুঁকি ও দুর্নীতির ইতিহাস।

ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ওডেসা পোর্টসাইড প্ল্যান্ট—যা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী কারখানা—এই সংকটের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। সরকার এটি বিক্রির জন্য তুললেও শেষ পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখায়নি।

যুদ্ধের ক্ষতি ও বিনিয়োগকারীদের ভয়
কারখানাটির বিশাল অবকাঠামো, বন্দরের সুবিধা এবং উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রুশ হামলায় কারখানার বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে, ছাদে গর্ত দেখা গেছে, এমনকি নিয়মিত বিমান হামলার সতর্কতাও জারি হয়। এই অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের দ্বিধায় ফেলছে।

যুদ্ধের শুরুতে রাসায়নিক বিস্ফোরণের আশঙ্কায় সার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি মূলত শস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে, যা এর মূল শিল্প সম্ভাবনাকে আড়াল করে দিয়েছে।

Got $100 Million? Ukraine Has Just the Fertilizer Plant for You. - The New  York Times

দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা
কারখানাটি শুধু যুদ্ধের ঝুঁকিতেই নয়, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও আর্থিক জটিলতার সঙ্গেও জড়িয়ে। অতীতে একাধিকবার বিক্রির চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বড় অঙ্কের ঋণ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

২০০৯ সালে এক উচ্চমূল্যের নিলাম জিতেও শেষ পর্যন্ত বিক্রি বাতিল হয়েছিল, যা এই প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতার গভীরতা প্রকাশ করে।

বেসরকারিকরণই কি সমাধান?
সরকার মনে করছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করতে বেসরকারিকরণই সবচেয়ে কার্যকর পথ। এতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা আসবে এবং অর্থনীতিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

ইউক্রেনের নীতিনির্ধারকদের মতে, দ্রুত বেসরকারিকরণ হলে বাজেট ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতির আধুনিকায়ন সম্ভব হবে।

Got $100 Million? Ukraine Has Just the Fertilizer Plant for You. - The New  York Times

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা
সরকার আবারও গ্রীষ্মের দিকে নতুন করে নিলাম আহ্বানের পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন বিদেশি বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখালেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো শক্তিশালী দেশের বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসে, তাহলে তা রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ চলাকালীন বড় বিনিয়োগ আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

এই কারখানার ভবিষ্যৎ বিক্রি শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং যুদ্ধকালীন ইউক্রেনের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনারও একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হবে।