ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের সফর স্থগিত করা হয়েছে। মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে—আলোচনার প্রস্তাবে ইরানের অনিশ্চিত অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর এই সপ্তাহেই হওয়ার কথা ছিল। সেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সেই সফর আপাতত থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ‘স্থগিত’ অবস্থায়
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি, তবে কার্যত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এখন থেমে আছে। ইরান এখনো আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেয়নি। ফলে পরিকল্পিত বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। ভ্যান্সের সঙ্গে বিশেষ দূতদেরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় হোয়াইট হাউস সফর না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে চাপ বজায়
এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখতে চাইছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপও বজায় রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে ইরানকে একটি ‘একক প্রস্তাব’ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য একটি পরিষ্কার ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরতে বলা হচ্ছে।
আলোচনা কি আদৌ হবে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে নির্ধারিত বৈঠক হওয়া নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে এমন অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান যদি গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব দেয়, তাহলে খুব দ্রুতই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। এমনকি সফর পরিকল্পনাও হঠাৎ করেই পুনরায় চালু হতে পারে।
সামনে কী হতে পারে
এই মুহূর্তে পুরো পরিস্থিতি নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখালে নতুন করে কূটনৈতিক গতি আসতে পারে। আর যদি নীরবতা অব্যাহত থাকে, তাহলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এই অচলাবস্থা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, তেলের বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব গভীর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















