ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধে WhatsApp বার্তাকে অনেকে শক্তিশালী প্রমাণ মনে করেন। কিন্তু দুবাইয়ের সর্বোচ্চ আদালতের এক সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে, শুধু স্ক্রিনশট বা মেসেজ দেখালেই তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। আগে দেখতে হবে বার্তাটি আসল কি না, কে পাঠিয়েছে, এবং সেটি আইনগত মানদণ্ড পূরণ করছে কি না।
কী বলেছে আদালত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পারিবারিক বিরোধে এক নারী দাবি করেন, তাঁর স্বামী WhatsApp বার্তার মাধ্যমে তাকে তালাক দিয়েছেন। নিম্ন আদালত বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করায় পরবর্তীতে দুবাই কোর্ট অব ক্যাসেশন মামলাটি আবার বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠায়। আদালত জোর দিয়ে বলে, ডিজিটাল বার্তার সত্যতা, প্রেরক এবং প্রাসঙ্গিকতা যাচাই না করে সেটিকে প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না।

বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, WhatsApp বার্তা সম্পাদনা, বাছাই করে উপস্থাপন, বা প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি টাইমস্ট্যাম্প বা প্রেরক সংক্রান্ত তথ্যও বিভ্রান্তিকর হতে পারে, যদি তা ফরেনসিকভাবে যাচাই না করা হয়।
এটি শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনো পারিবারিক মামলার খবর নয়। বরং ডিজিটাল যোগাযোগকে আইনের চোখে কীভাবে দেখা হচ্ছে, সেটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এখন ব্যক্তিগত কথোপকথন, প্রতিশ্রুতি, আর্থিক লেনদেনের আলাপ, এমনকি পারিবারিক সিদ্ধান্তও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হয়। ফলে এসব বার্তা পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় এসে পড়তে পারে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও এই ধরনের খবর বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ প্রবাসজীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগই হয় WhatsApp-এ। ফলে কোন বার্তা কেবল কথোপকথন, আর কোনটি পরে আইনি গুরুত্ব পেতে পারে—সেই সচেতনতা জরুরি।
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য শিক্ষা
এই রায়ের মূল শিক্ষা হলো, ডিজিটাল যোগাযোগকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। স্ক্রিনশট দেখিয়ে দাবি তোলা সহজ, কিন্তু আদালতে টিকতে হলে তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণভিত্তি লাগবে। তাই ব্যক্তিগত, আর্থিক বা পারিবারিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বার্তা পাঠানোর সময় সতর্ক থাকা দরকার।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















