গত ১৩ বছর ধরে আমি এমন জায়গাগুলোর দিকে টান অনুভব করেছি, যেখানে ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন সংঘাত তৈরি হয়—সেই মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরায় ধরার চেষ্টা করেছি। আমার কাজের শুরু সবসময় একইভাবে—সরাসরি সেখানে উপস্থিত হওয়া। আমি কোনো সহকারী, স্থানীয় সহযোগী বা চালকের ওপর নির্ভর করি না। বিশেষ অনুমতি নেওয়া বা বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে কাজ করাও আমার পদ্ধতি নয়। অধিকাংশ সময় আমি একাই ঘুরে বেড়াই, নিজের মতো করে দেখি ও অনুভব করি।
শুরুতে আমি ভেবেছিলাম, এই ছবিগুলো আলাদা আলাদা প্রকল্প—যেগুলো ভৌগোলিকভাবে নির্ধারিত। ইউক্রেন, হংকং, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, মিশর, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন জায়গার ছবি আলাদা করে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝতে পারলাম, এই ছবিগুলোকে শুধু জায়গার ভিত্তিতে ভাগ করা যায় না। বরং তাদের মধ্যে যে মিল রয়েছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংঘাত, প্রতিরোধ ও মানুষের শক্তি
আমি এমন অনেক আন্দোলনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, যেগুলো নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে। আবার এমন বিপ্লবও দেখেছি, যা সরকারকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা রাস্তার আন্দোলনগুলোর শক্তি ও আবেগ আমি কাছ থেকে দেখেছি। এসব ছবি একসঙ্গে একটি বড় চিত্র তৈরি করে—যেখানে দেখা যায় মানুষের সমাবেশ, সামাজিক অস্থিরতা, কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি, নিপীড়ন এবং সরাসরি যুদ্ধের বাস্তবতা।
এই সবকিছুই আসলে একই ধরনের সংগ্রামের ভিন্ন ভিন্ন রূপ—একটি বিশ্বব্যাপী বাস্তবতা, যেখানে মানুষের জীবন ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী শক্তির সঙ্গে সংঘর্ষে গড়ে উঠছে।
আশা ও প্রতিরোধের বার্তা
এই ছবিগুলোর কিছু আমাদের মনে করিয়ে দেয় ব্যর্থতা ও পিছু হটার কথা। তবে কিছু ছবি আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথও দেখায়। সেই পথ তৈরি হয় ক্ষোভ থেকে, কিন্তু শুধু ক্ষোভ নয়—এর সঙ্গে থাকে মানুষের পারস্পরিক সংহতি ও আশা।
এই দীর্ঘ যাত্রায় তোলা প্রতিটি ছবি যেন একটি গল্প বলে—মানুষের লড়াই, ভয়, সাহস এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার গল্প।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















