০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা আবার দেখলে নতুন কী ধরা পড়ে সেজ সবুজে বসন্তের নরম ছোঁয়া, ফ্যাশনে নতুন ভারসাম্যের গল্প                 ব্রিজেট জোন্সের আগের রেনি জেলওয়েগার: পুরনো ছবিতে ফিরে দেখা তার শুরুর দিনগুলো জোই ক্রাভিটজের আঙুলে রহস্যময় আংটি, হ্যারি স্টাইলসকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকায় টানাপোড়েন: একসঙ্গে আয়োজন, কিন্তু সম্পর্কের ভাঙন আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদে ভাটা: গণভোটের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা পেরুর নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা: ভোটের উৎসব থেকে অনিশ্চয়তার গভীর সংকট সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

রাশিয়ায় টানা অষ্টমবার সুদ কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধেও নীতি শিথিল

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও মূল সুদের হার কমিয়েছে। শুক্রবার ব্যাংক অব রাশিয়া নীতি সুদহার ১৫.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪.৫ শতাংশে নামায়। এটি ছিল টানা অষ্টম বৈঠকে সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালে রাশিয়ার নীতি সুদহার ২১ শতাংশে উঠেছিল, সেখান থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদ বাড়ানোর কথা ভাবছে। কিন্তু রাশিয়া উল্টো পথে হাঁটছে। ব্যাংক অব রাশিয়া বলেছে, মূল্যস্ফীতির গতি কতটা টেকসইভাবে কমে, তা দেখে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে আরও সুদ কমানোর প্রয়োজন আছে কি না, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তেলের দাম বাড়লেও রাশিয়ার অবস্থান কিছুটা আলাদা

রাশিয়া বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশ। তাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে যেসব আমদানিনির্ভর অর্থনীতি বেশি চাপে পড়ে, রাশিয়া তাদের মতো ঝুঁকিতে নেই। বরং তেলের দাম বাড়লে রুশ অর্থনীতি কিছুটা বাড়তি আয় পেতে পারে।

তবে এর আরেক দিকও আছে। জ্বালানির বেশি দাম অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সম্প্রতি ২০২৬ সালে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.১ শতাংশ করেছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উচ্চ পণ্যদামের কথা বলা হয়েছে। তবে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ০.৫ থেকে ১.৫ শতাংশের মধ্যেই রেখেছে।

Russian central bank trims key rate to 7.5%, says easing could be over soon  | Reuters

কর বৃদ্ধি, দুর্বল বিনিয়োগ ও ধীর ভোক্তা চাহিদা

ব্যাংক অব রাশিয়া জানিয়েছে, বছরের প্রথম তিন মাসে অর্থনীতির গতি কমেছে বলে মনে হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কর বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পড়ছে। যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে এবং এর চাপ বাজেট, শ্রমবাজার ও শিল্প উৎপাদনের ওপর পড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষায়, বিনিয়োগ কার্যক্রম এখনও দুর্বল। একই সঙ্গে ভোক্তা চাহিদার প্রবৃদ্ধিও ধীর হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উভয় দিক থেকেই অর্থনীতিতে সতর্কতার ছাপ দেখা যাচ্ছে।

শ্রমবাজারেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য সেনা সংখ্যা বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন, দুই কারণে দীর্ঘদিন শ্রমবাজার খুব টানটান ছিল। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সেই চাপ কিছুটা কমছে।

নীতি সুদ কমানোর ঝুঁকি কোথায়

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়লে রাশিয়াতেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব হলো, দেশীয় চাহিদা ধীর হচ্ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার লক্ষণ আছে।

এই কারণে আপাতত মস্কো অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে নীতি শিথিল রাখছে। কিন্তু তেলের দাম, যুদ্ধব্যয়, করনীতি এবং ভোক্তা চাহিদা—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার মুদ্রানীতির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ

রাশিয়ায় টানা অষ্টমবার সুদ কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধেও নীতি শিথিল

০৬:৪১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও মূল সুদের হার কমিয়েছে। শুক্রবার ব্যাংক অব রাশিয়া নীতি সুদহার ১৫.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪.৫ শতাংশে নামায়। এটি ছিল টানা অষ্টম বৈঠকে সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালে রাশিয়ার নীতি সুদহার ২১ শতাংশে উঠেছিল, সেখান থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদ বাড়ানোর কথা ভাবছে। কিন্তু রাশিয়া উল্টো পথে হাঁটছে। ব্যাংক অব রাশিয়া বলেছে, মূল্যস্ফীতির গতি কতটা টেকসইভাবে কমে, তা দেখে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে আরও সুদ কমানোর প্রয়োজন আছে কি না, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তেলের দাম বাড়লেও রাশিয়ার অবস্থান কিছুটা আলাদা

রাশিয়া বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশ। তাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে যেসব আমদানিনির্ভর অর্থনীতি বেশি চাপে পড়ে, রাশিয়া তাদের মতো ঝুঁকিতে নেই। বরং তেলের দাম বাড়লে রুশ অর্থনীতি কিছুটা বাড়তি আয় পেতে পারে।

তবে এর আরেক দিকও আছে। জ্বালানির বেশি দাম অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সম্প্রতি ২০২৬ সালে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.১ শতাংশ করেছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উচ্চ পণ্যদামের কথা বলা হয়েছে। তবে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ০.৫ থেকে ১.৫ শতাংশের মধ্যেই রেখেছে।

Russian central bank trims key rate to 7.5%, says easing could be over soon  | Reuters

কর বৃদ্ধি, দুর্বল বিনিয়োগ ও ধীর ভোক্তা চাহিদা

ব্যাংক অব রাশিয়া জানিয়েছে, বছরের প্রথম তিন মাসে অর্থনীতির গতি কমেছে বলে মনে হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কর বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পড়ছে। যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে এবং এর চাপ বাজেট, শ্রমবাজার ও শিল্প উৎপাদনের ওপর পড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষায়, বিনিয়োগ কার্যক্রম এখনও দুর্বল। একই সঙ্গে ভোক্তা চাহিদার প্রবৃদ্ধিও ধীর হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উভয় দিক থেকেই অর্থনীতিতে সতর্কতার ছাপ দেখা যাচ্ছে।

শ্রমবাজারেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য সেনা সংখ্যা বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন, দুই কারণে দীর্ঘদিন শ্রমবাজার খুব টানটান ছিল। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সেই চাপ কিছুটা কমছে।

নীতি সুদ কমানোর ঝুঁকি কোথায়

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়লে রাশিয়াতেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব হলো, দেশীয় চাহিদা ধীর হচ্ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার লক্ষণ আছে।

এই কারণে আপাতত মস্কো অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে নীতি শিথিল রাখছে। কিন্তু তেলের দাম, যুদ্ধব্যয়, করনীতি এবং ভোক্তা চাহিদা—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার মুদ্রানীতির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।