১০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন এফবিআইয়ের বিতর্কিত অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট ইরান পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, পাকিস্তানে যাচ্ছেন উইটকফ ও কুশনার সবুজ প্রতিশ্রুতির রাজনীতি: কথার চেয়ে কাজে কতটা এগোবে বাংলা? ‘জয় বাংলা’ বলা নিষিদ্ধ কোথায়—প্রশ্ন তুলে ইমির মুক্তির দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে প্রতিবাদ কলকাতার অভিজাত রাশবিহারী কেন্দ্রে বিজেপির মতাদর্শিক মুখ বনাম তৃণমূলের অভিজ্ঞ যোদ্ধা—জমে উঠেছে লড়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ নিয়ে বিতর্ক: ১ কোটি টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার, আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার রিফাতের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাইবার প্রতারণা দমনে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া পদক্ষেপ, কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা ৩০ বছরের চুক্তির শেষ বছরে গঙ্গা ইস্যু, নতুন বাস্তবতায় সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ রাতের বাসযাত্রা থেকে নিখোঁজ, ১২ ঘণ্টা পর কুমিল্লার ফুটপাতে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ

এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন এফবিআইয়ের বিতর্কিত অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার ইতিহাসে ‘কয়েন্টেলপ্রো’ নামটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের এক অস্বস্তিকর প্রতীক। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম নামে পরিচিত এই কর্মসূচি নিয়ে ১৯৭৬ সালে সিনেটের চার্চ কমিটির প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছিল, এফবিআই গোপনে উগ্রবাদী সংগঠনের ভেতরে তথ্যদাতা বসিয়েছিল, তাদের অর্থ দিয়েছিল এবং পরিচালনা করেছিল। বাইরে থেকে বলা হচ্ছিল, লক্ষ্য সহিংসতা দমন। কিন্তু বাস্তবে নজরদারি, অনুপ্রবেশ ও প্ররোচনার সীমারেখা বহু ক্ষেত্রে ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল।

এবার একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত নাগরিক অধিকার সংগঠন সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার বা এসপিএলসিকে ঘিরে। আলাবামার মন্টগোমারিতে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি এসপিএলসির বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের ‘বর্ণবাদবিরোধী’ সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেওয়া এসপিএলসি তার ইন্টেলিজেন্স প্রকল্পের মাধ্যমে এমন এক গোপন নেটওয়ার্ক চালিয়েছে, যা তারা বহু বছর ধরে নিন্দা করে আসা এফবিআইয়ের পুরোনো কৌশলের সঙ্গে অস্বস্তিকরভাবে মিলে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এসপিএলসি দাতাদের অর্থ থেকে ৩০ লাখ ডলারের বেশি টাকা দিয়েছে সহিংস উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একদল তথ্যদাতাকে। তাদের বলা হতো ‘ফিল্ড সোর্স’। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা শুধু পর্যবেক্ষক ছিলেন না। বরং অনেকে সক্রিয় সদস্য, চাঁদা দেওয়া অংশগ্রহণকারী এবং অনলাইন-অফলাইনে বর্ণবাদী উত্তেজনা বাড়ানোর ভূমিকায় ছিলেন।

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, এক তথ্যদাতা ২০১৭ সালের ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে অনুষ্ঠিত ‘ইউনাইট দ্য রাইট’ সমাবেশের পরিকল্পনায় সহায়তা করেন, এসপিএলসির তত্ত্বাবধানে অনলাইনে বর্ণবাদী পোস্ট করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের পরিবহনের ব্যবস্থাতেও ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে ২ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছিল। আরেকজন, যিনি নব্য নাৎসি সংগঠন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ, তিনি এসপিএলসির কাছ থেকে ১০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন। তৃতীয় একজনকে নাকি ৬ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল এমন এক চুরির দায় নিজের ওপর নেওয়ার জন্য, যা আসলে ওই ১০ লাখ ডলার পাওয়া তথ্যদাতা করেছিলেন।

SPLC charged with defrauding donors with payments to extremist informants :  NPR

গোপন অর্থপ্রবাহের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, এসপিএলসির ইন্টেলিজেন্স প্রকল্প অর্থ লেনদেন গোপন রাখতে ভুয়া শেল প্রতিষ্ঠানের জাল ব্যবহার করেছিল। অভিযোগে এমন নামের প্রতিষ্ঠানের কথা এসেছে, যেমন ফক্স ফটোগ্রাফি ও সেন্টার ইনভেস্টিগেটিভ এজেন্সি। ইলেকট্রনিক অর্থপ্রবাহের ক্ষেত্রে এমন পরিচিতি ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন রেয়ারবুকস০৫০, যাতে অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল থাকে।

এই জায়গাতেই লেখক চন্দ্রা বোজেলকো এফবিআইয়ের কয়েন্টেলপ্রোর সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। পার্থক্য অবশ্য আছে। সত্তরের দশকে এফবিআই সরকারি বাজেট ব্যবহার করেছিল। সেই বাজেট কংগ্রেস পাস করলেও কার্যকর নজরদারি ছিল দুর্বল। কঠিন প্রশ্নগুলো আসে পরে, চার্চ কমিটির তদন্তে। এসপিএলসির ক্ষেত্রে অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি আরও আলাদা মাত্রা পাবে, কারণ এখানে ব্যবহার হয়েছে দাতাদের অর্থ। মানুষ যে অর্থ দিয়েছে নাগরিক অধিকার রক্ষার নামে, সেই অর্থ যদি উগ্রবাদী কার্যক্রমের ভেতরে সক্রিয় অংশগ্রহণের পেছনে যায়, তবে সেটি শুধু আইনি নয়, নৈতিক আস্থারও বড় প্রশ্ন।

এসপিএলসি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, অভিযোগগুলো মিথ্যা। তবে লেখকের যুক্তি হলো, অভিযোগ সত্য হলে একটি নাগরিক অধিকারভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন সেই ধরনের মডেল তৈরি করেছে, যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে নিজেই বহু বছর ধরে নিজের নৈতিক অবস্থান গড়ে তুলেছিল।

ন্যায্যতা দেখানোর পুরোনো যুক্তি

এসপিএলসির অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান ফেয়ার বলেছেন, সংগঠনটি যখন তথ্যদাতাদের সঙ্গে কাজ শুরু করে, তখন তারা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সহিংস উত্তরাধিকার, চার্চে বোমা হামলা, বিক্ষোভকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং বিচারহীন হত্যার স্মৃতির ভেতর বাস করছিল। তাঁর দাবি, তথ্যদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য জীবন বাঁচিয়েছে।

লেখকের মতে, এ যুক্তি নতুন নয়। এফবিআইও কয়েন্টেলপ্রোর পক্ষে একই ধরনের কথা বলেছিল। বলা হয়েছিল, তখনকার সময় ছিল অস্থিরতা ও সহিংসতার যুগ। ফেডারেল প্রসিকিউটররা আজও অনেক ‘স্টিং অপারেশন’ বা ফাঁদ পেতে পরিচালিত অভিযানের পক্ষে একই যুক্তি দেন, যদিও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বহু মানুষ এসবকে প্ররোচনামূলক বা অন্যায় বলে সমালোচনা করেন।

মূল প্রশ্ন তাই এখানেই। বিপজ্জনক লক্ষ্য ঠেকাতে গিয়ে যদি গোপন, জবাবদিহিহীন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তবে তা কি গ্রহণযোগ্য? লেখকের মতে, এই যুক্তি রাষ্ট্রের মুখে যেমন সন্দেহজনক, অলাভজনক সংগঠনের মুখেও তেমনই সন্দেহজনক। বিপদের দোহাই দিয়ে অন্ধকারে পরিচালিত ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত সমস্যাকে দমন করে, নাকি তাকে দীর্ঘায়িত করে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

SPLC vows to fight federal charges, claims they are politically motivated

রাজনীতি ও অভিযোগের জটিলতা

এসপিএলসির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে নয়, সেটিও লেখক অস্বীকার করেন না। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তটি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং বাইডেন প্রশাসনের সময় তা স্থগিত ছিল, পরে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আবার সামনে আনা হয়। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল গত বছর চার্লি কার্ক হত্যার পর এসপিএলসিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট কলঙ্ক ছড়ানোর যন্ত্র’ বলেছিলেন।

এসপিএলসি যখন বলে তারা বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, সেই অভিযোগ একেবারে অমূলক নয়। কিন্তু লেখকের অবস্থান হলো, প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলেও তা অভিযোগের সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করে না। অভিযোগগুলো গুরুতর। সেগুলো বিচার, প্রমাণ ও জনসমক্ষে কঠিন আলোচনার দাবি রাখে।

বিশেষ করে যারা কয়েন্টেলপ্রোর ইতিহাস বোঝেন, তাদের কাছে এই মামলা আরও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। কারণ অতীতের শিক্ষা শুধু রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নয়। একই শিক্ষা যে কোনো ক্ষমতাশালী প্রতিষ্ঠান, এমনকি নৈতিক ভাষায় কথা বলা অলাভজনক সংগঠনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

দাতাদের আস্থার প্রশ্ন

এই মামলার আরেকটি বড় দিক হলো দাতাদের আস্থা। মিশনভিত্তিক সংগঠনগুলো, বিশেষ করে প্রগতিশীল বা নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো, সাধারণত নৈতিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করে। দাতারা ধরে নেন, তাদের অর্থ ঘোষিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু সেই আস্থা কতটা যাচাই করা হয়, সেটি প্রায়ই প্রশ্নের বাইরে থেকে যায়।

এসপিএলসি সাম্প্রতিক দশকগুলোতে নৈতিক অবস্থান ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর ভর করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে। ২০২৪ সালে সংগঠনটির সম্পদের পরিমাণ ৭০ কোটি ডলারের বেশি ছিল বলে তাদের কর নথির ভিত্তিতে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ দেশের বাইরে রাখা।

চার্চ কমিটি শেষ পর্যন্ত সরাসরি এই সিদ্ধান্তে যায়নি যে কয়েন্টেলপ্রো ইচ্ছাকৃতভাবে উগ্রবাদ টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে স্পষ্ট ছিল, নজরদারি ও অংশগ্রহণের সীমা মুছে গেলে তথ্যদাতারা কার্যক্রম চালু রাখার প্রণোদনা পেতে পারে। অর্থাৎ উগ্রবাদ তখন আর শুধু সমাধানযোগ্য সমস্যা থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে অর্থ, প্রভাব ও প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পণ্য।

এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব এখানেই। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হবে কি না, তা বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়। কিন্তু এই বিতর্ক মনে করিয়ে দিচ্ছে, নৈতিক ভাষা কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জবাবদিহির বাইরে রাখে না। উগ্রবাদবিরোধী কাজ যদি গোপন অর্থপ্রবাহ, প্ররোচনামূলক অংশগ্রহণ ও দাতাদের অজান্তে পরিচালিত নেটওয়ার্কের ওপর দাঁড়ায়, তবে প্রশ্ন শুধু আইনের নয়, বিশ্বাসেরও।

এসপিএলসির বিরুদ্ধে তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক ও গোপন অর্থপ্রবাহের অভিযোগ এফবিআইয়ের কয়েন্টেলপ্রো বিতর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

এসপিএলসি অভিযোগ

এসপিএলসির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার সংগঠন, দাতাদের আস্থা এবং গোপন তথ্যদাতা ব্যবহারের সীমা নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালত সিদ্ধান্ত দেবে অভিযোগ কতটা সত্য, কিন্তু প্রশ্নটি এখনই জরুরি: নৈতিক উদ্দেশ্যের আড়ালে জবাবদিহিহীন ক্ষমতা কত দূর যেতে পারে?

#এসপিএলসি #যুক্তরাষ্ট্র #নাগরিকঅধিকার #কয়েন্টেলপ্রো #এফবিআই #উগ্রবাদ #আইন #রাজনীতি #দাতা #SouthernPovertyLawCenter #SPLC #FBI #Cointelpro #USPolitics #CivilRights

এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন এফবিআইয়ের বিতর্কিত অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে

এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন এফবিআইয়ের বিতর্কিত অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে

০৮:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার ইতিহাসে ‘কয়েন্টেলপ্রো’ নামটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের এক অস্বস্তিকর প্রতীক। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম নামে পরিচিত এই কর্মসূচি নিয়ে ১৯৭৬ সালে সিনেটের চার্চ কমিটির প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছিল, এফবিআই গোপনে উগ্রবাদী সংগঠনের ভেতরে তথ্যদাতা বসিয়েছিল, তাদের অর্থ দিয়েছিল এবং পরিচালনা করেছিল। বাইরে থেকে বলা হচ্ছিল, লক্ষ্য সহিংসতা দমন। কিন্তু বাস্তবে নজরদারি, অনুপ্রবেশ ও প্ররোচনার সীমারেখা বহু ক্ষেত্রে ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল।

এবার একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত নাগরিক অধিকার সংগঠন সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার বা এসপিএলসিকে ঘিরে। আলাবামার মন্টগোমারিতে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি এসপিএলসির বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের ‘বর্ণবাদবিরোধী’ সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেওয়া এসপিএলসি তার ইন্টেলিজেন্স প্রকল্পের মাধ্যমে এমন এক গোপন নেটওয়ার্ক চালিয়েছে, যা তারা বহু বছর ধরে নিন্দা করে আসা এফবিআইয়ের পুরোনো কৌশলের সঙ্গে অস্বস্তিকরভাবে মিলে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এসপিএলসি দাতাদের অর্থ থেকে ৩০ লাখ ডলারের বেশি টাকা দিয়েছে সহিংস উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একদল তথ্যদাতাকে। তাদের বলা হতো ‘ফিল্ড সোর্স’। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা শুধু পর্যবেক্ষক ছিলেন না। বরং অনেকে সক্রিয় সদস্য, চাঁদা দেওয়া অংশগ্রহণকারী এবং অনলাইন-অফলাইনে বর্ণবাদী উত্তেজনা বাড়ানোর ভূমিকায় ছিলেন।

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, এক তথ্যদাতা ২০১৭ সালের ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে অনুষ্ঠিত ‘ইউনাইট দ্য রাইট’ সমাবেশের পরিকল্পনায় সহায়তা করেন, এসপিএলসির তত্ত্বাবধানে অনলাইনে বর্ণবাদী পোস্ট করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের পরিবহনের ব্যবস্থাতেও ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে ২ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছিল। আরেকজন, যিনি নব্য নাৎসি সংগঠন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ, তিনি এসপিএলসির কাছ থেকে ১০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন। তৃতীয় একজনকে নাকি ৬ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল এমন এক চুরির দায় নিজের ওপর নেওয়ার জন্য, যা আসলে ওই ১০ লাখ ডলার পাওয়া তথ্যদাতা করেছিলেন।

SPLC charged with defrauding donors with payments to extremist informants :  NPR

গোপন অর্থপ্রবাহের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, এসপিএলসির ইন্টেলিজেন্স প্রকল্প অর্থ লেনদেন গোপন রাখতে ভুয়া শেল প্রতিষ্ঠানের জাল ব্যবহার করেছিল। অভিযোগে এমন নামের প্রতিষ্ঠানের কথা এসেছে, যেমন ফক্স ফটোগ্রাফি ও সেন্টার ইনভেস্টিগেটিভ এজেন্সি। ইলেকট্রনিক অর্থপ্রবাহের ক্ষেত্রে এমন পরিচিতি ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন রেয়ারবুকস০৫০, যাতে অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল থাকে।

এই জায়গাতেই লেখক চন্দ্রা বোজেলকো এফবিআইয়ের কয়েন্টেলপ্রোর সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। পার্থক্য অবশ্য আছে। সত্তরের দশকে এফবিআই সরকারি বাজেট ব্যবহার করেছিল। সেই বাজেট কংগ্রেস পাস করলেও কার্যকর নজরদারি ছিল দুর্বল। কঠিন প্রশ্নগুলো আসে পরে, চার্চ কমিটির তদন্তে। এসপিএলসির ক্ষেত্রে অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি আরও আলাদা মাত্রা পাবে, কারণ এখানে ব্যবহার হয়েছে দাতাদের অর্থ। মানুষ যে অর্থ দিয়েছে নাগরিক অধিকার রক্ষার নামে, সেই অর্থ যদি উগ্রবাদী কার্যক্রমের ভেতরে সক্রিয় অংশগ্রহণের পেছনে যায়, তবে সেটি শুধু আইনি নয়, নৈতিক আস্থারও বড় প্রশ্ন।

এসপিএলসি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, অভিযোগগুলো মিথ্যা। তবে লেখকের যুক্তি হলো, অভিযোগ সত্য হলে একটি নাগরিক অধিকারভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন সেই ধরনের মডেল তৈরি করেছে, যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে নিজেই বহু বছর ধরে নিজের নৈতিক অবস্থান গড়ে তুলেছিল।

ন্যায্যতা দেখানোর পুরোনো যুক্তি

এসপিএলসির অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান ফেয়ার বলেছেন, সংগঠনটি যখন তথ্যদাতাদের সঙ্গে কাজ শুরু করে, তখন তারা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সহিংস উত্তরাধিকার, চার্চে বোমা হামলা, বিক্ষোভকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং বিচারহীন হত্যার স্মৃতির ভেতর বাস করছিল। তাঁর দাবি, তথ্যদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য জীবন বাঁচিয়েছে।

লেখকের মতে, এ যুক্তি নতুন নয়। এফবিআইও কয়েন্টেলপ্রোর পক্ষে একই ধরনের কথা বলেছিল। বলা হয়েছিল, তখনকার সময় ছিল অস্থিরতা ও সহিংসতার যুগ। ফেডারেল প্রসিকিউটররা আজও অনেক ‘স্টিং অপারেশন’ বা ফাঁদ পেতে পরিচালিত অভিযানের পক্ষে একই যুক্তি দেন, যদিও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বহু মানুষ এসবকে প্ররোচনামূলক বা অন্যায় বলে সমালোচনা করেন।

মূল প্রশ্ন তাই এখানেই। বিপজ্জনক লক্ষ্য ঠেকাতে গিয়ে যদি গোপন, জবাবদিহিহীন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তবে তা কি গ্রহণযোগ্য? লেখকের মতে, এই যুক্তি রাষ্ট্রের মুখে যেমন সন্দেহজনক, অলাভজনক সংগঠনের মুখেও তেমনই সন্দেহজনক। বিপদের দোহাই দিয়ে অন্ধকারে পরিচালিত ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত সমস্যাকে দমন করে, নাকি তাকে দীর্ঘায়িত করে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

SPLC vows to fight federal charges, claims they are politically motivated

রাজনীতি ও অভিযোগের জটিলতা

এসপিএলসির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে নয়, সেটিও লেখক অস্বীকার করেন না। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তটি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং বাইডেন প্রশাসনের সময় তা স্থগিত ছিল, পরে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আবার সামনে আনা হয়। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল গত বছর চার্লি কার্ক হত্যার পর এসপিএলসিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট কলঙ্ক ছড়ানোর যন্ত্র’ বলেছিলেন।

এসপিএলসি যখন বলে তারা বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, সেই অভিযোগ একেবারে অমূলক নয়। কিন্তু লেখকের অবস্থান হলো, প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলেও তা অভিযোগের সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করে না। অভিযোগগুলো গুরুতর। সেগুলো বিচার, প্রমাণ ও জনসমক্ষে কঠিন আলোচনার দাবি রাখে।

বিশেষ করে যারা কয়েন্টেলপ্রোর ইতিহাস বোঝেন, তাদের কাছে এই মামলা আরও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। কারণ অতীতের শিক্ষা শুধু রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নয়। একই শিক্ষা যে কোনো ক্ষমতাশালী প্রতিষ্ঠান, এমনকি নৈতিক ভাষায় কথা বলা অলাভজনক সংগঠনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

দাতাদের আস্থার প্রশ্ন

এই মামলার আরেকটি বড় দিক হলো দাতাদের আস্থা। মিশনভিত্তিক সংগঠনগুলো, বিশেষ করে প্রগতিশীল বা নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো, সাধারণত নৈতিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করে। দাতারা ধরে নেন, তাদের অর্থ ঘোষিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু সেই আস্থা কতটা যাচাই করা হয়, সেটি প্রায়ই প্রশ্নের বাইরে থেকে যায়।

এসপিএলসি সাম্প্রতিক দশকগুলোতে নৈতিক অবস্থান ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর ভর করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে। ২০২৪ সালে সংগঠনটির সম্পদের পরিমাণ ৭০ কোটি ডলারের বেশি ছিল বলে তাদের কর নথির ভিত্তিতে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ দেশের বাইরে রাখা।

চার্চ কমিটি শেষ পর্যন্ত সরাসরি এই সিদ্ধান্তে যায়নি যে কয়েন্টেলপ্রো ইচ্ছাকৃতভাবে উগ্রবাদ টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে স্পষ্ট ছিল, নজরদারি ও অংশগ্রহণের সীমা মুছে গেলে তথ্যদাতারা কার্যক্রম চালু রাখার প্রণোদনা পেতে পারে। অর্থাৎ উগ্রবাদ তখন আর শুধু সমাধানযোগ্য সমস্যা থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে অর্থ, প্রভাব ও প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পণ্য।

এসপিএলসির বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব এখানেই। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হবে কি না, তা বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়। কিন্তু এই বিতর্ক মনে করিয়ে দিচ্ছে, নৈতিক ভাষা কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জবাবদিহির বাইরে রাখে না। উগ্রবাদবিরোধী কাজ যদি গোপন অর্থপ্রবাহ, প্ররোচনামূলক অংশগ্রহণ ও দাতাদের অজান্তে পরিচালিত নেটওয়ার্কের ওপর দাঁড়ায়, তবে প্রশ্ন শুধু আইনের নয়, বিশ্বাসেরও।

এসপিএলসির বিরুদ্ধে তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক ও গোপন অর্থপ্রবাহের অভিযোগ এফবিআইয়ের কয়েন্টেলপ্রো বিতর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

এসপিএলসি অভিযোগ

এসপিএলসির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার সংগঠন, দাতাদের আস্থা এবং গোপন তথ্যদাতা ব্যবহারের সীমা নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালত সিদ্ধান্ত দেবে অভিযোগ কতটা সত্য, কিন্তু প্রশ্নটি এখনই জরুরি: নৈতিক উদ্দেশ্যের আড়ালে জবাবদিহিহীন ক্ষমতা কত দূর যেতে পারে?

#এসপিএলসি #যুক্তরাষ্ট্র #নাগরিকঅধিকার #কয়েন্টেলপ্রো #এফবিআই #উগ্রবাদ #আইন #রাজনীতি #দাতা #SouthernPovertyLawCenter #SPLC #FBI #Cointelpro #USPolitics #CivilRights