০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো চীনের নতুন রহস্যময় পারমাণবিক সাবমেরিন ঘিরে উদ্বেগ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত বাংলাদেশে হামের মৃত্যু বেড়ে ৮৩১, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়, প্রযুক্তিকে পাশে নিয়েই শিক্ষা সংস্কার রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ব্রিটিশদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্য সরকারের এক শীর্ষ মন্ত্রী। যুদ্ধ শেষ হলেও অন্তত আট মাস পর্যন্ত উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধির চাপ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সময়ের সীমা নির্ধারণে প্রথম সরকারি ইঙ্গিত
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সচিব ড্যারেন জোনস জানিয়েছেন, সংঘাতের সরাসরি সমাধান হলেও অর্থনীতিতে এর প্রভাব দ্রুত কমবে না। তার ভাষায়, “সংঘাত শেষ হওয়ার পরও অন্তত আট মাস বা তার বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক প্রভাব পুরো ব্যবস্থায় প্রবাহিত হতে থাকবে।” এটি প্রথমবারের মতো কোনো মন্ত্রী এই সংকটের প্রভাবের সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করলেন।

জ্বালানি ও খাদ্য খাতে চাপ বাড়ছেই
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য সময় ধরে উচ্চ অবস্থায় থাকবে। একইসঙ্গে বিমান ভাড়াও বাড়তে পারে, কারণ জেট ফুয়েলের দাম ইতিমধ্যে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপ আরও বাড়বে।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
এই পরিস্থিতির বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাজ্যের বাজারে। জোনস জানান, আলোচনার মাধ্যমে প্রণালীটি পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

Brits face higher prices for eight months after Iran war ends, warns top minister - The Mirror

সরকারি প্রস্তুতি ও উদ্বেগ
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ পরিকল্পনা দল গঠন করেছে, যা সপ্তাহে দু’বার বৈঠক করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করছে। বিশেষ করে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির সরবরাহ এবং দামের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

এছাড়া খাদ্যশিল্পে ব্যবহৃত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্ভাব্য সংকট নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জ্বালানি বিল ও মূল্যস্ফীতি
সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যসীমা বৃদ্ধির কারণে জুলাই মাস থেকেই গৃহস্থালি জ্বালানি বিল বছরে প্রায় ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে করে ইতিমধ্যে কমতে থাকা মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার গড়ে প্রায় ১৮৯.৫৯ পেন্স এবং পেট্রোল ১৫৭.২২ পেন্সে দাঁড়িয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দাম কিছুটা কমেছে, তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

সমষ্টিগত প্রভাব
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। সরকারের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় লাগবে এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তির সম্ভাবনা কম।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ব্রিটিশ অর্থনীতিতে অন্তত আট মাস থাকবে, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার

০৮:০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ব্রিটিশদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্য সরকারের এক শীর্ষ মন্ত্রী। যুদ্ধ শেষ হলেও অন্তত আট মাস পর্যন্ত উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধির চাপ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সময়ের সীমা নির্ধারণে প্রথম সরকারি ইঙ্গিত
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সচিব ড্যারেন জোনস জানিয়েছেন, সংঘাতের সরাসরি সমাধান হলেও অর্থনীতিতে এর প্রভাব দ্রুত কমবে না। তার ভাষায়, “সংঘাত শেষ হওয়ার পরও অন্তত আট মাস বা তার বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক প্রভাব পুরো ব্যবস্থায় প্রবাহিত হতে থাকবে।” এটি প্রথমবারের মতো কোনো মন্ত্রী এই সংকটের প্রভাবের সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করলেন।

জ্বালানি ও খাদ্য খাতে চাপ বাড়ছেই
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য সময় ধরে উচ্চ অবস্থায় থাকবে। একইসঙ্গে বিমান ভাড়াও বাড়তে পারে, কারণ জেট ফুয়েলের দাম ইতিমধ্যে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপ আরও বাড়বে।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
এই পরিস্থিতির বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাজ্যের বাজারে। জোনস জানান, আলোচনার মাধ্যমে প্রণালীটি পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

Brits face higher prices for eight months after Iran war ends, warns top minister - The Mirror

সরকারি প্রস্তুতি ও উদ্বেগ
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ পরিকল্পনা দল গঠন করেছে, যা সপ্তাহে দু’বার বৈঠক করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করছে। বিশেষ করে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির সরবরাহ এবং দামের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

এছাড়া খাদ্যশিল্পে ব্যবহৃত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্ভাব্য সংকট নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জ্বালানি বিল ও মূল্যস্ফীতি
সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যসীমা বৃদ্ধির কারণে জুলাই মাস থেকেই গৃহস্থালি জ্বালানি বিল বছরে প্রায় ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে করে ইতিমধ্যে কমতে থাকা মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার গড়ে প্রায় ১৮৯.৫৯ পেন্স এবং পেট্রোল ১৫৭.২২ পেন্সে দাঁড়িয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দাম কিছুটা কমেছে, তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

সমষ্টিগত প্রভাব
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। সরকারের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় লাগবে এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তির সম্ভাবনা কম।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ব্রিটিশ অর্থনীতিতে অন্তত আট মাস থাকবে, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা।