১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
১৩০ বছরের ঐতিহাসিক ঘড়ির নতুন জীবন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে বিশেষ আয়োজন তুরস্ককে ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রিতে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দুর্যোগের দিনে টিকে থাকার পাঠ: কেন বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব বিশ্বকাপের বল নিয়ে গোলরক্ষকদের দুশ্চিন্তা, প্রশ্নের উত্তর দিলেন জো হার্ট ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা সিয়াটলে ইরান-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রংধনু পতাকা নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক থেকে অপেরা: পাখি, অন্ধকার রহস্য আর গথিক আবহে নতুন রূপ ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলছেন বিজ্ঞানীরা

ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প

ইন্দোনেশিয়ার একেবারে স্থানীয় এক কল্পিত আচার—‘সামবেতন’—নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘পারা পেরাসুক’ এখন আন্তর্জাতিক দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। পশ্চিমা দর্শকের সামনে এমন অচেনা, ভিন্নধর্মী গল্প কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—এ নিয়ে শুরুতে সংশয়ে ছিলেন অভিনেত্রী আঙ্গুন ও মাউডি আয়ুন্দা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

স্থানীয় গল্প, বৈশ্বিক আবেগ

‘পারা পেরাসুক’ এমন এক কল্পিত শহর লাতাসকে কেন্দ্র করে, যেখানে ‘সামবেতন’ নামে এক বিশেষ আচার পালিত হয়। এই আচার অনুযায়ী মানুষ নাচের মাধ্যমে এক ধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গিয়ে পশুর আত্মায় আচ্ছন্ন হয়। যদিও এই আচার বাস্তব নয়, নির্মাতা এমনভাবে গল্পের ভিত গড়েছেন যে তা বাস্তবের মতোই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

এই সিনেমার মূল শক্তি এর আবেগঘন গল্প। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার সংগ্রাম—এই বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে দর্শকের কাছে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য। সেই কারণেই একেবারে স্থানীয় গল্পও আন্তর্জাতিকভাবে সাড়া ফেলেছে।

চরিত্র ও দ্বন্দ্বের গভীরতা

ছবির কেন্দ্রে রয়েছে বায়ু নামের এক তরুণ, যে বিরল আত্মাকে আয়ত্ত করে গ্রামের নেতা হতে চায়। কিন্তু প্রতিযোগিতা ও গ্রাম উচ্ছেদের সংকটের মধ্যে পড়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—নিজের স্বপ্ন নাকি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।

এই দ্বন্দ্বই ছবিকে আবেগময় করে তুলেছে। বাস্তব জীবনের মতোই এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও সামাজিক দায়িত্বের সংঘর্ষ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গি

এই ছবির পরিচালক এমনভাবে ‘সামবেতন’ আচারকে গড়ে তুলেছেন, যেন এটি বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোকজ সংস্কৃতির অংশ। আচারটির নিজস্ব নিয়ম, ভূমিকা ও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে, যা গল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অভিনেত্রী আঙ্গুন শুরুতে নির্মাতার প্রস্তাবে সাড়া দেননি। কিন্তু পরে তাঁর আগের কাজ দেখে এবং গল্পের গভীরতা বুঝে তিনি ছবিতে যুক্ত হন। তাঁর চরিত্রে একাধিক মন্ত্র ও সংগীতের ব্যবহার ছিল, যা অভিনয়কে আরও জটিল করে তোলে।

অভিনয়ের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ

মাউডি আয়ুন্দা, যিনি লাক্সমি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাঁকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। চরিত্রটি এমন এক ব্যক্তির, যে স্বেচ্ছায় আত্মা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়। এই অভিজ্ঞতাকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

বিভিন্ন প্রাণীর চলনভঙ্গি অনুকরণ করা থেকে শুরু করে আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ—সবকিছুই তাঁকে আয়ত্ত করতে হয়েছে। কারণ এই আচার ভয় নয়, বরং আনন্দের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

Why this unusual exhibit on waste really wasn’t about waste

আন্তর্জাতিক সাফল্যের পথে

ছবিটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পেয়েছে এবং অস্কারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য মনোনয়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একটি সম্পূর্ণ স্থানীয় গল্পও যে বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে, তা প্রমাণ করা।

এই সাফল্য দেখিয়েছে, যত বেশি সত্যনিষ্ঠভাবে একটি গল্প তার নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরে, তত বেশি তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি ও কল্পনার মিশেলে তৈরি এই সিনেমা এখন প্রমাণ করেছে—গল্প যদি হৃদয়ের কথা বলে, তবে ভাষা ও ভৌগোলিক সীমা কোনো বাধা নয়।

ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় আচার ‘সামবেতন’কে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘পারা পেরাসুক’ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে, প্রমাণ করছে স্থানীয় গল্পের বৈশ্বিক শক্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩০ বছরের ঐতিহাসিক ঘড়ির নতুন জীবন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে বিশেষ আয়োজন

ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প

০৮:২২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার একেবারে স্থানীয় এক কল্পিত আচার—‘সামবেতন’—নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘পারা পেরাসুক’ এখন আন্তর্জাতিক দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। পশ্চিমা দর্শকের সামনে এমন অচেনা, ভিন্নধর্মী গল্প কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—এ নিয়ে শুরুতে সংশয়ে ছিলেন অভিনেত্রী আঙ্গুন ও মাউডি আয়ুন্দা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

স্থানীয় গল্প, বৈশ্বিক আবেগ

‘পারা পেরাসুক’ এমন এক কল্পিত শহর লাতাসকে কেন্দ্র করে, যেখানে ‘সামবেতন’ নামে এক বিশেষ আচার পালিত হয়। এই আচার অনুযায়ী মানুষ নাচের মাধ্যমে এক ধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গিয়ে পশুর আত্মায় আচ্ছন্ন হয়। যদিও এই আচার বাস্তব নয়, নির্মাতা এমনভাবে গল্পের ভিত গড়েছেন যে তা বাস্তবের মতোই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

এই সিনেমার মূল শক্তি এর আবেগঘন গল্প। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার সংগ্রাম—এই বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে দর্শকের কাছে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য। সেই কারণেই একেবারে স্থানীয় গল্পও আন্তর্জাতিকভাবে সাড়া ফেলেছে।

চরিত্র ও দ্বন্দ্বের গভীরতা

ছবির কেন্দ্রে রয়েছে বায়ু নামের এক তরুণ, যে বিরল আত্মাকে আয়ত্ত করে গ্রামের নেতা হতে চায়। কিন্তু প্রতিযোগিতা ও গ্রাম উচ্ছেদের সংকটের মধ্যে পড়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—নিজের স্বপ্ন নাকি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।

এই দ্বন্দ্বই ছবিকে আবেগময় করে তুলেছে। বাস্তব জীবনের মতোই এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও সামাজিক দায়িত্বের সংঘর্ষ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গি

এই ছবির পরিচালক এমনভাবে ‘সামবেতন’ আচারকে গড়ে তুলেছেন, যেন এটি বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোকজ সংস্কৃতির অংশ। আচারটির নিজস্ব নিয়ম, ভূমিকা ও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে, যা গল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অভিনেত্রী আঙ্গুন শুরুতে নির্মাতার প্রস্তাবে সাড়া দেননি। কিন্তু পরে তাঁর আগের কাজ দেখে এবং গল্পের গভীরতা বুঝে তিনি ছবিতে যুক্ত হন। তাঁর চরিত্রে একাধিক মন্ত্র ও সংগীতের ব্যবহার ছিল, যা অভিনয়কে আরও জটিল করে তোলে।

অভিনয়ের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ

মাউডি আয়ুন্দা, যিনি লাক্সমি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাঁকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। চরিত্রটি এমন এক ব্যক্তির, যে স্বেচ্ছায় আত্মা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়। এই অভিজ্ঞতাকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

বিভিন্ন প্রাণীর চলনভঙ্গি অনুকরণ করা থেকে শুরু করে আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ—সবকিছুই তাঁকে আয়ত্ত করতে হয়েছে। কারণ এই আচার ভয় নয়, বরং আনন্দের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

Why this unusual exhibit on waste really wasn’t about waste

আন্তর্জাতিক সাফল্যের পথে

ছবিটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পেয়েছে এবং অস্কারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য মনোনয়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একটি সম্পূর্ণ স্থানীয় গল্পও যে বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে, তা প্রমাণ করা।

এই সাফল্য দেখিয়েছে, যত বেশি সত্যনিষ্ঠভাবে একটি গল্প তার নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরে, তত বেশি তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি ও কল্পনার মিশেলে তৈরি এই সিনেমা এখন প্রমাণ করেছে—গল্প যদি হৃদয়ের কথা বলে, তবে ভাষা ও ভৌগোলিক সীমা কোনো বাধা নয়।

ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় আচার ‘সামবেতন’কে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘পারা পেরাসুক’ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে, প্রমাণ করছে স্থানীয় গল্পের বৈশ্বিক শক্তি।