০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার আমেরিকায় হাম ফিরে আসছে: টিকাদানে শিথিলতা, সামনে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা ৩০ হাজার হামলা, তবু জয় নেই: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কি সত্যিই এগিয়ে?

শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার নদীগুলোতে ‘সাপুসাপু’ নামে পরিচিত আগ্রাসী এক প্রজাতির মাছের আধিপত্য এখন বড় পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। একসময় শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য আনা এই মাছই এখন নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে দিচ্ছে, ফলে প্রশাসন বাধ্য হয়ে সরাসরি অভিযান শুরু করেছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ৭০ হাজার মাছ ধরা হয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ৭ টন। এসব মাছ পরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব জাকার্তার বিভিন্ন নদীতে পরবর্তী ধাপে আরও অভিযান চালিয়ে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা হয়।

নদীর ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মাছ নদীর পাড়ে গর্ত করে বাঁধ দুর্বল করে দেয়, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জাকার্তার কিছু নদীতে মোট জীববৈচিত্র্যের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন এই মাছ দ্বারা দখল হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় মাছের প্রজাতি দ্রুত বিলুপ্তির পথে।

এই প্রজাতির বিস্তারের কারণ
দক্ষিণ আমেরিকার জলাশয় থেকে আসা এই মাছ ১৯৭০-এর দশকে শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় আনা হয়। পরে তা প্রাকৃতিক পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই মাছের বংশবিস্তার ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি—একবারে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত ডিম দিতে পারে, এবং অধিকাংশই টিকে থাকে। পাশাপাশি দূষিত ও অক্সিজেন কম পানিতেও এরা সহজে বেঁচে থাকতে পারে, যা অন্য প্রজাতির তুলনায় তাদের শক্তিশালী করে তোলে।

Jakarta Begins Mass Removal of Invasive 'Janitor Fish'

গবেষণা ও পরিবেশগত প্রভাব
গবেষকদের মতে, এই মাছের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ইতিমধ্যেই স্থানীয় মাছের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। নদীর দীর্ঘদিনের দূষণ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যেখানে অন্য মাছ টিকে থাকতে পারে না, সেখানে এই প্রজাতি সহজেই বিস্তার ঘটাচ্ছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ
জাকার্তা প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযান শুধুমাত্র মাছ ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নদীর পানি পরিষ্কার করা, নিয়মিত নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও এর অংশ। কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মাছ ধরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। নদীর পানির গুণগত মান উন্নত না হলে এই মাছের আধিপত্য কমানো কঠিন হবে। কারণ দূষিত পরিবেশই এই প্রজাতির দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ।

বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
জাকার্তার নদীগুলোর দীর্ঘদিনের দূষণ এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। ফলে শুধু অভিযান নয়, পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

তবে প্রশাসনের আশা, ধারাবাহিক অভিযান এবং পরিবেশ সংস্কার একসঙ্গে চালানো গেলে নদীর জীববৈচিত্র্য ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান

শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ

০৮:১৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার নদীগুলোতে ‘সাপুসাপু’ নামে পরিচিত আগ্রাসী এক প্রজাতির মাছের আধিপত্য এখন বড় পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। একসময় শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য আনা এই মাছই এখন নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে দিচ্ছে, ফলে প্রশাসন বাধ্য হয়ে সরাসরি অভিযান শুরু করেছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ৭০ হাজার মাছ ধরা হয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ৭ টন। এসব মাছ পরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব জাকার্তার বিভিন্ন নদীতে পরবর্তী ধাপে আরও অভিযান চালিয়ে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা হয়।

নদীর ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মাছ নদীর পাড়ে গর্ত করে বাঁধ দুর্বল করে দেয়, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জাকার্তার কিছু নদীতে মোট জীববৈচিত্র্যের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন এই মাছ দ্বারা দখল হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় মাছের প্রজাতি দ্রুত বিলুপ্তির পথে।

এই প্রজাতির বিস্তারের কারণ
দক্ষিণ আমেরিকার জলাশয় থেকে আসা এই মাছ ১৯৭০-এর দশকে শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় আনা হয়। পরে তা প্রাকৃতিক পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই মাছের বংশবিস্তার ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি—একবারে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত ডিম দিতে পারে, এবং অধিকাংশই টিকে থাকে। পাশাপাশি দূষিত ও অক্সিজেন কম পানিতেও এরা সহজে বেঁচে থাকতে পারে, যা অন্য প্রজাতির তুলনায় তাদের শক্তিশালী করে তোলে।

Jakarta Begins Mass Removal of Invasive 'Janitor Fish'

গবেষণা ও পরিবেশগত প্রভাব
গবেষকদের মতে, এই মাছের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ইতিমধ্যেই স্থানীয় মাছের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। নদীর দীর্ঘদিনের দূষণ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যেখানে অন্য মাছ টিকে থাকতে পারে না, সেখানে এই প্রজাতি সহজেই বিস্তার ঘটাচ্ছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ
জাকার্তা প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযান শুধুমাত্র মাছ ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নদীর পানি পরিষ্কার করা, নিয়মিত নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও এর অংশ। কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মাছ ধরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। নদীর পানির গুণগত মান উন্নত না হলে এই মাছের আধিপত্য কমানো কঠিন হবে। কারণ দূষিত পরিবেশই এই প্রজাতির দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ।

বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
জাকার্তার নদীগুলোর দীর্ঘদিনের দূষণ এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। ফলে শুধু অভিযান নয়, পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

তবে প্রশাসনের আশা, ধারাবাহিক অভিযান এবং পরিবেশ সংস্কার একসঙ্গে চালানো গেলে নদীর জীববৈচিত্র্য ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।