০১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা আবার দেখলে নতুন কী ধরা পড়ে সেজ সবুজে বসন্তের নরম ছোঁয়া, ফ্যাশনে নতুন ভারসাম্যের গল্প                 ব্রিজেট জোন্সের আগের রেনি জেলওয়েগার: পুরনো ছবিতে ফিরে দেখা তার শুরুর দিনগুলো জোই ক্রাভিটজের আঙুলে রহস্যময় আংটি, হ্যারি স্টাইলসকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকায় টানাপোড়েন: একসঙ্গে আয়োজন, কিন্তু সম্পর্কের ভাঙন আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদে ভাটা: গণভোটের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা পেরুর নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা: ভোটের উৎসব থেকে অনিশ্চয়তার গভীর সংকট সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

অ্যাপলের নতুন প্রধান জন টার্নাসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ: এআই যুগে ফিরবে কি ‘ম্যাজিক’?

অ্যাপলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের সময় শুরু হতে যাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন নতুন প্রধান জন টার্নাস। দীর্ঘদিনের সফল নেতৃত্বের পর টিম কুক দায়িত্ব ছাড়ছেন, আর তার জায়গায় আসা টার্নাসের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এআই যুগে অ্যাপল কি আবার নতুন করে উদ্ভাবনের জাদু দেখাতে পারবে? সারাক্ষণ রিপোর্ট

নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট

অ্যাপল গত এক দশকে ব্যবসা ও বাজারমূল্যে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। টিম কুকের নেতৃত্বে কোম্পানির বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে, শেয়ারমূল্যও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। তবে এই সাফল্যের বড় অংশ এসেছে অপারেশনাল দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে, নতুন বিপ্লবী পণ্য তৈরির মাধ্যমে নয়। ফলে নতুন প্রধান হিসেবে টার্নাসের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—এই স্থিতিশীল সাফল্যের ধারাকে ধরে রেখে নতুন উদ্ভাবনের পথ তৈরি করা।

এআই যুগে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা

Apple's new CEO is a company man, can he help the tech giant master the AI  revolution? | The Independent

বর্তমানে প্রযুক্তি দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে। কিন্তু এই দৌড়ে অ্যাপল কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কোম্পানির নিজস্ব এআই উদ্যোগগুলো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, এমনকি তাদের ঘোষিত কিছু প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের কাছে হতাশার কারণ হয়েছে। এখন অ্যাপল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে, যা কোম্পানির জন্য এক ধরনের সতর্ক সংকেত।

হার্ডওয়্যার বনাম সফটওয়্যার কৌশল

টার্নাস মূলত হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তাই অনেকেই মনে করছেন, তার নেতৃত্বে অ্যাপল আবারও হার্ডওয়্যারকেন্দ্রিক কৌশলে জোর দেবে। আইফোন, ম্যাক ও অন্যান্য ডিভাইসকে আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং এসব ডিভাইসকে এআই ব্যবহারের প্রধান প্ল্যাটফর্ম বানানো হতে পারে তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ করে নতুন মডেলের ফোন, কম দামের ল্যাপটপ এবং ছোট আকারের কম্পিউটার ইতিমধ্যে বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। এই ধারাকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপল তার ডিভাইসের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যতে এআই অ্যাপ ও সেবার বড় বাজার তৈরি করবে।

নতুন পণ্যের খোঁজে অ্যাপল

আরও অ্যাপল পণ্যে এআই আসছে

তবে শুধু পুরোনো পণ্য উন্নত করাই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি বাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন ধরনের পণ্যেরও প্রয়োজন রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নতুন ধরনের ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে অ্যাপলকেও নতুন ধারণা নিয়ে এগোতে হবে। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডিভাইস, স্মার্ট চশমা কিংবা নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি—এসব ক্ষেত্রেই নতুন উদ্ভাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উৎপাদন ও ভূরাজনৈতিক চাপ

শুধু প্রযুক্তি নয়, উৎপাদন ব্যবস্থাও টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তবে এখন সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। নতুন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া—এই দুই দিকেই সতর্ক থাকতে হবে নতুন নেতৃত্বকে।

Meet John Ternus: The 50-year-old Apple engineer who could replace Tim Cook  as the next Apple CEO - Technology News | The Financial Express

আগামী পথ কতটা কঠিন

টার্নাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—তিনি কি শুধু কোম্পানিকে স্থিতিশীল রাখবেন, নাকি নতুন যুগের জন্য অ্যাপলকে বদলে দিতে পারবেন। কারণ তার আগে দুইজন কিংবদন্তি নেতার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সহজ কাজ নয়।

তবে কোম্পানির প্রকৌশলীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অ্যাপলকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তিনি কত দ্রুত এআই যুগে অ্যাপলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন।

 

পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ

অ্যাপলের নতুন প্রধান জন টার্নাসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ: এআই যুগে ফিরবে কি ‘ম্যাজিক’?

১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

অ্যাপলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের সময় শুরু হতে যাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন নতুন প্রধান জন টার্নাস। দীর্ঘদিনের সফল নেতৃত্বের পর টিম কুক দায়িত্ব ছাড়ছেন, আর তার জায়গায় আসা টার্নাসের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এআই যুগে অ্যাপল কি আবার নতুন করে উদ্ভাবনের জাদু দেখাতে পারবে? সারাক্ষণ রিপোর্ট

নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট

অ্যাপল গত এক দশকে ব্যবসা ও বাজারমূল্যে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। টিম কুকের নেতৃত্বে কোম্পানির বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে, শেয়ারমূল্যও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। তবে এই সাফল্যের বড় অংশ এসেছে অপারেশনাল দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে, নতুন বিপ্লবী পণ্য তৈরির মাধ্যমে নয়। ফলে নতুন প্রধান হিসেবে টার্নাসের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—এই স্থিতিশীল সাফল্যের ধারাকে ধরে রেখে নতুন উদ্ভাবনের পথ তৈরি করা।

এআই যুগে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা

Apple's new CEO is a company man, can he help the tech giant master the AI  revolution? | The Independent

বর্তমানে প্রযুক্তি দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে। কিন্তু এই দৌড়ে অ্যাপল কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কোম্পানির নিজস্ব এআই উদ্যোগগুলো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, এমনকি তাদের ঘোষিত কিছু প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের কাছে হতাশার কারণ হয়েছে। এখন অ্যাপল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে, যা কোম্পানির জন্য এক ধরনের সতর্ক সংকেত।

হার্ডওয়্যার বনাম সফটওয়্যার কৌশল

টার্নাস মূলত হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তাই অনেকেই মনে করছেন, তার নেতৃত্বে অ্যাপল আবারও হার্ডওয়্যারকেন্দ্রিক কৌশলে জোর দেবে। আইফোন, ম্যাক ও অন্যান্য ডিভাইসকে আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং এসব ডিভাইসকে এআই ব্যবহারের প্রধান প্ল্যাটফর্ম বানানো হতে পারে তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ করে নতুন মডেলের ফোন, কম দামের ল্যাপটপ এবং ছোট আকারের কম্পিউটার ইতিমধ্যে বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। এই ধারাকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপল তার ডিভাইসের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যতে এআই অ্যাপ ও সেবার বড় বাজার তৈরি করবে।

নতুন পণ্যের খোঁজে অ্যাপল

আরও অ্যাপল পণ্যে এআই আসছে

তবে শুধু পুরোনো পণ্য উন্নত করাই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি বাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন ধরনের পণ্যেরও প্রয়োজন রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নতুন ধরনের ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে অ্যাপলকেও নতুন ধারণা নিয়ে এগোতে হবে। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডিভাইস, স্মার্ট চশমা কিংবা নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি—এসব ক্ষেত্রেই নতুন উদ্ভাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উৎপাদন ও ভূরাজনৈতিক চাপ

শুধু প্রযুক্তি নয়, উৎপাদন ব্যবস্থাও টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তবে এখন সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। নতুন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া—এই দুই দিকেই সতর্ক থাকতে হবে নতুন নেতৃত্বকে।

Meet John Ternus: The 50-year-old Apple engineer who could replace Tim Cook  as the next Apple CEO - Technology News | The Financial Express

আগামী পথ কতটা কঠিন

টার্নাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—তিনি কি শুধু কোম্পানিকে স্থিতিশীল রাখবেন, নাকি নতুন যুগের জন্য অ্যাপলকে বদলে দিতে পারবেন। কারণ তার আগে দুইজন কিংবদন্তি নেতার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সহজ কাজ নয়।

তবে কোম্পানির প্রকৌশলীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অ্যাপলকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তিনি কত দ্রুত এআই যুগে অ্যাপলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন।