০১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা আবার দেখলে নতুন কী ধরা পড়ে সেজ সবুজে বসন্তের নরম ছোঁয়া, ফ্যাশনে নতুন ভারসাম্যের গল্প                 ব্রিজেট জোন্সের আগের রেনি জেলওয়েগার: পুরনো ছবিতে ফিরে দেখা তার শুরুর দিনগুলো জোই ক্রাভিটজের আঙুলে রহস্যময় আংটি, হ্যারি স্টাইলসকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকায় টানাপোড়েন: একসঙ্গে আয়োজন, কিন্তু সম্পর্কের ভাঙন আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদে ভাটা: গণভোটের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা পেরুর নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা: ভোটের উৎসব থেকে অনিশ্চয়তার গভীর সংকট সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দৌড়: ড্রোনে এগোলেও উৎপাদনে পিছিয়ে মহাদেশ

ইউরোপের যুদ্ধ প্রযুক্তি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুরুত্ব বাড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু প্রযুক্তি উন্নয়নে অগ্রগতি থাকলেও বড় আকারে উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে ইউরোপের প্রতিরক্ষা খাত—এমনই বাস্তবতা উঠে আসছে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও ড্রোনের গুরুত্ব

বিশ্বজুড়ে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা এখন একমত—ড্রোন ও মানববিহীন প্রযুক্তিই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোনের ব্যবহার কিংবা ইউক্রেন যুদ্ধের ট্রেঞ্চে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ড্রোনের প্রভাব এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানি ইতিমধ্যে আকাশপথের ড্রোনের পাশাপাশি স্থল ও জলপথে চলতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করছে। এসব প্রযুক্তির শক্তি মূলত সফটওয়্যারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য দিয়ে নিয়মিত আপডেট করা হয়।

খণ্ডিত বাজার বড় বাধা

Drones, Dollars, and Disruption

তবে ইউরোপের সবচেয়ে বড় সমস্যা বাজারের খণ্ডিত কাঠামো। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে একটি বড় ক্রেতা—পেন্টাগন—থেকে বিশাল চুক্তি পাওয়া যায়, সেখানে ইউরোপে প্রায় ৩০টি দেশের আলাদা আলাদা চাহিদা মেটাতে হয়। ফলে প্রতিটি দেশে আলাদা প্রকৌশল ও উন্নয়ন দল গঠন করতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও জটিল। এক দেশের ভিত্তিতে কাজ করে অন্য দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা এখানে সহজ নয়।

দ্রুত পুরোনো হয়ে যাওয়ার ভয়

ড্রোনের মতো প্রযুক্তির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পুরোনো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীরা অনেক সময় এসব অস্ত্র মজুত করতে চান না, কারণ প্রযুক্তি দ্রুত বদলে যায়। এর সমাধান হিসেবে নতুন ধরনের চুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে বড় মজুত না করেও প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রচলিত অস্ত্র বনাম নতুন প্রযুক্তি

Drones | Pros, Cons, Debate, Arguments, Controversy, Warfare, Military,  Bombs, Missiles, & War on Terror | Britannica

ইউরোপে এখনও বিতর্ক চলছে—ড্রোন ও সফটওয়্যারভিত্তিক অস্ত্রের তুলনায় ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও আর্টিলারির মতো প্রচলিত অস্ত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ ড্রোনের গুরুত্ব দেখালেও তা সব যুদ্ধের চিত্র বদলে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি কেবল ঘাটতি পূরণ করেছে, কিন্তু সিদ্ধান্তমূলক বিজয় এনে দিতে পারেনি।

ছোট প্রতিষ্ঠান, বড় সম্ভাবনা

এই সব কারণেই ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখনও আমেরিকার তুলনায় অনেক ছোট। তবুও আশার দিক রয়েছে। জার্মানি ইতিমধ্যে নিজ দেশের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ড্রোন কিনতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় অর্থায়ন পরিকল্পনাও স্থানীয় সরবরাহকারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আমেরিকান প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।

এই পরিবর্তনগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে এগোয়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে, দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও থেকেই যাচ্ছে।

 

 

পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ

ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দৌড়: ড্রোনে এগোলেও উৎপাদনে পিছিয়ে মহাদেশ

১১:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ইউরোপের যুদ্ধ প্রযুক্তি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুরুত্ব বাড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু প্রযুক্তি উন্নয়নে অগ্রগতি থাকলেও বড় আকারে উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে ইউরোপের প্রতিরক্ষা খাত—এমনই বাস্তবতা উঠে আসছে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও ড্রোনের গুরুত্ব

বিশ্বজুড়ে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা এখন একমত—ড্রোন ও মানববিহীন প্রযুক্তিই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোনের ব্যবহার কিংবা ইউক্রেন যুদ্ধের ট্রেঞ্চে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ড্রোনের প্রভাব এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানি ইতিমধ্যে আকাশপথের ড্রোনের পাশাপাশি স্থল ও জলপথে চলতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করছে। এসব প্রযুক্তির শক্তি মূলত সফটওয়্যারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য দিয়ে নিয়মিত আপডেট করা হয়।

খণ্ডিত বাজার বড় বাধা

Drones, Dollars, and Disruption

তবে ইউরোপের সবচেয়ে বড় সমস্যা বাজারের খণ্ডিত কাঠামো। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে একটি বড় ক্রেতা—পেন্টাগন—থেকে বিশাল চুক্তি পাওয়া যায়, সেখানে ইউরোপে প্রায় ৩০টি দেশের আলাদা আলাদা চাহিদা মেটাতে হয়। ফলে প্রতিটি দেশে আলাদা প্রকৌশল ও উন্নয়ন দল গঠন করতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও জটিল। এক দেশের ভিত্তিতে কাজ করে অন্য দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা এখানে সহজ নয়।

দ্রুত পুরোনো হয়ে যাওয়ার ভয়

ড্রোনের মতো প্রযুক্তির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পুরোনো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীরা অনেক সময় এসব অস্ত্র মজুত করতে চান না, কারণ প্রযুক্তি দ্রুত বদলে যায়। এর সমাধান হিসেবে নতুন ধরনের চুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে বড় মজুত না করেও প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রচলিত অস্ত্র বনাম নতুন প্রযুক্তি

Drones | Pros, Cons, Debate, Arguments, Controversy, Warfare, Military,  Bombs, Missiles, & War on Terror | Britannica

ইউরোপে এখনও বিতর্ক চলছে—ড্রোন ও সফটওয়্যারভিত্তিক অস্ত্রের তুলনায় ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও আর্টিলারির মতো প্রচলিত অস্ত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ ড্রোনের গুরুত্ব দেখালেও তা সব যুদ্ধের চিত্র বদলে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি কেবল ঘাটতি পূরণ করেছে, কিন্তু সিদ্ধান্তমূলক বিজয় এনে দিতে পারেনি।

ছোট প্রতিষ্ঠান, বড় সম্ভাবনা

এই সব কারণেই ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখনও আমেরিকার তুলনায় অনেক ছোট। তবুও আশার দিক রয়েছে। জার্মানি ইতিমধ্যে নিজ দেশের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ড্রোন কিনতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় অর্থায়ন পরিকল্পনাও স্থানীয় সরবরাহকারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আমেরিকান প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।

এই পরিবর্তনগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে এগোয়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে, দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও থেকেই যাচ্ছে।