১০:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের

ব্রিটেন-আমেরিকার ‘বিশেষ সম্পর্ক’ টানাপোড়েনে, নতুন পথে লন্ডনের ভাবনা

ব্রিটেন ও আমেরিকার বহু পুরনো ‘বিশেষ সম্পর্ক’ এখন এক অস্বস্তিকর মোড়ে দাঁড়িয়ে। রাজা তৃতীয় চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে প্রশ্ন—লন্ডন কি আগের মতো ওয়াশিংটনের কাছেই থাকবে, নাকি ইউরোপের দিকে আরও ঝুঁকবে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কৌশলগত মতপার্থক্য এই সম্পর্ককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন কেন

দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী জোট হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আমেরিকার অসন্তোষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে ব্রিটেনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এই টানাপোড়েনকে অনেক বিশ্লেষক ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের পর সবচেয়ে বড় দূরত্ব হিসেবে দেখছেন।

What should be the three predominant strategic objectives for Britain in an  increasingly volatile era?

ইউরোপ না আমেরিকা—দ্বিধায় লন্ডন

ব্রিটেনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তাদের কৌশলগত অবস্থান কী হবে। একদিকে ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র, অন্যদিকে ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক। ব্রেক্সিটের পর এই ভারসাম্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ব্রিটেনকে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে দেখা হলেও এখন সেই ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে লন্ডনকে নতুন করে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

জনমতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দুই দেশের জনগণের মধ্যেও আগের মতো উষ্ণতা নেই। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেন সম্পর্কে আমেরিকানদের ইতিবাচক ধারণা কমেছে। একইভাবে আমেরিকা সম্পর্কেও ব্রিটিশদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এই পরিবর্তন শুধু কূটনীতির ক্ষেত্রেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সামরিক বাস্তবতায় উদ্বেগ

Britain raises its readiness level to confront threats

ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অতীতে বড় আকারে সেনা মোতায়েন করতে পারলেও বর্তমানে সেই সক্ষমতা কমে গেছে বলে স্বীকার করছেন অনেক কর্মকর্তা।

বিমান প্রতিরক্ষা, আর্টিলারি ও আধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি সামরিক খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে। ফলে আমেরিকার সহায়তা ছাড়া ব্রিটেনের সামরিক শক্তি সীমিত হয়ে পড়ছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

গোয়েন্দা সহযোগিতায় এখনও দৃঢ়তা

তবে সবক্ষেত্রে সম্পর্ক দুর্বল হয়নি। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় এখনও দুই দেশের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবুও ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Strong U.S.–Europe Ties Boost Prosperity and Security | U.S. Chamber of  Commerce

ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা

বর্তমান পরিস্থিতি ব্রিটেনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক নীতিনির্ধারক।

বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় ব্রিটেনকে হয়তো নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে—যেখানে এককভাবে কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গড়ে তোলা হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

ব্রিটেন-আমেরিকার ‘বিশেষ সম্পর্ক’ টানাপোড়েনে, নতুন পথে লন্ডনের ভাবনা

১২:০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ব্রিটেন ও আমেরিকার বহু পুরনো ‘বিশেষ সম্পর্ক’ এখন এক অস্বস্তিকর মোড়ে দাঁড়িয়ে। রাজা তৃতীয় চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে প্রশ্ন—লন্ডন কি আগের মতো ওয়াশিংটনের কাছেই থাকবে, নাকি ইউরোপের দিকে আরও ঝুঁকবে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কৌশলগত মতপার্থক্য এই সম্পর্ককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন কেন

দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী জোট হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আমেরিকার অসন্তোষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে ব্রিটেনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এই টানাপোড়েনকে অনেক বিশ্লেষক ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের পর সবচেয়ে বড় দূরত্ব হিসেবে দেখছেন।

What should be the three predominant strategic objectives for Britain in an  increasingly volatile era?

ইউরোপ না আমেরিকা—দ্বিধায় লন্ডন

ব্রিটেনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তাদের কৌশলগত অবস্থান কী হবে। একদিকে ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র, অন্যদিকে ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক। ব্রেক্সিটের পর এই ভারসাম্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ব্রিটেনকে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে দেখা হলেও এখন সেই ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে লন্ডনকে নতুন করে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

জনমতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দুই দেশের জনগণের মধ্যেও আগের মতো উষ্ণতা নেই। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেন সম্পর্কে আমেরিকানদের ইতিবাচক ধারণা কমেছে। একইভাবে আমেরিকা সম্পর্কেও ব্রিটিশদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এই পরিবর্তন শুধু কূটনীতির ক্ষেত্রেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সামরিক বাস্তবতায় উদ্বেগ

Britain raises its readiness level to confront threats

ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অতীতে বড় আকারে সেনা মোতায়েন করতে পারলেও বর্তমানে সেই সক্ষমতা কমে গেছে বলে স্বীকার করছেন অনেক কর্মকর্তা।

বিমান প্রতিরক্ষা, আর্টিলারি ও আধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি সামরিক খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে। ফলে আমেরিকার সহায়তা ছাড়া ব্রিটেনের সামরিক শক্তি সীমিত হয়ে পড়ছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

গোয়েন্দা সহযোগিতায় এখনও দৃঢ়তা

তবে সবক্ষেত্রে সম্পর্ক দুর্বল হয়নি। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় এখনও দুই দেশের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবুও ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Strong U.S.–Europe Ties Boost Prosperity and Security | U.S. Chamber of  Commerce

ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা

বর্তমান পরিস্থিতি ব্রিটেনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক নীতিনির্ধারক।

বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় ব্রিটেনকে হয়তো নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে—যেখানে এককভাবে কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গড়ে তোলা হবে।