১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
শিক্ষকদের আত্মত্যাগে নয়, ন্যায্য মর্যাদায় গড়ে ওঠে শিক্ষাব্যবস্থা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা: এএফপিকে জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বিপদ: বাণিজ্য নয়, ভারসাম্যহীনতার গভীর সংকট ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৫০; হাসপাতালে ভর্তি ১৪,৬৯০ আসামে বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৫, ক্ষতিগ্রস্ত ১১ লাখের বেশি মানুষ একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন জরুরি প্রয়োজনে তুলতে পারবেন ১০ লাখ টাকা নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো

রাশিয়ার গ্রামে টিকে থাকার লড়াই: বাজেট কাটছাঁটের মাঝেও নিকোলস্কের অদম্য প্রতিরোধ

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন বনঘেরা এলাকায় ছোট্ট একটি গ্রাম নিকোলস্ক। এখানে পুরোনো কাঠের ঘরের পাশে নতুন ভবন, একটি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, ক্লিনিক আর লোকসংস্কৃতির জাদুঘর—সব মিলিয়ে গ্রামটি অন্য অনেক গ্রাম থেকে আলাদা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বাজেট কাটছাঁট আর যুদ্ধকেন্দ্রিক ব্যয়ের চাপ এই গ্রামটির অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

গ্রামের শক্ত ভিত

নিকোলস্কের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানদাতা একটি খামার। এর মালিক দিমিত্রি ব্রোভিন নিজেকে “বংশগত কৃষক” হিসেবে পরিচয় দেন। ২০০৮ সালে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে এসে তিনি প্রায় মৃতপ্রায় একটি সমবায় খামারকে নতুনভাবে দাঁড় করান। এখন তার খামারে শত শত গরু, বিস্তীর্ণ জমি এবং একটি দুগ্ধ কারখানা রয়েছে। এই উদ্যোগই গ্রামের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।

গ্রামের জনসংখ্যাও কমেনি, বরং বেড়েছে। যেখানে রাশিয়ার অনেক গ্রাম জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে, সেখানে নিকোলস্কে মানুষ থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নতুন বাড়ি তৈরির জন্য জমিও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

Reality Of Factory Farmed Cows – From Pasture To Prison

সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ

তবে এই অগ্রগতির মাঝেই এসেছে বড় ধাক্কা। সরকার স্কুলের উচ্চ শ্রেণি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে বছরে কিছু অর্থ সাশ্রয় হবে। কিন্তু গ্রামের মানুষ এটাকে ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।

কারণ, স্কুল বন্ধ হলে পরিবারগুলো অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে। এতে ধীরে ধীরে গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধ আর বাজেট সংকট

রাশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমিয়ে যুদ্ধসংক্রান্ত খাতে বেশি অর্থ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রামে স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবাপ্রতিষ্ঠান সংকুচিত হচ্ছে। গত দুই দশকে গ্রামীণ স্কুলের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।

নিকোলস্কের মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—যুদ্ধের জন্য অর্থ থাকলেও কেন তাদের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য নেই?

Mood in Russia turns bleak as war in Ukraine drags on and economy suffers -  The Washington Post

গ্রামবাসীর প্রতিরোধ

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা একজোট হয়েছেন। সভা-সমাবেশ করে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা স্কুল বন্ধ করতে দেবেন না। চিঠি, ইমেইল এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা কর্তৃপক্ষকে চাপ দিচ্ছেন।

এক পর্যায়ে প্রশাসন আপাতত এই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তবে গ্রামবাসীরা জানেন, এটি সাময়িক। যেকোনো সময় আবার একই প্রস্তাব আসতে পারে।

ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই

নিকোলস্কের মানুষ এখন গণভোটের দাবি তুলেছেন, যাতে স্থানীয় জনগণের মতামত বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ এটি অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, বিষয়টি এখন আইনি লড়াইয়ের পথে।

গ্রামবাসীরা বলছেন, তারা নিজেদের উন্নয়ন নিজেরাই করছেন, কারও কাছে হাত পাতছেন না। তাদের লক্ষ্য একটাই—নিজেদের গ্রাম, নিজেদের জীবনযাপন রক্ষা করা।

এই লড়াই শুধু একটি গ্রামের নয়, বরং পুরো রাশিয়ার গ্রামীণ ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের আত্মত্যাগে নয়, ন্যায্য মর্যাদায় গড়ে ওঠে শিক্ষাব্যবস্থা

রাশিয়ার গ্রামে টিকে থাকার লড়াই: বাজেট কাটছাঁটের মাঝেও নিকোলস্কের অদম্য প্রতিরোধ

১২:১২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন বনঘেরা এলাকায় ছোট্ট একটি গ্রাম নিকোলস্ক। এখানে পুরোনো কাঠের ঘরের পাশে নতুন ভবন, একটি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, ক্লিনিক আর লোকসংস্কৃতির জাদুঘর—সব মিলিয়ে গ্রামটি অন্য অনেক গ্রাম থেকে আলাদা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বাজেট কাটছাঁট আর যুদ্ধকেন্দ্রিক ব্যয়ের চাপ এই গ্রামটির অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

গ্রামের শক্ত ভিত

নিকোলস্কের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানদাতা একটি খামার। এর মালিক দিমিত্রি ব্রোভিন নিজেকে “বংশগত কৃষক” হিসেবে পরিচয় দেন। ২০০৮ সালে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে এসে তিনি প্রায় মৃতপ্রায় একটি সমবায় খামারকে নতুনভাবে দাঁড় করান। এখন তার খামারে শত শত গরু, বিস্তীর্ণ জমি এবং একটি দুগ্ধ কারখানা রয়েছে। এই উদ্যোগই গ্রামের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।

গ্রামের জনসংখ্যাও কমেনি, বরং বেড়েছে। যেখানে রাশিয়ার অনেক গ্রাম জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে, সেখানে নিকোলস্কে মানুষ থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নতুন বাড়ি তৈরির জন্য জমিও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

Reality Of Factory Farmed Cows – From Pasture To Prison

সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ

তবে এই অগ্রগতির মাঝেই এসেছে বড় ধাক্কা। সরকার স্কুলের উচ্চ শ্রেণি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে বছরে কিছু অর্থ সাশ্রয় হবে। কিন্তু গ্রামের মানুষ এটাকে ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।

কারণ, স্কুল বন্ধ হলে পরিবারগুলো অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে। এতে ধীরে ধীরে গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধ আর বাজেট সংকট

রাশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমিয়ে যুদ্ধসংক্রান্ত খাতে বেশি অর্থ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রামে স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবাপ্রতিষ্ঠান সংকুচিত হচ্ছে। গত দুই দশকে গ্রামীণ স্কুলের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।

নিকোলস্কের মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—যুদ্ধের জন্য অর্থ থাকলেও কেন তাদের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য নেই?

Mood in Russia turns bleak as war in Ukraine drags on and economy suffers -  The Washington Post

গ্রামবাসীর প্রতিরোধ

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা একজোট হয়েছেন। সভা-সমাবেশ করে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা স্কুল বন্ধ করতে দেবেন না। চিঠি, ইমেইল এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা কর্তৃপক্ষকে চাপ দিচ্ছেন।

এক পর্যায়ে প্রশাসন আপাতত এই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তবে গ্রামবাসীরা জানেন, এটি সাময়িক। যেকোনো সময় আবার একই প্রস্তাব আসতে পারে।

ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই

নিকোলস্কের মানুষ এখন গণভোটের দাবি তুলেছেন, যাতে স্থানীয় জনগণের মতামত বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ এটি অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, বিষয়টি এখন আইনি লড়াইয়ের পথে।

গ্রামবাসীরা বলছেন, তারা নিজেদের উন্নয়ন নিজেরাই করছেন, কারও কাছে হাত পাতছেন না। তাদের লক্ষ্য একটাই—নিজেদের গ্রাম, নিজেদের জীবনযাপন রক্ষা করা।

এই লড়াই শুধু একটি গ্রামের নয়, বরং পুরো রাশিয়ার গ্রামীণ ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।