ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই নতুন কৌশল নিয়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। এতে বদলাচ্ছে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য।
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেন এখন নতুন কূটনৈতিক জোট গঠনে মনোযোগী। পশ্চিমা মিত্রদের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখলেও, কিয়েভ এখন মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চাচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্ক ও সিরিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নতুন এক ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কিয়েভে সিরিয়ার দূতাবাস একসময় ছিল প্রায় পরিত্যক্ত। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি এলাকায় অবস্থিত এই দূতাবাস বহু বছর বন্ধ ছিল। তবে সেই পরিস্থিতি বদলাতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হঠাৎ সিরিয়া সফর করেন এবং দুই দেশের মধ্যে আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ দেখা যায়।
সম্পর্ক পুনর্গঠন ও নতুন সম্ভাবনা

ইউক্রেন ও সিরিয়ার সম্পর্ক একসময় তলানিতে নেমে গিয়েছিল। ২০২২ সালে সিরিয়া রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইউক্রেন সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিন্তু গত বছর থেকে আবার যোগাযোগ শুরু হয় এবং এখন তা নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
দুই দেশের নেতৃত্বের পটভূমি ভিন্ন হলেও তাদের মধ্যে স্বার্থের মিল তৈরি হয়েছে। সিরিয়ার বিশাল ফসফেট ভাণ্ডার ইউক্রেনের কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় খাদ্যের সংকট রয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের গম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই বিনিময়ভিত্তিক বাণিজ্য উভয় দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে।
নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্ভাবনা
বাণিজ্যের বাইরে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতাও গড়ে উঠতে পারে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও সহায়তা দরকার। ইউক্রেন ইতোমধ্যেই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, যা এই সহযোগিতার ভিত্তি হতে পারে।
রাশিয়ার প্রভাব কমার সুযোগ

সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রভাব কমে আসছে। বিশেষ করে সাবেক শাসকের আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে মস্কোর অবস্থান দুর্বল হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে ইউক্রেন একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে এবং রাশিয়ার জায়গা দখলের চেষ্টা করছে।
তুরস্কের ভূমিকা ও কৌশল
এই পুরো প্রক্রিয়ায় তুরস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তুরস্ক একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ছে।
তুরস্কের একটি শীর্ষ ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কিয়েভে কারখানা নির্মাণ করছে। এছাড়া আরও কিছু যৌথ উদ্যোগের কথাও শোনা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন নিজেদের স্বার্থে নতুন জোট গঠনে এগিয়ে আসছে।

নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এখনও ইউক্রেনের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার। তবে ভবিষ্যতে এই নির্ভরতা কমে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ইউক্রেন মনে করছে, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে তুরস্কের মতো শক্তিশালী দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
জেলেনস্কির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এই নতুন বাস্তবতাকেই সামনে আনছে। তুরস্কের সহায়তায় সিরিয়া সফর এবং দ্রুত সম্পর্ক পুনর্গঠন দেখাচ্ছে, ইউক্রেন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন কৌশল নিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















