০২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা আবার দেখলে নতুন কী ধরা পড়ে সেজ সবুজে বসন্তের নরম ছোঁয়া, ফ্যাশনে নতুন ভারসাম্যের গল্প                 ব্রিজেট জোন্সের আগের রেনি জেলওয়েগার: পুরনো ছবিতে ফিরে দেখা তার শুরুর দিনগুলো জোই ক্রাভিটজের আঙুলে রহস্যময় আংটি, হ্যারি স্টাইলসকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকায় টানাপোড়েন: একসঙ্গে আয়োজন, কিন্তু সম্পর্কের ভাঙন আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদে ভাটা: গণভোটের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা পেরুর নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা: ভোটের উৎসব থেকে অনিশ্চয়তার গভীর সংকট সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য

জার্মানির সামরিক পুনরুত্থান: ইউরোপের নেতৃত্বে এগোতে চায় নতুন কৌশল

জার্মানি এক নতুন সামরিক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ভেঙে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কারস্টেন ব্রেয়ার এক সাক্ষাৎকারে এই পরিবর্তনের দিকগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

নতুন বাস্তবতায় জার্মানির অবস্থান

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিবেশ আমূল বদলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জার্মানি বুঝতে পেরেছে, শুধু কূটনৈতিক বক্তব্যে নয়, বাস্তব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও কার্যকর করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।

নতুন সামরিক কৌশলে আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা গুরুত্ব পেয়েছে। এতে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ, ডেটা ব্যবহারের আধিপত্য, এবং ড্রোনসহ স্বল্প খরচের অস্ত্র ব্যবস্থার প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ২০৩৯ সালের মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রগামী একটি বাহিনী গড়ে তোলা।

বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা

Germany, the Chief of Defense Staff: Let's prepare for a war in the face of  Russia's rearmament

এই রূপান্তরের জন্য জার্মানি বিশাল অর্থ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। ন্যাটোর ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এতে জার্মানি ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হয়ে উঠতে চায়।

তবে এই বিনিয়োগ নিয়ে কিছু সমালোচনাও রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, পুরনো অস্ত্রব্যবস্থায় বেশি অর্থ ব্যয় না করে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেনাপ্রধান অবশ্য বলছেন, পুরনো ঘাটতি পূরণ করাও সমান জরুরি, কারণ সেটিই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।

জনসমর্থন ও সেনা সংকট

জার্মান সমাজেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। আগে যেখানে সেনাবাহিনী নিয়ে জনআগ্রহ কম ছিল, এখন সেখানে সম্মান ও সমর্থন বাড়ছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনবল বৃদ্ধি।

বর্তমানে সেনাসংখ্যা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বড় রিজার্ভ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আবার চালু করার চিন্তাও সামনে এসেছে, যদিও তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে অনীহা রয়েছে।

Exploring the Benefits of NATO-EU Cooperation: The Case of Estonia, Kosovo  and Colombia - The Defence Horizon Journal

ইউরোপ ও ন্যাটোতে ভূমিকা

জার্মানি এখন শুধু নিজের নিরাপত্তা নয়, ইউরোপের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নেতৃত্ব নিতে চায়। এই পরিবর্তন ইউরোপের অন্যান্য দেশকে যেমন আশ্বস্ত করছে, তেমনি কিছু উদ্বেগও তৈরি করছে। বিশেষ করে ফ্রান্সসহ কিছু দেশ মনে করছে, জার্মানি এখনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারেনি।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ন্যাটোতে আমেরিকার ভূমিকা কমে যায়, তাহলে ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে হবে—এমন ধারণা থেকেই জার্মানির এই প্রস্তুতি।

সামনে বড় পরীক্ষা

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, জার্মানি সত্যিই যুদ্ধ-প্রস্তুত হতে পারবে কি না। নতুন কৌশলে দেশের প্রতিরক্ষা ও ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

তবুও একথা স্পষ্ট, জার্মানি আর আগের অবস্থানে থাকতে চায় না। নতুন কৌশল, বাড়তি বাজেট এবং জনমতের পরিবর্তন—সব মিলিয়ে দেশটি একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জার্মানির এই পরিবর্তন শুধু একটি দেশের সামরিক উন্নয়ন নয়, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা রাজনীতিতে একটি বড় মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Germany raised its citizens to hate war. Now it wants us to enlist in the  army – but we say no | Mithu Sanyal | The Guardian

পুরুষদের হাতের লেখা কেন তুলনামূলক খারাপ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ কারণ

জার্মানির সামরিক পুনরুত্থান: ইউরোপের নেতৃত্বে এগোতে চায় নতুন কৌশল

১২:২৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

জার্মানি এক নতুন সামরিক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ভেঙে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কারস্টেন ব্রেয়ার এক সাক্ষাৎকারে এই পরিবর্তনের দিকগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

নতুন বাস্তবতায় জার্মানির অবস্থান

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিবেশ আমূল বদলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জার্মানি বুঝতে পেরেছে, শুধু কূটনৈতিক বক্তব্যে নয়, বাস্তব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও কার্যকর করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।

নতুন সামরিক কৌশলে আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা গুরুত্ব পেয়েছে। এতে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ, ডেটা ব্যবহারের আধিপত্য, এবং ড্রোনসহ স্বল্প খরচের অস্ত্র ব্যবস্থার প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ২০৩৯ সালের মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রগামী একটি বাহিনী গড়ে তোলা।

বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা

Germany, the Chief of Defense Staff: Let's prepare for a war in the face of  Russia's rearmament

এই রূপান্তরের জন্য জার্মানি বিশাল অর্থ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। ন্যাটোর ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এতে জার্মানি ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হয়ে উঠতে চায়।

তবে এই বিনিয়োগ নিয়ে কিছু সমালোচনাও রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, পুরনো অস্ত্রব্যবস্থায় বেশি অর্থ ব্যয় না করে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেনাপ্রধান অবশ্য বলছেন, পুরনো ঘাটতি পূরণ করাও সমান জরুরি, কারণ সেটিই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।

জনসমর্থন ও সেনা সংকট

জার্মান সমাজেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। আগে যেখানে সেনাবাহিনী নিয়ে জনআগ্রহ কম ছিল, এখন সেখানে সম্মান ও সমর্থন বাড়ছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনবল বৃদ্ধি।

বর্তমানে সেনাসংখ্যা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বড় রিজার্ভ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আবার চালু করার চিন্তাও সামনে এসেছে, যদিও তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে অনীহা রয়েছে।

Exploring the Benefits of NATO-EU Cooperation: The Case of Estonia, Kosovo  and Colombia - The Defence Horizon Journal

ইউরোপ ও ন্যাটোতে ভূমিকা

জার্মানি এখন শুধু নিজের নিরাপত্তা নয়, ইউরোপের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নেতৃত্ব নিতে চায়। এই পরিবর্তন ইউরোপের অন্যান্য দেশকে যেমন আশ্বস্ত করছে, তেমনি কিছু উদ্বেগও তৈরি করছে। বিশেষ করে ফ্রান্সসহ কিছু দেশ মনে করছে, জার্মানি এখনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারেনি।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ন্যাটোতে আমেরিকার ভূমিকা কমে যায়, তাহলে ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে হবে—এমন ধারণা থেকেই জার্মানির এই প্রস্তুতি।

সামনে বড় পরীক্ষা

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, জার্মানি সত্যিই যুদ্ধ-প্রস্তুত হতে পারবে কি না। নতুন কৌশলে দেশের প্রতিরক্ষা ও ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

তবুও একথা স্পষ্ট, জার্মানি আর আগের অবস্থানে থাকতে চায় না। নতুন কৌশল, বাড়তি বাজেট এবং জনমতের পরিবর্তন—সব মিলিয়ে দেশটি একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জার্মানির এই পরিবর্তন শুধু একটি দেশের সামরিক উন্নয়ন নয়, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা রাজনীতিতে একটি বড় মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Germany raised its citizens to hate war. Now it wants us to enlist in the  army – but we say no | Mithu Sanyal | The Guardian