বাংলাদেশ দলের ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত দীর্ঘ সময় রানখরার পর অবশেষে স্বস্তির ছাপ দেখালেন সাম্প্রতিক একদিনের সিরিজে। টানা ১৩ ইনিংসে অর্ধশতক না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে তিনি মিরপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক এবং চট্টগ্রামে ম্যাচ নির্ধারণী ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
রানখরা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া
দীর্ঘ সময় বড় রান না পাওয়ার চাপ একজন ব্যাটারের জন্য সবসময়ই কঠিন। শান্তও সেই সময়টাকে সহজভাবে নিতে পারেননি। তবে তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে নিজের ব্যাটিং নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে টেকনিক এবং মানসিক প্রস্তুতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত ফল দিয়েছে।

শান্তর মতে, খারাপ সময়েও তিনি ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছেন। যদিও রান না এলে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়, তবুও নিজের প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখাটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
কোচিং ও অভিজ্ঞতার প্রভাব
নিজের ব্যাটিং উন্নত করতে কোচের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও পরামর্শ নিয়েছেন শান্ত। একটি নির্দিষ্ট শট আয়ত্ত করতে তিনি একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সহায়তা নেন এবং কয়েকদিন একসঙ্গে অনুশীলন করেন। এই অভিজ্ঞতা তার ব্যাটিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি বলেন, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেখা বিষয়গুলো মাঠে প্রয়োগ করতে পারলে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়।
অধিনায়কত্ব নয়, রানই আসল
অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর তার ব্যাটিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না—এই প্রশ্নে শান্ত পরিষ্কারভাবে জানান, তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রান করা। তিনি মনে করেন, দলকে অবদান রাখতে পারাটাই আসল, পদ বা দায়িত্ব নয়।
কঠিন কন্ডিশনেও ইতিবাচক মানসিকতা
চট্টগ্রামের উইকেট এবং তীব্র গরমে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। ধীর আউটফিল্ড ও কঠিন পিচে রান তুলতে ধৈর্য এবং পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। শান্ত জানান, তারা শুরুতে সময় নিয়ে ব্যাটিং করেছেন এবং পরে সুযোগ বুঝে রান তোলার চেষ্টা করেছেন।
তার কৌশল ছিল সহজ—ভালো বলগুলো সম্মান করা এবং খারাপ বলগুলো কাজে লাগানো। প্রতিটি বল থেকে রান বের করার মানসিকতা তাকে সফল করেছে।
নিজের শক্তির জায়গায় আস্থা
ইনিংসের সময় তিনি কিছু নির্দিষ্ট শটের ওপর নির্ভর করেছেন, যেগুলো তার শক্তির জায়গা। উইকেট অনুযায়ী বেশি ঝুঁকি না নিয়ে সীমিত কিছু শট খেলেই বড় ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেছেন। এই পরিকল্পনাই তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যাটিং পজিশন

শেষ দুই ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করলেও শান্ত স্পষ্টভাবে জানান, তিনি তিন নম্বরে ব্যাট করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় ব্যাট করতে তিনি প্রস্তুত।
তার মতে, ব্যাটিং পজিশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের জন্য অবদান রাখা।
ছোটখাটো চোট, গরমের কষ্ট এবং ফিটনেস সমস্যার মধ্যেও শান্ত নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করেছেন, কঠিন সময় পেরিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। সামনে বড় আসরকে লক্ষ্য করে এই ফর্ম তার এবং দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















