কুমিল্লার বহুল আলোচিত তনু হত্যা মামলাকে ঘিরে আবারও আলোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেশত্যাগের গুঞ্জন ও নানা অভিযোগের মুখে এবার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ের প্রচার-প্রচারণা তাকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে চলা আক্রমণকে তিনি অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
ঘটনার পটভূমি ও বিতর্ক
ডা. কামদা প্রসাদ বলেন, প্রায় এক দশক আগে ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রথম ময়নাতদন্তের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। পরে আদালতের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রধান হিসেবে তিনি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে অংশ নেন। তবে সেই সময় লাশটি দীর্ঘদিন পর কবর থেকে তোলায় পচে যাওয়ায় মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, ফরেনসিক প্রক্রিয়ায় পাওয়া তথ্য ও নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে তিনজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হলেও সেটির ব্যাখ্যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, প্রতিবেদন কোথাও এমন কিছু বলা হয়নি যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমের চাপ ও হুমকি
ডা. কামদা প্রসাদ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, হুমকি ও অপমানজনক মন্তব্য বেড়েছে। তিনি বলেন, অচেনা মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পক্ষ তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এমনকি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু গোষ্ঠী ব্যক্তিগত স্বার্থে তাকে উদ্দেশ্য করে এই প্রচারণা চালাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তার মতে, একটি তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া ছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই।
দেশত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে বক্তব্য

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দেশত্যাগের গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। ডা. কামদা প্রসাদ প্রশ্ন তোলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়া তিনি কোনো অপরাধ করেননি, তাহলে কেন তাকে দেশ ছেড়ে পালানোর অভিযোগে জড়ানো হচ্ছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও নতুন তথ্য
এদিকে মামলাটির তদন্তে নতুন করে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া তিনজন সাবেক সেনা সদস্যের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত হলেও রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন হয়নি। বর্তমানে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে আবারও প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে এবং ডিএনএ মিলানোর কাজ শুরু হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
ডা. কামদা প্রসাদ বলেন, তিনি নিজেও চান ঘটনার প্রকৃত তদন্ত হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক। আদালতকে সহায়তা করা তার দায়িত্ব এবং অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তিনি তা করে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তার যে ক্ষতি হয়েছে তার দায় কে নেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















