০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকারদের আত্মহত্যা বাড়ছে, উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা

গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে—সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এমনই এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও রিপোর্টিং পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে এসব ঘটনার সংখ্যা সামনে আসছে বেশি, তবে এর পেছনে আরও গভীর সামাজিক ও মানসিক কারণ কাজ করছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন সন্দেহ করা হচ্ছে প্রায় ১৫০ জন মানুষ। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৯৮। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আসুন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করি | The Daily Star

তরুণদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি

প্রতিবেদনটি দেখাচ্ছে, গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে তরুণদের একটি বড় অংশ রয়েছে। মোট ভুক্তভোগীর প্রায় ৮ শতাংশের বয়স ছিল ১৬ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। এমনকি একটি ঘটনায় দেখা গেছে, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয়ের বয়সই ছিল ১৮ বছরের নিচে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।

বিশেষভাবে ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে নির্যাতনের হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই বয়সসীমার মধ্যে ভুক্তভোগীর হার প্রায় ১৮.২ শতাংশ, যা ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি ইঙ্গিত করে, কিশোর ও তরুণ বয়সেই সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে।

দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বাড়ছে

অনলাইন প্রভাব ও বিষাক্ত মানসিকতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনের কিছু ক্ষতিকর কনটেন্ট তরুণদের মানসিকতা ও আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সহিংসতা বা বিকৃত সম্পর্ককে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরা বিষয়বস্তু অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

এ ধরনের কনটেন্টের প্রভাবে সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতা, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং নারীর প্রতি অসম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রচারিত ধারণাও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারী নির্যাতন: পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র ও প্রতিরোধের আহ্বান

সচেতনতা বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, এখন মানুষ আগের তুলনায় বেশি সচেতন এবং নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট করতে আগ্রহী। ফলে প্রকৃত চিত্রটি ধীরে ধীরে সামনে আসছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সমস্যা কমছে—বরং বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গার্হস্থ্য নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সহায়তা এবং তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সমস্যার গভীরতা বোঝা ও সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকারদের আত্মহত্যা বাড়ছে, উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা

০১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে—সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এমনই এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও রিপোর্টিং পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে এসব ঘটনার সংখ্যা সামনে আসছে বেশি, তবে এর পেছনে আরও গভীর সামাজিক ও মানসিক কারণ কাজ করছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন সন্দেহ করা হচ্ছে প্রায় ১৫০ জন মানুষ। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৯৮। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আসুন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করি | The Daily Star

তরুণদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি

প্রতিবেদনটি দেখাচ্ছে, গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে তরুণদের একটি বড় অংশ রয়েছে। মোট ভুক্তভোগীর প্রায় ৮ শতাংশের বয়স ছিল ১৬ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। এমনকি একটি ঘটনায় দেখা গেছে, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয়ের বয়সই ছিল ১৮ বছরের নিচে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।

বিশেষভাবে ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে নির্যাতনের হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই বয়সসীমার মধ্যে ভুক্তভোগীর হার প্রায় ১৮.২ শতাংশ, যা ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি ইঙ্গিত করে, কিশোর ও তরুণ বয়সেই সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে।

দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বাড়ছে

অনলাইন প্রভাব ও বিষাক্ত মানসিকতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনের কিছু ক্ষতিকর কনটেন্ট তরুণদের মানসিকতা ও আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সহিংসতা বা বিকৃত সম্পর্ককে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরা বিষয়বস্তু অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

এ ধরনের কনটেন্টের প্রভাবে সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতা, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং নারীর প্রতি অসম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রচারিত ধারণাও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারী নির্যাতন: পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র ও প্রতিরোধের আহ্বান

সচেতনতা বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, এখন মানুষ আগের তুলনায় বেশি সচেতন এবং নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট করতে আগ্রহী। ফলে প্রকৃত চিত্রটি ধীরে ধীরে সামনে আসছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সমস্যা কমছে—বরং বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গার্হস্থ্য নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সহায়তা এবং তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সমস্যার গভীরতা বোঝা ও সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।