দুদিনের বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও রাজধানী ঢাকার বাতাসে আবারও বেড়েছে দূষণ। মঙ্গলবার সকালে শহরটির বায়ুমান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়।
ঢাকার বায়ুদূষণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে নগরবাসীর মধ্যে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হয়েছিল, তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। সকাল হতেই আবারও দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বায়ুমানের অবস্থান

সকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১১৮, যা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। এই অবস্থায় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বাইরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশ্বের অন্যান্য শহরের পরিস্থিতি
একই সময়ে তালিকার শীর্ষে ছিল আফ্রিকার কিনশাসা শহর, যেখানে দূষণের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। এর পরেই ছিল দিল্লি, কলকাতা, কাঠমান্ডু এবং রিয়াদ। এই শহরগুলোর বায়ুমানও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
বায়ুমানের মানদণ্ড কী বলছে
বায়ুমান সূচকের নির্দিষ্ট কিছু ধাপ রয়েছে। শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোর ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, আর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। এর উপরে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা
বায়ুদূষণ বাড়লে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, হৃদরোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া, মাস্ক ব্যবহার এবং ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি প্রয়োজন।
স্বস্তি কেন স্থায়ী হয় না
বৃষ্টি সাধারণত বাতাসের ধূলিকণা ও দূষণ কিছুটা কমিয়ে দেয়। তবে নগরীর যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং নির্মাণকাজের ধুলা দ্রুতই আবার বাতাসকে দূষিত করে তোলে। ফলে স্বস্তি খুব অল্প সময়ের জন্যই থাকে।
রাজধানীর বায়ুদূষণ এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাময়িক পরিবর্তন হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















