নব্বইয়ের দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এক বাস্তবধর্মী রাজনৈতিক থ্রিলারে নতুনভাবে হাজির হচ্ছেন ব্রিটিশ অভিনেতা স্টিভ কুগান। ‘লেজেন্ডস’ নামের এই নাটকে তিনি এক সাবেক আন্ডারকভার পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি অবৈধ মাদকচক্রের বিরুদ্ধে গোপন যুদ্ধ চালান।
এই নাটকের গল্প ঘিরে রয়েছে যুক্তরাজ্যে মাদকবিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সময়কার বাস্তব প্রেক্ষাপট। তখনকার সরকার মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সেই সময়ের কর্মকর্তাদের নতুন পরিচয়ে গোপনে কাজ করতে পাঠানো হতো, আর সেখান থেকেই ‘লেজেন্ডস’ নামের উৎপত্তি।

নাটকের প্রেক্ষাপট ও চরিত্র
নাটকে কুগান অভিনয় করেছেন ‘ডন’ নামের এক অভিজ্ঞ কর্মকর্তার ভূমিকায়, যিনি নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন এবং গোপন অভিযানের নির্দেশনা দেন। তার চরিত্রটি একদিকে কঠোর, অন্যদিকে বাস্তববাদী—যেখানে দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কুগান জানান, এই চরিত্রে অভিনয় তার জন্য স্বাভাবিক ছিল, কারণ তিনি নিজেই সেই সময়ের সামাজিক বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তার ভাষায়, চরিত্রটি একেবারে অপরিচিত নয়, বরং বাস্তব জীবনে দেখা অনেক মানুষের প্রতিচ্ছবি।
অভিনয়ের বৈচিত্র্য নিয়ে ভাবনা
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কুগান সবসময় ভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় করলে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ কমে যায়। তাই কখনও কমেডি, কখনও গভীর নাটক—বিভিন্ন ঘরানায় নিজেকে তুলে ধরাই তার লক্ষ্য।

এই নাটকে তার চরিত্রে অ্যাকশন কম থাকলেও তিনি সেটিকে দুর্বলতা মনে করেন না। বরং নিজের বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানানসই চরিত্র বেছে নেওয়াকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
নব্বইয়ের স্মৃতি ও শুরুর সংগ্রাম
কুগান বলেন, নব্বইয়ের দশক তার কাছে যেন একেবারে সাম্প্রতিক সময়ের মতোই। তখন তিনি ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন এবং যেকোনো কাজের সুযোগ গ্রহণ করতেন। জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তিনি বিভিন্ন চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
তার মতে, সেই সময় কাজের সুযোগ পাওয়া ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ খুব একটা ছিল না। তবে সেই সংগ্রামই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
রাজনীতি ও মাদক সমস্যা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি

নাটকে মাদকবিরোধী অভিযানের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে। কুগান মনে করেন, অনেক সময় এসব উদ্যোগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল, যা সবসময় সমস্যার মূল সমাধান দিতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, মাদক সমস্যা নিয়ে সমাজে যে কঠোর ও বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা সমস্যার সমাধানে সহায়ক নয়। বরং বিষয়টি নিয়ে আরও বাস্তবসম্মত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
সময়ের সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
কুগান তার অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। একসময় যাদের প্রতি তার বিরূপ ধারণা ছিল, সময়ের সঙ্গে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। তবে তিনি মনে করেন, অতীতের নেতাদের মূল্যায়নে অতিরঞ্জন বা অন্ধ সমর্থন ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে ‘লেজেন্ডস’ শুধু একটি থ্রিলার নয়, বরং নব্বইয়ের দশকের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গভীর প্রতিফলন। এই নাটকের মাধ্যমে কুগান আবারও প্রমাণ করছেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















