০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
চীনের বিশাল বায়োব্যাংক দৌড়, ওষুধ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দেওয়ার পরিকল্পনা শিল্প ও তারকাদের ঝলকে নিউ মিউজিয়াম গালা, সম্মাননায় লিসা ফিলিপস দুই মাসের বিরতি শেষে তেঁতুলিয়ায় ফিরছে জেলেদের স্বপ্ন, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশায় প্রস্তুতি চূড়ান্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের গেটি হাউসে ক্যাশমিয়ারের ছোঁয়ায় ঝলমলে সন্ধ্যা, ফ্যালকোনেরি ডিনারে তারকাদের সমাগম যুক্তরাষ্ট্র সফরে ক্লান্তির কথা স্বীকার রানি ক্যামিলার, তবুও থামছে না ব্যস্ততা উপকূলের শিক্ষা: ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরও কেন ঝুঁকি কমেনি সাবেক এফবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি হেনড্রিক্সের সঙ্গীদের উত্তরাধিকারীদের বড় ধাক্কা: রয়্যালটি দাবিতে আদালতে পরাজয় গোল্ডেন গোলের নায়ক থেকে বিতর্কের শিকার—আন জং-হোয়ানের গল্পে বিশ্বকাপের অন্ধকার অধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে চার্লসের বার্তা: মতভেদ থাকলেও গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য

মাস্ক বনাম ওপেনএআই: দাতব্য থেকে মুনাফা—আদালতে তীব্র লড়াই, ১৫০ বিলিয়ন ডলারের দাবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সংস্থা ওপেনএআইকে ঘিরে শুরু হয়েছে বড় আইনি লড়াই। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক আদালতে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, সংস্থাটি মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে দাতব্য আদর্শ ভেঙে মুনাফাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআই প্রতিষ্ঠার সময় লক্ষ্য ছিল মানবকল্যাণে কাজ করা একটি অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিনিয়োগনির্ভর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে, যা জনস্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি আদালতে বলেন, একটি দাতব্য সংস্থাকে যদি এভাবে বদলে ফেলা স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে পুরো দাতব্য ব্যবস্থার ভিত্তিই নড়ে যাবে।

প্রতিষ্ঠার দাবি ও অর্থায়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব

Elon Musk is an underdog in his $180 billion fight against OpenAI | Mint

মাস্ক আদালতে জানান, ওপেনএআইয়ের ধারণা, নামকরণ, মূল টিম গঠন এবং প্রাথমিক অর্থায়ন—সবকিছুতেই তার বড় ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে শুরু থেকেই লাভজনক প্রতিষ্ঠান করা যেত, কিন্তু সচেতনভাবেই সেটি করা হয়নি।

অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের আইনজীবীরা পাল্টা দাবি করেছেন, মাস্ক নিজেই সংস্থাকে লাভজনক পথে নিতে চেয়েছিলেন এবং নেতৃত্বের শীর্ষে যেতে না পেরে এখন মামলা করেছেন। তাদের মতে, মাস্কের এই পদক্ষেপ মূলত ব্যক্তিগত অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা।

মুনাফা কাঠামো নিয়ে বিতর্ক

২০১৯ সালে ওপেনএআই একটি লাভজনক শাখা গঠন করে, যা নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতা অর্জন এবং শীর্ষ গবেষকদের ধরে রাখতে এই পরিবর্তন জরুরি ছিল। প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বড় বিনিয়োগ দরকার—এটাই ছিল তাদের যুক্তি।

মাস্কের পক্ষের আইনজীবীরা অবশ্য বলছেন, এটি কখনোই মানুষের কল্যাণের জন্য ছিল না, বরং অর্থ উপার্জনের পথ খুলতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

OpenAI 'stole a charity': Musk accusations open blockbuster AI trial |  National | octodaydispatch.com

বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি

এই মামলায় মাস্ক প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যা ওপেনএআইয়ের দাতব্য কার্যক্রমে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি চান, সংস্থাটি আবার অলাভজনক কাঠামোয় ফিরে যাক এবং বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হোক।

আদালত ও সামাজিক মাধ্যম প্রসঙ্গ

শুনানির সময় বিচারক মাস্ককে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিচার চলাকালীন জনসমক্ষে বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে বলে জানানো হয়। মাস্ক এতে সম্মতি জানিয়ে তার অনলাইন কার্যক্রম সীমিত রাখার আশ্বাস দেন।

অলাভজনক অবস্থান থেকে সরে আসবে ওপেনএআই?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিমত

মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তার মতে, এই প্রযুক্তি মানবতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। তবে ওপেনএআইয়ের পক্ষ দাবি করেছে, মাস্ক নিজে এই নিরাপত্তা বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেননি।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও অনিশ্চয়তা

এই মামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো প্রযুক্তি খাতের দিকনির্দেশনাকেও প্রভাবিত করতে পারে। ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশ পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা—সবকিছুই এখন এই মামলার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

একসময়ের ছোট গবেষণা উদ্যোগ থেকে আজকের বিশাল প্রযুক্তি শক্তিতে পরিণত হওয়া এই সংস্থার ভবিষ্যৎ এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।

 

চীনের বিশাল বায়োব্যাংক দৌড়, ওষুধ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দেওয়ার পরিকল্পনা

মাস্ক বনাম ওপেনএআই: দাতব্য থেকে মুনাফা—আদালতে তীব্র লড়াই, ১৫০ বিলিয়ন ডলারের দাবি

১২:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সংস্থা ওপেনএআইকে ঘিরে শুরু হয়েছে বড় আইনি লড়াই। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক আদালতে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, সংস্থাটি মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে দাতব্য আদর্শ ভেঙে মুনাফাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআই প্রতিষ্ঠার সময় লক্ষ্য ছিল মানবকল্যাণে কাজ করা একটি অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিনিয়োগনির্ভর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে, যা জনস্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি আদালতে বলেন, একটি দাতব্য সংস্থাকে যদি এভাবে বদলে ফেলা স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে পুরো দাতব্য ব্যবস্থার ভিত্তিই নড়ে যাবে।

প্রতিষ্ঠার দাবি ও অর্থায়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব

Elon Musk is an underdog in his $180 billion fight against OpenAI | Mint

মাস্ক আদালতে জানান, ওপেনএআইয়ের ধারণা, নামকরণ, মূল টিম গঠন এবং প্রাথমিক অর্থায়ন—সবকিছুতেই তার বড় ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে শুরু থেকেই লাভজনক প্রতিষ্ঠান করা যেত, কিন্তু সচেতনভাবেই সেটি করা হয়নি।

অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের আইনজীবীরা পাল্টা দাবি করেছেন, মাস্ক নিজেই সংস্থাকে লাভজনক পথে নিতে চেয়েছিলেন এবং নেতৃত্বের শীর্ষে যেতে না পেরে এখন মামলা করেছেন। তাদের মতে, মাস্কের এই পদক্ষেপ মূলত ব্যক্তিগত অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা।

মুনাফা কাঠামো নিয়ে বিতর্ক

২০১৯ সালে ওপেনএআই একটি লাভজনক শাখা গঠন করে, যা নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতা অর্জন এবং শীর্ষ গবেষকদের ধরে রাখতে এই পরিবর্তন জরুরি ছিল। প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বড় বিনিয়োগ দরকার—এটাই ছিল তাদের যুক্তি।

মাস্কের পক্ষের আইনজীবীরা অবশ্য বলছেন, এটি কখনোই মানুষের কল্যাণের জন্য ছিল না, বরং অর্থ উপার্জনের পথ খুলতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

OpenAI 'stole a charity': Musk accusations open blockbuster AI trial |  National | octodaydispatch.com

বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি

এই মামলায় মাস্ক প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যা ওপেনএআইয়ের দাতব্য কার্যক্রমে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি চান, সংস্থাটি আবার অলাভজনক কাঠামোয় ফিরে যাক এবং বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হোক।

আদালত ও সামাজিক মাধ্যম প্রসঙ্গ

শুনানির সময় বিচারক মাস্ককে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিচার চলাকালীন জনসমক্ষে বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে বলে জানানো হয়। মাস্ক এতে সম্মতি জানিয়ে তার অনলাইন কার্যক্রম সীমিত রাখার আশ্বাস দেন।

অলাভজনক অবস্থান থেকে সরে আসবে ওপেনএআই?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিমত

মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তার মতে, এই প্রযুক্তি মানবতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। তবে ওপেনএআইয়ের পক্ষ দাবি করেছে, মাস্ক নিজে এই নিরাপত্তা বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেননি।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও অনিশ্চয়তা

এই মামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো প্রযুক্তি খাতের দিকনির্দেশনাকেও প্রভাবিত করতে পারে। ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশ পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা—সবকিছুই এখন এই মামলার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

একসময়ের ছোট গবেষণা উদ্যোগ থেকে আজকের বিশাল প্রযুক্তি শক্তিতে পরিণত হওয়া এই সংস্থার ভবিষ্যৎ এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।