০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
নতুন রাজনৈতিক অভিধানের খোঁজে: ‘বাম-ডান’ বিভাজনের বাইরে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কুমিরের খাঁচায় ছুড়ে ফেলা হলো তিন বছরের শিশু, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি শরীরের মাপের ফাঁদ থেকে আত্মমর্যাদার পথে: এক তরুণীর লড়াইয়ের গল্প ঘুম যত গভীর, তত সুস্থ শরীর ও তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক: নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেসির বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জল্পনা থামানোর আহ্বান পরিবারের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পরও থামেনি লেবানন যুদ্ধ, হরমুজে তেল চলাচল শুরু হলেও বাড়ছে অনিশ্চয়তা মার্কিন-ইরান চুক্তিতে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, উদ্বেগে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল দুমড়েমুচড়ে নিহত ২, গুরুতর আহত ১ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ স্মৃতির বোতল, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গল্প

উপকূলের শিক্ষা: ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরও কেন ঝুঁকি কমেনি

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়। সেই বিপর্যয়ের ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি—বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি ও ক্ষয়ক্ষতি

১৯৯১ সালের সেই ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং পরিবার হারিয়েছিলেন। এই দুর্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতিই করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য ও সামাজিক সংকটও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

২৯ এপ্রিল: সেই স্মৃতি মনে পড়লে উপকূলবাসীর আজও গা শিউরে ওঠে

উপকূলীয় সুরক্ষায় অগ্রগতি

গত তিন দশকে বাংলাদেশ উপকূলীয় সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও বেড়েছে।

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে উপকূল

তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

ভয়াল ২৯ এপ্রিলের স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে

সহনশীলতা গড়ে তোলার প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা চালু করা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে প্রস্তুত রাখা দরকার।

ভবিষ্যতের জন্য করণীয়

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তাই নীতি নির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন রাজনৈতিক অভিধানের খোঁজে: ‘বাম-ডান’ বিভাজনের বাইরে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ

উপকূলের শিক্ষা: ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরও কেন ঝুঁকি কমেনি

০১:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়। সেই বিপর্যয়ের ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি—বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি ও ক্ষয়ক্ষতি

১৯৯১ সালের সেই ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং পরিবার হারিয়েছিলেন। এই দুর্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতিই করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য ও সামাজিক সংকটও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

২৯ এপ্রিল: সেই স্মৃতি মনে পড়লে উপকূলবাসীর আজও গা শিউরে ওঠে

উপকূলীয় সুরক্ষায় অগ্রগতি

গত তিন দশকে বাংলাদেশ উপকূলীয় সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও বেড়েছে।

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে উপকূল

তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

ভয়াল ২৯ এপ্রিলের স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে

সহনশীলতা গড়ে তোলার প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা চালু করা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে প্রস্তুত রাখা দরকার।

ভবিষ্যতের জন্য করণীয়

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তাই নীতি নির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।