ভারতের ওডিশা রাজ্যে এক হৃদয়বিদারক ও একই সঙ্গে বিস্ময়কর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক ব্যক্তি নিজের বোনের মরদেহ কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির হন। শুধু একটি মৃত্যু সনদের অভাবে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পেরে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি—ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার শুরু ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে
স্থানীয় বাসিন্দা জিতু মুন্ডা সম্প্রতি তার মৃত বোনের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে একটি শাখায় যান। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, যথাযথ অনুমোদন বা মৃত্যু সনদ ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ওই হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারবেন না। নিয়মের এই বাধার মুখে পড়ে তিনি হতাশ হয়ে ফিরে যান।
মৃত্যু সনদ না থাকায় চরম পদক্ষেপ

ব্যাংক থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর ক্ষোভে ও অসহায়ত্বে তিনি একটি চরম সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকদিন আগে দাফন করা বোনের মরদেহ তিনি মাটি থেকে তুলে এনে আবার ব্যাংকে হাজির হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটি আংশিকভাবে প্লাস্টিকে মোড়া ছিল এবং কাঁধে বহন করে তিনি ব্যাংকে প্রবেশ করেন। এই দৃশ্য ব্যাংকের ভেতরে তীব্র আতঙ্ক ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে।
ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে জানায়, নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া অর্থ উত্তোলন সম্ভব নয়। তারা দাবি করে, এই পরিস্থিতির পেছনে সচেতনতার অভাব ও প্রক্রিয়া না মানার প্রবণতাই মূল কারণ। তবে মৃত্যুসনদ জমা দিলে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে নথির ঘাটতি বড় সমস্যা
ভারতে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় নথি না পেয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়েন। এই ঘটনাটি সেই বাস্তবতারই এক নির্মম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে প্রশাসনিক ঘাটতি একজন মানুষকে এমন চরম অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে মানবিক সংকট হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করছেন। সব মিলিয়ে ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গ্রামীণ বাস্তবতা ও সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার একটি গভীর প্রতিচ্ছবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















